সোমবার, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

আলকুরানে যিশু Al Qurane zisu

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি কোনো আবেদন ছাড়াই আমাদেরকে হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের উম্মতবানিয়েছেন। দরুদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবীয়্যিন,
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবা (রা.)- এর ওপর।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের নবী। তেমনি আল কুরআনও হলো, সকল মানুষের জন্য। হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, সকল মানুষের পথপদর্শক হলো, আল কুরআন। কুরআন নিজেই শুরুতে বলেছে এই কুরআনে কোনো সন্দেহ নেই। এমনি চ্যালেঞ্জ করেছে, যে, এর মধ্যে কোনো ভুল নেই। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁর এই বাণীকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। তিনি মুখস্থ রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা এই কুরআন সংরক্ষণের ওয়াদা করেছেন। যা অন্য কোনো আসমানী কিতাবের ব্যাপারে করেন নি। তাই নবীজী থেকে সাহাবাগণ মুখস্থ করেছেন। সাহাবাদের থেকে পরবর্তিলোকেরা মুখস্থ করেছেন। ধারাবাহিক ভাবে আমাদের পর্যন্ত শিশুদের অন্তরে এই কুরআন মুখস্থ করিয়ে হেফাজত করেছেন।

তাই আমাদেরকে এই কুরআন মানা উচিত। আমার বহুদিন থেকে চিন্তা ছিলো যে, আমি কুরআন থেকে যীশুর জীবনী খ্রিস্টান ভাইদের কাছে পৌঁছাব। কারণ তারা হযরত ঈসা আ. এর সঠিক ইতিহাস জানে না। তাই কুরআন থেকে ঈসা আ. সম্পর্কিত আয়াত গুলোর অনুবাদ ও সংখিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই পুস্তিকাটি প্রকাশে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার মধ্যে কয়েক জনের নাম না এনে পারছি না। বইটি প্রুফ দেখে সহযোগিতা করেছেন আমার বন্ধুবর মাওলানা জহিরুদ্দীন বাবর সাহেব; ও ভাই আব্দুল্লাহ। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।

ত্রিশ হাজার খ্রিস্টানের গুরু যেভাবে দ্বীনের মুবাল্লিগ

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদেরকে কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই ইসলামের মহান দৌলত দান করেছেন। লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামীন, সাইয়েদুল মুরসালীন দুজাহানের সরদার হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ও তাঁর পরিবার পরিজনের ওপর, রহমত বর্ষিত হোক ইসলামের জন্য জান উৎসর্গকারী তাঁর প্রিয় সাহাবাদের ওপর।

একদিন দেখা করতে গেলাম উম্মতের দরদী রাহবারে মিল্লাত হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী দা. বা. এর সাথে। কিছু কারগুজারী শোনালাম। হুজুর খুব দুআ দিলেন, সাথে একটি পরামর্শও দিলেন। বললেন, বিভিন্ন স্থানে তোমার সাথে যে সব মুনাজারা বা দাওয়াতি আলোচনা হয় এগুলো, ছোট ছোট বই আকারে প্রকাশ কর। তাতে অনেকের ফায়দা হবে এবং দা‘য়ীদের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করবে। হুজুরের হুকুম পালন করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সময় সুযোগ হচ্ছিল না। যাক, ভারতের সফরে কিছু সময় পেয়েছিলাম, সেই সুযোগে চেষ্টা করলাম পাঠকদের কাছে একটি কারগুজারী তুলে ধরি। ৪/১/১৬ তারিখে হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. এর বাসায় বসে এই পুস্তিকাটি লেখা শুরুর তৌফিক হয়েছে।

পুস্তিকাটিতে জামালপুরের জাহাঙ্গির খালেদ (লেবু) ডাক্তারের কাহিনীই মূলত আলোচনা করা হয়েছে। এই লেবু ডাক্তার খ্রিস্টানদের একজন বড় দা‘য়ী ছিলেন। প্রায় ৩০ হাজার মুসলমান তার মাধ্যমে খ্রিস্টান হয়েছে। ৬টি জেলায় দাওয়াতি কাজ করেছেন। তাকে দাওয়াত দেয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে জেলেও যেতে হয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। তাকে কীভাবে দাওয়াত দেয়া হলো এসব বিষয়েই মূলত এই পুস্তিকাটিতেই আলোচনা করা হয়েছে।

