মঙ্গলবার, ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

কাদিয়ানীরা কেন কাফের? পর্ব – ০৩

কাদিয়ানীরা কেন কাফের? 

—————————————————–

কুরআনুল কারীমের একটি শব্দকেও যদি কেউ অস্বীকার করে তবে সে কাফের। এটা ঈমানের মৌলিক বিষয়ের একটি। (সূরা বাকারা, ৮৫)।
একথা দিবালোকে সুস্পষ্ট যে, খতমে নবুওয়াতকে প্রমাণ করে এমন অসংখ্য আয়াতকে অস্বীকার করার কারণে ভন্ডনবী মির্যা গোলাম আহমদ আর তার অনুসারী কাদিয়ানী জামাত নিঃসন্দেহ কাফের। যদিও অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তারা নিজেদের দাবী প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করে থাকে।তবে কিন্তু হাদীসের ব্যাখ্যা আর উম্মতের ঐক্যমতের ব্যাখ্যা এড়িয়ে কারো নতুন কোনো ব্যাখ্যাই যখন গ্রহণযোগ্য নয়, তখন কাদিয়ানিদের ব্যাখ্যা গুলোও গ্রহণযোগ্য হতে পারে কিভাবে?

উদাহরণ হিসেবে সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতটিই ধরা যেতে পারে। সেখানে আল্লাহ তা’আলা তাঁর হাবীব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে خاتم النبيين-এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। এখানে “খাতাম” শব্দের ব্যাখ্যা হাদিসকে পরিত্যাগ করে নিজের মনমত করা হল ভ্রষ্টতা। কেননা, কুরানের সর্বাপেক্ষা ও একমাত্র সঠিক ব্যাখ্যাদাতা হলেন রাসূলে করীম (সা)।
কুরআনে কারীমের সূরা নাহল-এর ৪৪ নং আয়াতে রাব্বে কারীম ইরশাদ করেন:
وانزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتذكرون
“আপনার নিকট আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি লোকদের সম্মুখে সেসব আয়াত খোলাসা করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযেল করা হয়েছে।”এমন অসংখ্য আয়াত আছে কুরআনে, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআনের ব্যাখ্যাদাতার স্বীকৃতি স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা দিয়েছেন। কাজেই রাসূলের ব্যাখ্যার বিপরীতে সমস্ত ব্যাখ্যাই অগ্রহণযোগ্য হবে। রাসূলে করীম (সা) পরিষ্কার বলে দিয়েছেন –
أنا خاتم النبيين لا نبي بعدي
“আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পর আর কোন নবী নেই”। অন্য জায়গা এসেছে –
لو كان بعدي نبي لكان عمر
“আমার পর কেউ নবী হলে ওমর হত”।
এমন অসংখ্য হাদীস সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাসূলে করীমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকার পরও নতুন কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানো কুরআনের আয়াতকে অস্বীকার করারই নামান্তর।
এমন গর্হিত কাজটি যারাই করবে তারা নিঃসন্দেহ কাফের। আর এরকম অসংখ্য গর্হিত কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কাদিয়ানী জামাত কাফের। ইসলাম এবং মুসলমানের গণ্ডি হতে তারা খারিজ। যারা এদের কাফির মানতে ইতস্তত করবে তারাও কাফির হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
________
তাই দেশের সরকারের নিকট আমাদের আরজ, এ কাফির গোষ্ঠীটি যেন পৃথক একটি সংখ্যালঘু জাতির পরিচয় নিয়ে দেশের অপরাপর ধর্মাবলম্বী তথা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান জৈন সম্প্রদায়ের মত বসবাস করতে পারে এজন্য সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। আমরা আবারো জোর দাবি জানাচ্ছি, অন্যান্য অমুসলিম সম্প্রদায়ের মত “কাদিয়ানী” ধর্মের অনুসারী হিসেবে পৃথক ভাবে তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা দেয়া হোক। তবেই তাদের পক্ষে ইসলামের নাম ভেঙে গুপ্তঘাতকের ন্যায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার আর কোনো সুযোগ থাকবেনা। অন্যথা এদের ইসলামের নামে অধর্মাচরণের দায়ে যে কোনো মুহূর্তে জনরোষ ছড়িয়ে পড়তে পাতে। আর ততক্ষণে সরকারের জন্য অনেক দেরি হয়ে হবে।
_____
সারাংশ :- কাদিয়ানিরা কাফির কাফির কাফির।

Archives

June 2022
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930