শুক্রবার, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

বি বাড়িয়ায় আসলে কি ঘটেছিল ? কাজী ইব্রাহীমের মাযহাবী ও দেওবন্দী হয়ে উঠার গল্প ( ভিডিও সহ)

ষড়যন্ত্রটা গভীর ছিল! সফল হয়নি রবের করুণায়!

বলতে ভাল লাগছে না। সময় করেও উঠতে পারছি না। কিন্তু শুভাকাঙ্ক্ষীদের লাগাতার আবেদনের কারণে অবশেষে লিখছিঃ
দাওয়াত ও তাবলীগ এবং চরমোনাই মুজাহিদ। সেই সাথে বাংলা মাটির শেকড়ের সাথে মিশে যাওয়া আমাদের কওমী মাদরাসা।
যারা বাংলার জনপদে জনপদে ঘুরে বেড়ান। তারা আমাদের এ তিন জামাতের আম বদনাম অন্তত চিন্তাশীল কোন খাঁটি ধার্মিক করবে না। করতে পারে না।
বললে অত্যুক্তি হবে না যে, এ জমিনে এখনো হক ও হক্কানিয়্যাত যিন্দা আছে এ তিনটি মুখলিস জামাতের বদৌলতেই। মাঠে প্রান্তরে যাদের কর্মীরা মিশে আছেন জনতার সাথে। ক্ষণে ক্ষণে ঝলসে উঠেন আপন মহিমায়। রবের দ্বীন রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ে অকুতোভয় হয়ে।
কোথায় চরমোনাই মুজাহিদদের কারণে বাতিল পালায় পিছনের দরজা দিয়ে। তো কোথাও তাবলীগী সাথীদের দৃঢ়তায় থেমে যায় বাতিলের গতিপথ। কওমী উলামার হুংকারে স্তব্ধ হয় ফিতনাবাজের উল্লাসধ্বনি।

বি বাড়িয়া জেলার কসবার ঘটনাটি স্মৃতিপটে ভাস্বর থাকবে অধমের। যেমনটি দাগ কেটেছিল নোয়াখালী গোপালপুরের ঘটনাটি।

মাহফিল আয়োজক লা মাযহাবী বন্ধুরা। প্রধান বক্তার স্থানে দেওবন্দী আলেম। বাকি তিন আলোচক লা মাযহাবী এবং মওদুদী অনুসারী।
আজীব না?
এ কাজ তারা কেন করলেন? আল্লাহ ভাল জানেন। তবে অনেকের ধারণা বাস্তব প্রমাণ করে মাহফিলের আগের দিন কর্তৃপক্ষ ফোন দিয়ে জানালো “ফরায়েজী সাহেব! আপনি মাহফিলে আসবেন না, আপনি আসলে কাজী ইব্রাহিমসহ বাকি তিন বক্তার কেউ আসবে না”!
আমার দৃঢ় উচ্চারণ “আমার নাম প্রচারিত হয়েছে, এখন আমি না আসলে ছড়ানো হবে লা মাযহাবীদের ভয়ে আমি আসিনি, তাই আমি আসবোই, শত বাঁধা আসলেও আমি আসবো। বাকি বক্তা কেন আসবে না, সেটা তাদের দুর্বলতা, আমারতো কোন সমস্যা নেই তাদের আসাতে, তাদের প্রবলেম কেন?”
আপনাকে মঞ্চে উঠতে দেয়া হবে না” হুমকি দিতেই ক্ষিপ্ত স্বরে বললাম “আমি আসবো ইনশাআল্লাহ! আসার পর মঞ্চে উঠতে কে আটকে রাখে আমি দেখবো ইনশাআল্লাহ”।
কেটে দিলাম ফোন।
অপর দিক থেকে স্থানীয় আলেম মাওলানা ইমরান, মাওলানা শফীক আজীজীসহ নাম মুখস্থ না থাকা উলামাগণ সোচ্চার হলেন। আমাকে যেতে হবে। এটি এখন আমাদের সবার ইজ্জতের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাবলীগী সাথীরা একের পর মাশোয়ারা করে আমাকে উপস্থিত করা ও সিকিউরিটি দেবার ফিকির করতে লাগলেন।
অভূতপুর্ব সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন চরমোনাই মুজাহিদ বাহিনী। কসবা থানা যুব আন্দোলনের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ আম চরমোনাই কর্মীরা নিজেদের মাহফিল হিসেবে মেহনত শুরু করলেন। আল্লাহু আকবার। চরমোনাই মুজাহিদ বাহিনীর ইখলাসপূর্ণ মেহনত, যুৎসই ও কার্যকরী সুনিপূণ কর্মতৎপরতা আশা জাগায়ঃ ইসলামী খিলাফত এমন সব মর্দে মুজাহিদ ও কর্মতৎপর লোকদের হাত ধরেই আসা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
আমার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল রাত এগারটা দশ।
নরসিংদী বদুয়ারচড় ইশার পর বয়ান শেষ করেই ছুটলাম কসবার দিকে। বি বাড়িয়া শহরের রাস্তা ভয়াবহ ভাঙ্গা তাই ছুটলাম বিজয়নগর আখাউরা হয়ে কসবার দিকে। প্রচণ্ড কুয়াশায় সামনের পথ দেখা যায় না। আল্লাহর নাম নিয়ে ভাঙ্গা রাস্তার ধকল সয়ে কুয়াশার চাদর মাড়িয়ে কসবার পথে। অবশেষে সোয়া এগারটায় পৌঁছলাম মাহফিল স্থলে।
এসেই ষড়যন্ত্র এর গন্ধ পেলাম। আমাকে মঞ্চে না উঠাতে এগারটায় কাজী ইব্রাহীমকে বসানো হয়েছে। এর মানে তার মাধ্যমেই মাহফিল শেষ করে দিবে। আমাকে আর উঠতে দিবে না। আমি বললাম” আমি মঞ্চে যাবো। আমিতো আমার সময়মত এসেছি। তাহলে কাজীকে এখন উঠানো হল কেন?”
স্থানীয় মেম্বার এলেন। জানালেন” আপনি হুজুর ঠিকমতই এসেছেন। দেরী করেছে কাজী ইব্রাহীম। সেই হিসেবে আপনার এখন বয়ান করা উচিত। কিন্তু আমাদের অনুরোধ আপনি একটু পরে উঠুন। যাতে মাহফিলে কোন হটটগোল না হয়।
যাইহোক, অবশেষে আমরা পৌনে বারটার দিকে মঞ্চের দিকে রওয়ানা হই। কাছাকাছি যেতেই লা মাযহাবী যুবকেরা আমাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। উঠতে দিবে না। বাঁধা টপকে এগিয়ে যাই সামনে। চারিদিকে ব্যুহ তৈরী আমাকে নিয়ে যাওয়া হল মঞ্চের দিকে। মঞ্চে উঠার পূর্ব মুহুর্তে আবারো বাঁধা। কিন্তু সেই বাঁধা ঠেলে আমরা উঠে গেলাম মঞ্চে।
বয়ান করছেন কাজী ইব্রাহীম। বিষয় কিয়ামতের আলামত। আমরা উঠতেই আচমকা বিষয় পরিবর্তন করে শুরু করলেনঃ ফিকহী মাসআলা বিষয়ে আমাদের উদার দৃষ্টি রাখতে হবে। চার মাযহাবই দলীল সমৃদ্ধ। তাদের কেউ রেল মিস করেননি। সবার উৎসই নবীর হাদীস। কোন মাযহাবের ইমামই তার বাপের বাড়ী, নানার বাড়ী থেকে মাসআলা কলেননি, বরং নবীর হাদীস থেকেই বলেছেন। তাই কাউকে খারাপ বা যাবে না। আমার আব্বা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ এর ছাত্র। তিনি বলতেন” উলামায়ে দেওবন্দ মুদাল্লাল তথা দলীলসহ কথা বলে। আর দলীলসহ কথা মানতে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।”

ভিডিও

ইত্যাদি কথা শুনছিলাম। আর হাসছিলাম। হায়রে কাজী সাহেব। কত রং পাল্টাতে পারেন। আমার কাছে তার লেকচার ছিল, যাতে তিনি বলছেন “মাযহাব হল মৌলভীর মতামত”। এই বলে তিনি মাযহাবকে ঠাট্টা করেছেন। আর আজ আমাদের দেখে স্বীকার করছেন মাযহাব মৌলভীর মতামত নয় বরং নবীজীর হাদীসে বর্ণিত আমলের সংস্করণ।
তাহলে এতদিন মৌলভীর মতামত বলে কেন মানুষকে বিভ্রান্ত করে উম্মতকে বিভক্ত করলেন?
যাইহোক। অবশেষে সংক্ষেপে কিছু কথা বললাম।
পরিস্কার জানালাম “একতার স্লোগান আমাদের মুখে মানায়, যারা আমাদের একতার প্লাটফর্ম মসজিদকে বিভেদের আখরা বানিয়েছে, এখন ধরা খেয়ে একতা বুলি আউড়ানো তাদের মুখে শোভা পায় না।”

মাহফিল তাদের ছিল কিন্তু বক্তব্যগুলো তাদের হয়নি।
বক্তা তাদের ছিল কিন্তু বক্তব্যগুলো তাদের হয়নি।
আল্লাহরই সকল প্রশংসা। সেই সাথে উলামা তুলাবা, তাবলীগী সাথী এবং চরমোনাইয়ের মর্দে মুজাহিদদের অতুলনীয় ভূমিকার জাযায়ে খায়ের রবের কাছে কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের এক ও নেক বানিয়ে দেন। সকল বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হবার তৌফিক দান করেন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

April 2020
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
shares