পুস্তকটি লিখতে অনেকই সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকেই কবুল করুন এবং এই পুস্তিকাটি দ্বারা মানুষের উপকার দান
করুন। আমিন।

মাস্টার মোহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর সাক্ষাৎকার

মাস্টার মোহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর সাক্ষাৎকার

বাবরী মসজিদ শহীদ করার জন্য সর্বপ্রথম যিনি কুদাল মেরেছিলেন,
তিনি এখন মুসলমান। সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি জনাব মাস্টার
মুহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর আত্মজীবনীমূলক সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাওলানা আহমদ আওয়াহ নদভী
ফুলাত, মুজাফ্ফর নগর, ইউ, পি, ভারত

অনুবাদ
মুফতি যুবায়ের আহমদ
পরিচালক, ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ।
মান্ডা শেষমাথা, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪

প্রচলিত খ্রিস্টবাদ কিছু প্রশ্ন কিছু কথা

সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর। আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, আল্লাহভোলা বান্দাদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করে দিতে। প্রত্যেক নবী নিজেই এই কাজ করতেন। তাদের উম্মতের উপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত হতো না। কিন্তু শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে উলামায়ে কেরামকে। কারণ, তারা হলো সেই নবীর ওয়ারিস।
সকল মুসলমান দা‘য়ী ছিল, যেদিন থেকে তারা নিজ দাওয়াতী দায়ীত্ব ছেড়ে দিয়েছে। তখন এই দা‘য়ী জাতি মাদউতে পরিণত হয়েছে। এখানে তার কয়েকটি উদাহরণ সংক্ষেপে তুলে ধরছি, যা বাস্তব সত্য, আমার চোখে দেখা ঘটনা। আমরা গিয়েছিলাম লালমনির হাট জেলার আদিদমারি থানার গুপদা ইউপি. তে সেখানে গিয়ে দেখলাম মসজিদের খতিব খ্রিস্টান। মুসলিমবেশে খ্রিস্টান ধর্মের দাওয়াত দেয়। আমরা গিয়েছিলাম জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তেঘুরিয়া ইউপি.র কয়লাকান্দিগ্রামে সেখানে মুসলমানদের গ্রামে খ্রিস্টানদের গির্জা গড়ে উঠেছে। বহু মুসলমান খ্রিস্টান হয়েছে। অনেকেরই সাথে দেখা হয়েছে, অনেকেই আবার দাওয়াতের ফলে তওবা করেছে। গিয়েছিলাম মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার সানবান্দা গ্রামে সেখানে এক পীর সাহেব খ্রিস্টান, যার নাম তুরাব আলী পীর, ঝিনাইদাহ গিয়ে দেখা হল আর এক মুরতাদের সঙ্গে যিনি একসময় পীর ছিলেন। দিনাজপুর জেলার পারবতীপুর থানায় গিয়ে দেখলাম মুন্সিবাড়ীর লোকজন খ্রিস্টান। সেখানে আবার দেখা হল ‘শিবে’ নামে এক বিদেশীর সাথে, যিনি ২০০২ সাল থেকে সস্ত্রীক ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন এক ‘শিবে’ নয় আরো বহু বিদেশী মুসলমানদের খ্রিস্টান বানাচ্ছে।
সেদিন গেলাম ঢাকার মোঃ পুরের আসাদ গেইট গির্জায় সেখানে দেখা হল ফাদার সিলভানো গারেল্লোর সাথে। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলা ভাষা শিখেছেন, বিয়াল্লিশটির অধিক বই রচনা করেছেন, মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানোর জন্য। তার কাছ থেকে একটি ছবি সংগ্রহ করলাম, যার ছবি তিনি হলেন ফাদার এনজে কার্বা পিমে। ইতালি তার জন্মস্থান। ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে এসেছে; এসেই চলে গেছে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ইউনিয়ন দূর্গম এলাকা রুহিয়াতে। সর্বশেষ পুরো জীবন মুরতাদ বানাতে বানাতে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার সিংড়া বনের ভিতরে একটি চার্চ আছে সেখানেই সে জীবনের শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেছে।
এমন আরো বহু ঘটনা আছে যার আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী, লিখতে গেলে একটি বই রচনা হয়ে যাবে। যা হোক, এসবের কি কারণ? এর কারণ হল আমরা আমাদের দায়িত্বকে ছেড়ে দিয়েছি। ফলে দা‘য়ী জাতি মাদউতে পরিণত হয়েছে, আজকে খ্রিস্টানরা ইসলামী নাম নিয়ে মুসলিম পরিভাষা ব্যবহার করে মুসলমানদের ধর্মান্তর করছে। এ বিষয়ে আমরা উদাসিনতায় সময় পার করছি। ফিকির করছি না। আল্লাহ আমাদের সেই ফিকির করার তৌফিক দান করুন।
সেই ধারাবাহিকতায় আমার স্নেহের ছাত্র, মাওলানা ওমর ফারুক তার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় এই পুস্তকটি রচনা করেন। বইটি মূলত: খ্রিস্টানদের বাইবেল ও তাদের ধর্ম সম্পর্কে বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই যুগে এই বইটি প্রতি মানুষকে পড়া খুবই জরুরী মনে করছি। কারণ, খ্রিস্টান মিশনারীরা সেবার নামে কুরআনের অপব্যাখ্যা করে যেভাবে ধর্মান্তরিত করছে, মানুষকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে, হাজারো মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে, এই বই উভয় শ্রেণির মানুষের জন্য উপকারী হবে বলে আমি আশা করি। দু‘আ করি আল্লাহ তা‘আলা লেখক, পাঠক সকলকেই কবুল করুন এবং লেখকের কলম ও যবানকে দাওয়াতের জন্য কবুল করুন। আমীন।

