মঙ্গলবার, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ’র ৩০ অমূল্য বাণী

রাজধানীর কামরাঙ্গিরচরে অবস্থিত মাদরাসাতুল মাদীনাহ’র পরিচালক, লেখক ,অনুবাদক, মাদানী নেসাবের প্রবর্তক এবং বাংলাদেশের প্রবীণ আলেমে দীন মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (আদীব হুজুর) এর অমূল্য ৩০টি বাণী।

১. একটি বীজ হয়তো খুব ছোট, কিন্তু তার মধ্যে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তুমি ক্ষুদ্রতার কথা ভেবো না, সম্ভাবনার কথা ভাবো!

২. তোমার জীবন যদি তোমার একার হয় তাহলে তুমি ব্যর্থ। তোমার জীবন যদি সবার হয় তাহলে তুমি সফল। তোমার বেঁচে থাকা স্বার্থক।

৩. ভুল করেছো! ভুল স্বীকার করে নাও। অন্যায় করেছো! অনুতপ্ত হও। তাহলেই তুমি ভালো মানুষ।

৪. সব মানুষ এক, আকারে ও আকৃতিতে; পার্থক্য শুধু কর্মের মধ্যে, চিন্তার মধ্যে এবং অনুভবের ক্ষেত্রে।

৫. জ্ঞানের সীমা চিরদিন ছিলো, অজ্ঞতার সীমা কোনদিন ছিলো না। মানুষ শুধু চেষ্টা করতে পারে জ্ঞানের সীমা একটু একটু করে বৃদ্ধি করার।

৬. ফল খেতে চাও! তাহলে বীজ লাগাও; চারাগাছে পানি দাও; দিনরাত গাছের যত্ন নাও।

৭. অন্ধকার দূর করার জন্য খুব বেশী কিছুর দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু সামান্য প্রদীপের সামান্য আলো।

৮. অন্ধকার যখন ঘনীভূত হয় তখন বুঝতে হবে, নতুন ভোরের নতুন সূর্যোদয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

৯. এক টুকরো কাঁচ এবং একটি হীরকখণ্ডের মধ্যে পার্থক্য তুমি বুঝতে পারো, কিন্তু বুঝতে পারো না মুদ্রার চাকচিক্য এবং জ্ঞানের উজ্জ্বলতার পার্থক্য।

১০. মানুষ যখন স্বার্থচিন্তায় তাড়িত হয় তখন তার ভিতরের শিশুটি হারিয়ে যায়। তার চোখের চাহনিতে এবং মুখের হাসিতে শিশুর সরলতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

১১. তুমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো সকলের কাম্য হয়ে থেকো৷ শত্রুও যেনো তোমাকে কামনা করে৷

১২. মানুষ যখন মানুষের ব্যথা বোঝে, মানুষের বিপদে মানুষ যখন পাশে দাঁড়ায়, যখন মানুষ মানুষের জন্য হাসে এবং কাঁদে, আকাশের ফিরেশতারা তখন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

১৩. ভীতি কখনোই প্রীতির মতো স্থায়ী ফলদায়ক ঔষধ নয়, যদিও তাতে সাময়িক উপশম অবশ্যই হয়৷

১৪. অনুশীলন করো বেশী লিখে এবং পরিবেশন করো কম লিখে; তুমি হবে সফল লেখক। তোমার লেখা হবে হৃদয়স্পর্শী ও কালোত্তীর্ণ।

১৫. যতদিন থাকবে ‘আমার এবং তোমার’ – এই বিভাজন, ততোদিন আসবে না গাছে ফল এবং মাঠে ফসল; ততোদিন ধরবে না কলি, ফোটবে না ফুল। তাই এসো ভাই, সাধনা করি, যেনো হতে পারি ‘আমরা’।

১৬. আদর্শ পাঠক না হয়ে আদর্শ লেখক হওয়া যায় না। একপৃষ্ঠা লেখার জন্য অন্তত একশপৃষ্ঠা পড়তে হয় এবং অন্তত দশপৃষ্ঠা লিখতে হয়।

১৭. রুচিশীল সাহিত্য-সাধকের চিন্তা হয়ে থাকে খুবই উন্নত, গভীর ও সুদূর প্রসারী। তিনি উপলব্ধি করেন নির্বাক জড়বস্তুর অভিব্যক্তি এবং তাতে আপ্লুত হন। কখনো অন্যকেও আপ্লুত করেন।

১৮. দুঃখ তোমার কাছে কেনো এতো অপ্রিয়? জীবনে দুঃখের ছায়াপাত না হলে সুখের মুহূর্তগুলো কি এতো সুখের হতো?

১৯. জীবনে দুঃখ আছে বলেই আছে সুখ। অন্ধকার আছে বলেই আছে আলো। ব্যথা ও বেদনা আছে বলেই আছে আনন্দের তৃপ্তি।

২০. বৈদ্যুতিক আলোর ধাঁধায় ভুলে যেয়ো না, দূর অতীতে তোমার জীবনে ছিলো মোমের আলোর স্নিগ্ধতা।

২১. ঘুমের স্বাদ, নিদ্রার সুখ সবাই গ্রহণ করতে পারে; ঘুমের ঘোরে বেহুঁশ যারা, নিদ্রার কোলে অচেতন যারা তাদের জাগাতে পারে ক’জন?

২২. হাসির সময় যারা কাঁদতে পারে, আর কান্নার সময় হাসতে পারে, তুমি তাদের মতো হও।

২৩. কান্না জীবনের অংশ, কিন্তু শুধু কান্না সাহসী পুরুষের ধর্ম নয়। তোমার চোখে যেমন অশ্রু আছে তেমনি তোমার শিরায় আছে উষ্ণ রক্তের প্রবাহ।

২৪. কোনো শিক্ষকের মধ্যে পিতৃত্বের ছায়া আছে, মাতৃত্বের ছায়া আছে অথচ তার ছেলেরা তাকে মুহাববত করে না, এটা হবে না ইনশাআল্লাহ। এই জিনিসটার এখন বড় অভাব।

২৫. গাছের যে ডালে ফল ধরে সেটি ফলভারে নুয়ে থাকে৷ পক্ষান্তরে যে ডালে ফল নেই সেটি মাথা উঁচিয়ে থাকে৷ মানবসমাজেও আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই৷ যে যত জ্ঞানী সে তত বিনয়ী৷ আর যার জ্ঞান যত সীমিত তার বুক ততটাই স্ফীত।

২৬. বিপদে সমস্যায় সন্তানকে তিরস্কার পরে করা, আগে তার পাশে দাঁড়ানো। তাহলে সন্তান আরো বড় অন্যায় করা থেকে এবং আরো গুরুতর অবস্থায় পড়া থেকে বেঁচে যায়।

২৭. আল্লাহ যাকে বিশেষ কোন মর্যাদা দান করেন সেব্যক্তির উচিত সেটা রক্ষা করা।

২৮. মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হতেই পারে। তবে আমাদের ভুলগুলো আমাদের বয়সের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া চাই।

২৯ . ভুল করলে, তওবা করে নেওয়া উচিৎ।

৩০. নিরাশ হয়ো না! চাওয়ার মতো যদি চাইতে পারো তাহলে তুমিও অনেক কিছু পেতে পারো। এ দুয়ার থেকে তো ডাক আসে দিন রাত, এসো হে নেককার, এসো হে গোনাহগার, লুটে নাও আমার দানের ভাণ্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

January 2021
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
shares
%d bloggers like this: