বৃহস্পতিবার, ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

হিন্দুদের গোত্র বা বর্ণের বৈষম্য – ও কিছু জরুরী কথা

 


হিন্দু ধর্মে চারটি বর্ণ আছে
হিন্দু ধর্মের বর্ণ চতুষ্টয় হল-
১. ব্রাহ্মণ,
২. ক্ষত্রিয়,
৩. বৈশ্য,
৪. শূদ্র।

নিম্নে ক্রমান্বয়ে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. ব্রাহ্মণের অবস্থান:
ব্রাহ্মণ ‘ব্রহ্মা’-এর মুখ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পক্ষ থেকে কথা বলতে পারে।‘ব্রহ্মা’ব্রাহ্মণদের জন্য ছয়টি কাজ দিয়েছেন। যেমন- মনুসংহিতায় বর্ণিত আছে। ‘‘অধ্যাপন মধ্যয়নং সজমং জাজসং তথা দানং প্রতিগ্রহেবওব ব্রাহ্মণা নাম কলপয়ৎ।’’ অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ব্রাহ্মণের জন্য অধ্যয়ন,অধ্যাপনা,যজন,যাজন,দান এবং প্রতিগ্রহ- এই ছয়টি কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের স্বভাব সম্বন্ধে গীতায় বলা হয়েছে-মানসিক স্থিরতা,সংযম,তপস্যা,পবিত্রতা,ক্ষমা,সরলতা,জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আস্তিক্য হল ব্রাহ্মণদের স্বভাবজাত। সুতরাং এ সম্পর্কীয় কাজগুলো শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের জন্য নির্দিষ্ট। মোটকথা,হিন্দু সমাজে সবচেয়ে উচ্চশ্রেণী হল ব্রাহ্মণরা। যারা নানাবিধ চিন্তা-সাধনার মাধ্যমে এবং সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনের নানাবিধ মূল্যবান দিক লাভ করার সামর্থ্য রাখে,তারাই হিন্দু সমাজে পুরোহিত শ্রেণীতে পরিণত হয়।

২. ক্ষত্রিয়দের অবস্থান:
যারা শাসন সংক্রান্ত কাজে পারদর্শী তারা এ সম্প্রদায়ভুক্ত। ক্ষত্রিয়রা যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) বাহু থেকে সৃষ্টি হয়েছে,তাই তাদের কাজ হল প্রজা প্রতিপালন,দান,অধ্যয়ন ও কর্তব্য পালন করা। যেমন- মনুসংহিতায় আছে-‘‘প্রজানং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যিয়ন সেবচ,বিষয়ে প্রশক্তির ক্ষত্রিয়ানাদ সমাগত।’’
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ক্ষত্রিয়দের জন্য প্রজা প্রতিপালন,দান,অধ্যয়ন,যজ্ঞ ইত্যাদি কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। দেশে শাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশ ও সমাজকে বহিঃশক্রর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব ক্ষত্রিয়দের উপর ন্যস্ত। প্রশাসনের আমলা ও সৈন্যরা ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত। এদের সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে- সাহস,তেজ,দক্ষতা,যুদ্ধে দৃঢ়পদ,দান এবং কর্তৃত্ব করার প্রবৃত্তি হল ক্ষত্রিয়দের স্বপ্ন।

৩. বৈশ্যদের অবস্থান:
হিন্দু ধর্মমতে,বৈশ্য জাতীয় লোকদেরকে ঈশ্বর পশুপালন,দান,যজ্ঞ,অধ্যয়ন,জল ও স্থলপথে বানিজ্য,কৃষিকর্ম,সম্পদ বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ- এ সকল দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন- মনুসংহিতায় বর্ণিত আছে- ‘‘পশু নাং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যয়ন সেবচ,বণিক পথং কুসীদঞ্চ বৈশ্যম্য কৃষি সেবচ।’’
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা বৈশ্যের জন্য পশু পালন আর রক্ষা,দান,যজ্ঞ,অধ্যয়ন,বাণিজ্য,কৃষিকর্ম- এ সব কর্তব্যের পকিল্পনা করলেন। সমাজে এ বর্ণের লোকেরা নানাবিধ ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী,শিল্পী এবং কৃষক। এরা জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় সমূদয় জিনিসপত্র তৈরি করতে নিয়োজিত। এ সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে-‘‘বৈশ্যের স্বভাব হল- কৃষিকর্ম ও বাণিজ্য।’’