যুবায়ের আহমদ

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট

মান্ডা শেষ মাথা, মুগদা, ঢাকা-১২১৪

হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেওয়ার পথ ও পদ্ধতি

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি জ্বিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই ইবাদত করার জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। পরিপূর্ণ রহমত নাযিল হোক সাহাবায়ে কেরাম ও আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগ স্বীকারকারী মহামনীষীদের প্রতি।সমস্ত প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি জ্বিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই ইবাদত করার জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। পরিপূর্ণ রহমত নাযিল হোক সাহাবায়ে কেরাম ও আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগ স্বীকারকারী মহামনীষীদের প্রতি।প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আমাদের বর্তমান বইটি হলো হিন্দুভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি বিষয়ক। মূলত এটি একটি দাওয়াতী শিট ছিল। পরবর্তিতে সাথীদের পরামর্শে এটিকে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে একটি বই আকারে পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হলো।এই বইয়ে রয়েছে কুরআন, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি। আরো রয়েছে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের উপায়। হিন্দুধর্ম সম্পর্কে লিখতে গিয়ে সরাসরি তাদের বই থেকে উদ্ধৃতি দেয়ার চেষ্টা করেছি। অন্যথায় কোনো হিন্দু পণ্ডিতের লেখা বই থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। বইটি প্রথম ফেব্র“য়ারী-২০১৩ তে প্রকাশ হয়েছিল, পরে কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে দ্বিতীয় সংস্কার প্রকাশ করা হচ্ছে।বইটি প্রকাশ করতে আমাকে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন, যাঁদের দুই একজনের নাম না বলেই পারছি না। তাঁরা হলেন ভাই আলহাজ্ব তালাত মোহাম্মাদ তৌফিকে এলাহী, আলহাজ্ব এ, কে, এম ফজলুল করিম ও আলহাজ্ব নাসিরুদ্দীন। প্র“ফ দেখে সহযোগিতা করেছেন মাওলানা এমদাদুল হক তাসনিম ও জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সহ আরো অনেকে। আল্লাহ তাআলা সকলের এখলাস ও সৎ নিয়তকে কবুল করে দ্বীনের দা’য়ী হিসেবে কাজ করার তৌফিক দান করুন।সেই সাথে পাঠকদের খেদমতে বিনীত আরজ, মানুষ হিসেবে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাদের দৃষ্টিতে কোনো ভুল ধরা পড়লে জানালে খুশি হবো এবং তৃতীয় সংস্করণে ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবো  ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদের দ্বারা আল্লাহর বান্দাদের তাঁর দিকে ডাকার তৌফিক দান  করেন। আমীন।

