বুধবার, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বৃষ্টি ও পাহাড়ের ঢলে মিশে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের চোখের পানি

টানা কয়েক দিন ধরেই চলছে ভারি বর্ষণ। ফলে পাহাড় বেয়ে নামছে ঢল। সমতল ও নিচু এলাকায় জমছে বৃষ্টি ও ঢলের পানি। এতে ভেসে গেছে পলিথিনে সাজানো ঝুপড়ি সংসার। ওপারে মৃত্যুর তাড়া খেয়ে এপারে এসে একটু স্থিমিত হতে না হতে প্রকৃতি আবার বিরূপ আচরণ করছে।

পানির তোড়ে ভেসে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। আশ্রয়স্থলে পানি জমে কয়েক ফুট স্থিতি হয়েছে। চুলা জ্বালানো দূরে থাক বসে থাকারও জায়গা নেই। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন লাখো রোহিঙ্গা

Default Ad Content Here

মাথায় পুটলা ও অন্য সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ছুটছে অনিশ্চিত গন্তব্যে। উখিয়ার পালংখালীর বালুখালী খালের পাড়ে সমতল এলাকায় আশ্রয় শিবির বানানো রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মাঝে মঙ্গলবার বিকেলে এ চিত্র দেখা গেছে।

কক্সবাজার জেলায় শনিবার মাঝ রাতে থেমে থেমে ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। সেই থেকে দিন রাত সমান তালে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামছে। কিছু কিছু সময় বৃষ্টি থামলেও ভারি বর্ষণে নাস্তানাবুদ হয়ে গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে সর্বস্ব হারিয়ে আসা অসহায় মানুষগুলো। বৃষ্টির সঙ্গে পাগলা বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে অসংখ্য ঝুপড়ির পলিথিনের চালা।

এরপরও অসহায় মানুষগুলোর ভেজা ছাড়া উপায় ছিল না। কোলের শিশুটির মাথা বাঁচাতে বুকের আচলটিই সম্বল করেছেন অনেক মা। এসব অসহায়ত্বে নীরবে কেঁদে বুক ভাসিয়েছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। আর পাহাড়ের ঢলের সঙ্গে মিশে গেছে অসহায় মানুষের চোখের জল।

পালংখালী ও কুতুপালংয়ের পাহাড়ের পাদদেশে ও খোলা মাঠে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের মাত্রা বেশি। রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছেন তারা। সকালের আলো ফোটার পর থেকেই এদের অনেক পরিবারে পুরুষটি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ত্রাণের আশায় ছুটেছেন নানা স্থানে।

জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট করে দেয়া ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের ত্রাণবাহী গাড়ি দেখলেই হামলে পড়ছেন। কেউ নিতে পারছেন কেউ পারছেন না। এভাবেই চলছে নিজ দেশে পাশবিকতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জীবন।

Archives

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930