যুবায়ের আহমদ

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট

মান্ডা শেষ মাথা, মুগদা, ঢাকা-১২১৪

হাদিয়ায়ে দাওয়াত

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি জ্বিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই এবাদত করার জন্য। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। পরিপূর্ণ রহমত নাযিল হোক সাহাবায়ে কেরাম ও আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগে মহিমান্বিত মহামণীষীদের প্রতি।সমস্ত প্রশংসা সেই মহান স্রষ্টার, যিনি জ্বিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁরই এবাদত করার জন্য। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। পরিপূর্ণ রহমত নাযিল হোক সাহাবায়ে কেরাম ও আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ ও ত্যাগে মহিমান্বিত মহামণীষীদের প্রতি।প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! ২০০৩ সালে দারুল উলূম দেওবন্দে (ভারত)  ভর্তি পরীক্ষা শেষে ইচ্ছে হলোÑ ফলাফল বের হবার আগে আমাদের বুযুর্গদের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানসমূহ দেখে আসি। সেই নিয়তেই প্রথমে নির্বাচন করলাম মুজাফফরনগর জেলার খাতুয়াল্লি থানার ফুলাত নামক সুপ্রসিদ্ধ গ্রামটি। সেখানে রয়েছে শাহ-ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী ও শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.Ñএর জন্মভূমি। যেই ঘরে শাহ ওলিউল্লাহ রহ. জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে ঘরটি এখনও সেভাবে বিদ্যমান। আরো রয়েছে দেখার মতো বহু কিছু।  সেখানে গিয়ে একটি খানকায় অবস্থান কালে একজনের সঙ্গে  দেখা হলো। তাঁর সাথে কিছু ক্ষণ আলাপ হওয়ায় আমার কেবলই মনে হচ্ছিল, এমন মানুষ ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। যেমন তাঁর নূরানী চেহারা, তেমনি তাঁর সুন্নতের এত্তেবা। তাঁর অন্তরের একরাশ বেদনা এবং হৃদয়ের তপ্তজ্বালা আমাকে ছুঁয়ে গেল। তাঁর চিন্তা-চেতনা আমাকে ভাবাতুর করে তুলল। পরে জানতে পারলাম, তিনি হলেন একজন বড় দা‘য়ী মুফাক্বিরে ইসলাম হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহ. ও শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ.-এর বিশিষ্ট খলিফা, হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী। তাঁর মাধ্যমে এপর্যন্ত লক্ষাধিক অমুসলিম ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। তাঁকে আমার খুবই পছন্দ হলো। মনে মনে এমন একজন শায়খকেই সন্ধান করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে মিলিয়ে দিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাথে এসলাহী সম্পর্ক কায়েম করলাম এবং যাওয়া-আসাও চলতে থাকলো। সেসময় হযরত বেশ কিছু বই হাদিয়া দেন, তার মধ্যে একটিÑ হাদিয়ায়ে দাওয়াত। অসাধারণ একটি কিতাব। হযরতের বাংলাদেশে সফর উপলক্ষে খুবই অল্প সময়ে বইটির অনুবাদ করতে শুরু করি, ভালো প্রƒফ দেখারও সময় পাইনি, ফলে প্রচুর পরিমাণ ভুল থেকে যায়। এবার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে। আশা করি এবার ভুলের সংখ্যা কম হবে। আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হল হযরতের হাতে বইটি উদ্বোধন করা হয়েছে।বইটি প্রকাশের জন্য অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। যাঁদের দুই একজনের নাম না বললেই নয়। তাঁরা হলেন ভাই তালাত মুহাম্মদ তৌফিকে এলাহী, এ.কে.এম ফজলুল করিম সাহেব। আমার ছাত্র  আবুবকর, ইমরান, রেজাউল। এবং প্রƒফ দেখে সহোযোগিতা করেছেনÑ ইশতিয়াক ভাই, আলী হাসান, এমদাদুল হক তাসনিম।  আল্লাহ তা‘আলা সকলের এখলাস ও সৎ নিয়তকে কবুল করে, দীনের দা’য়ী হিসেবে কাজ করার তৌফিক দান করুন।সেই সাথে পাঠকদের খেদমতে বিনীত আরয, মানুষ হিসেবে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাদের চোখে কোনো ভুল দৃষ্টিগোচর হলে জানালে খুশি হবো এবং তৃতীয় সংস্করণে ঠিক করে নেবো ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে আল্লাহর কাছে দু’আ করি, আল্লাহ যেন আমাদের প্রত্যেককে দা’য়ী হিসেবে কবুল করেন। আমীন।

যুবায়ের আহমদ

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট

মান্ডা শেষ মাথা, মুগদা, ঢাকা-১২১৪

 

সহযোগী হও প্রতিপক্ষ হয়ো না

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআালার, যিনি কোনো আবেদন ছাড়াই আমাদেরকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত বানিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামের ওপর ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবা (রাঃ) এর ওপর। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআালার, যিনি কোনো আবেদন ছাড়াই আমাদেরকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত বানিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যিন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামের ওপর ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবা (রাঃ) এর ওপর। ২০০৩ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ফুলাতে, সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী সাহেব (দাঃ বাঃ) এর সাথে। তাঁর সুন্দর আচরণে আমি খুবই প্রভাবিত হই এবং তার সাথে এসলাহী সম্পর্ক করতে সিদ্ধান্ত নিই। তিনি নিজ হাতে আমাদের মেহমানদারী করলেন সুন্দর সুন্দর কথা বললেন। বিদায় পর্বে আমাদের প্রত্যেককে কিছু বই হাদিয়া দেন, সেই বইগুলোর মধ্যে বর্তমান বই সহযোগী হও, প্রতিপক্ষ হয়ো না (রফীক বনো, ফরীক নেহী) টিও ছিল। বইটি পড়ে খুবই উপকৃত হলাম। ইচ্ছা জাগলো এই কথা গুলো আমার দেশের মানুষেরও জানা উচিত। এই লেখাটি মাসিক ‘আলকাওসার’ পত্রিকায় প্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। বইটির কলেবর বেশী ছোট হওয়ায় এর সাথে বিষয় বস্তুও সাথে মিল রেখে, বাবরী মসজিদ যিনি সর্ব প্রথম কুদাল  তুলে নিয়েছিল তিনিএখন মুসলমান। তার সক্ষাতকারটি সংযোগ করে দিয়েছি। যা অথমের অনুদিত আলোর পথে থেকে নেয়া হয়েছে। বন্ধুদের পক্ষ থেকে বার বার তাগিত দেয়া হচ্ছিল এই লেখাটি পুস্তিকা আকাওে প্রকাশ করার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ পুস্তিকাটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছন। তার মধ্যে কয়েক জনের নাম না নিয়েই পারছিনা। বইটি প্র“ফ দেখে সহযোগিতা করেছেন আমার বন্ধুবর মাও.এমদাদুল হক তাসনিম আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। প্রকাশ করলেন জনাব আলহাজ তালাত মোহাম্মদ তৌফিকে এলাহী ও এব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন আলহাজ এ,কে,এম ফজলুল করিম ও আলহাজ্ব নাসির সাহেব সহ সকলকে আলাহপাক দীনের খাদেম হিসাবে কবুল করুন। আমি শুরুতেই বলেছি লেখা লেখির ময়দানে আমি শিশু শ্রেনির ছাত্র। আমরা চেষ্টা করেছি এরপরও যদি কোনো ভাই বোনের চোখে ভুলত্র“টি দৃষ্টিপাত হয়, তাহলে জানালে খুসি হবো এবং দ্বিতীয় সংস্করণে ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশা আলাহ।

যুবায়ের আহমদ

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট

মান্ডা শেষ মাথা, মুগদা, ঢাকা-১২১৪

Categories

Archives

March 2021
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031