৪. শূদ্রের অবস্থান:
শূদ্র যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পা থেকে সৃষ্টি হয়েছে,তাই এ বর্ণের লোকদের একমাত্র কাজ হল ব্রাহ্মন,ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের সেবা করা। যেমন,মনুসংহিতায় আছে- ‘‘একসেব তুশুদ্রস্য প্রভু কর্ম সমদিশৎ এতষসেব বর্ণনাং শুশ্রুষামন সুয়ায়া।’’
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা শূদ্রের জন্য একটিমাত্র কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। আর তাহল- ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য- এই তিন বর্ণের লোকদের সেবা করা এবং তাদের আদেশ পালন করা।
“ব্রাহ্মণরা ব্রহ্মার মুখ, ক্ষত্রিয়রা বাহু এবং শূদ্ররা ব্রহ্মার পা থেকে সৃস্টি হয়েছে”
সূত্র: ঋগবেদ ১০.৯০

এবার আসি আসল কথায় !

সনাতন/হিন্দু ধর্মের বর্ণ প্রথা সম্পর্কে সবিশেষ

সনাতন বা হিন্দু ধর্মের ভয়াবহ অভিশপ্ত অন্যতম প্রথা হলো বর্ণ প্রথা।যা মানুষকে উচুস্তর এবং নিম্নস্তরে বিভক্ত করা হয়েছে।অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম অনুসারে সব মানুষ সমান নয় এবং এটি একটি জাত ধর্ম অর্থাৎ আপনি জন্মের সময় যে অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন আপনার বর্ন পরিচয়ও তাই হবে।এই বর্ণ প্রথা মূলত বিভক্ত করা হয়েছে কর্মের ভিত্তিতে।আধুনিক সংস্কারক হিন্দুরা যদিও এখন এসব জাত-পাত মানেন না, কিন্তু মধ্যবিত্ত ও মধ্য-শিক্ষিত সমাজে এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।সাম্প্রদায়িকতাই এ ধর্মে বর্ণভেদের একমাত্র কারণ। নৈতিক আচরণভেদ, গায়ের রঙ ও পেশার ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মে বর্ণভেদের সৃষ্টি হয়েছে।উচুবর্ণের হিন্দুরা তাদের দৃষ্টিতে যারা নিচুবর্ণ তাদেরকে নিয়ে প্রতিনিয়ত তুচ্ছ তাচ্ছিল,হাসি তামাশা করে এবং নিম্ন বর্ণদের বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে থাকে।যেমন-মুচি,মেথর,পোদ,চাড়াল ইত্যাদি।এছাড়া উচ্চ ও নিম্ন বর্ণের হিন্দুর হাতের রান্না কিংবা একসাথে কখনও খেতে পারবেনা।কাপড় পরিধানের ক্ষেত্রেও বর্ণবাদ প্রথায় ব্রাহ্মণদের জন্য সাদা, ক্ষত্রিয়দের জন্য লাল,বৈশ্যদের জন্য হলুদ আর শুদ্রদের জন্য কালো রঙয়ের কাপড় পরিধান নির্ধারিত ছিল।ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রদান করত ব্রাহ্মণগণ,রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিত ক্ষত্রিয়গণ আর বৈশ্যগণ ক্ষমতায় একেবার হীন আর শুদ্রগণ ছিল তাদের সকলের সেবক।এবং পৈতা পরিধান করা ব্রাক্ষণ ছাড়া আর কারও জন্য অনুমোদিত ছিল না।ব্রাহ্মনরা আরো প্রচার করে যে,ব্রাহ্মনদের সৃষ্টি হয়েছে ভগবানের মস্তক থেকে, ক্ষৈত্রীয়র সৃষ্টি হয়েছে ভগবানের বুক থেকে, বৈশ্যের সৃষ্টি হয়েছে ভগবানের পেট থেকে আর শুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে ভগবানের পা থেকে।সুতরাং,ব্রাহ্মনরা উচু জাতী আর শুদ্র সর্বনীচু জাতী।

সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে এখনও বর্ণ প্রথা প্রবল।এদেশে এখনও ব্রাহ্মণের ছেলের বিয়ের জন্য ব্রাহ্মণ মেয়ে ,দত্ত ছেলের জন্য দত্ত মেয়ে,কর্মকারের ছেলের বিয়ের জন্য কর্মকারের মেয়ে লাগবেই।কারন অন্য জাতের মেয়ে হলে নাকি আবার জাতকূল ধুয়ে এক হয়ে যায়।এমনই অনেক হিন্দু পরিবার আছে,যেখানে অভিভাবকরা তাদের ছেলেদের/মেয়েদের বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ে দিতে পারছে না শুধুমাত্র একই বর্ণের সুযোগ্য ছেলে/মেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে।দুঃখের কথা কি বলব,আমার মামা বিয়ে করতে পারছেনা সুযোগ্য ভালো মেয়ে পাওয়া সত্যেও।তার কারন হচ্ছে জাতের সাথে জাতের মিল হচ্ছে না।তাহলে আপনারাই বুঝোন এই জাত প্রথাটা কতটা ভাইরাস হিসাবে এখনো আমাদের সমাজে যুগের পর যুগ টিকে আছে।বর্ণ প্রথার প্রভাব সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে কেমন তার সম্পর্কে আশা করি কিছু হলেও ধারনা পেলেন।এখন মূল কথায় আসা যাক-
প্রথমেই বলে নিই, হিন্দু সমাজে চারটি বর্ণ প্রচলিত আছে।যেমন- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়,বৈশ্য ও শূদ্র। আমরা মনে করি যে, একজন ব্রাহ্মণের পুত্রই ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়ের পুত্রই ক্ষত্রিয়, বৈশ্যের পুত্রই বৈশ্য, শূদ্রের পুত্রই শূদ্র। আসলে ঘটনাটি সঠিক নয়।বেদে স্পষ্ট বলা আছে, যার যার কার্যকারণে তার বর্ণ নির্ধারণ করবে। এবং সকলেই সকলের উপর নির্ভরশীল।
তাহলে আসুন এবার দেখি সনাতন ধর্মে বর্ণ প্রথা সম্পর্কে ‘বেদ’ এ কি বলা আছে—
ঋগবেদ ১.১১৩.৬
“একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে(ব্রাহ্মন) ,অপরজন বীরত্বের গৌরবে(ক্ষত্রিয়) , একজন তার নির্দিষ্ট পেশাভিত্তিক(বৈশ্য), আরেকজন সেবার পরিশ্রমে(শূদ্র)। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়,সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত।
ঋগবেদ ৯.১১২.১
একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেক রকম আর সে অনুসারে কেউ ব্রাক্ষ্মন কেউ ক্ষত্রিয় কেউ বেশ্য কেউ শূদ্র।
ব্রাক্ষ্মন কে? ঋগবেদ ৭.১০৩.৮
যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস,সত্য,নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল,বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সে ব্রাহ্মন।
ক্ষত্রিয় কে?
ঋগবেদ ১০.৬৬.৮
দৃঢ়ভাবে আচার পালনকারী, সত্‍কর্মের দ্বারা শূদ্ধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন,অহিংস,ঈশ্বর সাধক,সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ন,বিদ্বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা,অসত্‍ এর বিনাশকারী সে ক্ষত্রিয়।
বৈশ্য কে?
অথর্ববেদ ৩.১৫.১
“দক্ষ ব্যবসায়ী দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী।”
শূদ্র কে?
ঋগবেদ ১০.৯৪.১১
“যে অদম্য,পরিশ্রমী, ­ অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা,লোভমুক্ত ­ কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।”
এজন্যেই পবিত্র বেদ ঘোষনা করেছে সাম্যের বানী-“অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায় যুবা পিতা স্বপা রুদ্র এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ।”(ঋগবেদ ৫.৬০.৫)
অর্থাৎ,কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মন,কেউ ক্ষত্রিয়,কেউ বৈশ্য,কেউ শুদ্র।তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয়।ইহারা ভাই ভাই । সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে ।ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপ প্রকৃতি।পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।
বেদের কোথাও বলা নেই এক বর্ণের মানুষ আরেক বর্ণের পার্থক্য।কিন্তু উচ্চ বর্ণের মানুষরা নীচু বর্ণের মানুষদের মানুষ মনে করে কিনা সন্দেহ।
আশা করি বর্ণ প্রথা সম্পর্কে সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের আদি অন্ত পরিষ্কার করতে পেরেছি।আর এখনও যদি কেও ভাবেন সনাতন ধর্মে ব্রাহ্মনরাই উচুস্তরের তাহলে আপনাকে আমার আর বুঝানোর ক্ষমতা নাই।কারন ব্রাহ্মন সেই হওয়ার যোগ্য রাখে যে পাণ্ডিত দিক দিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।হোক সে বৈশ্য,ক্ষত্রিয় অথবা শূদ্র।বর্তমান সমাজে যেহেতু শিক্ষা ও পেশা সবার জন্য উন্মুক্ত তাই এ প্রথা আজ অপপ্রথায় পরিণত হয়েছে।বরং সমাজে বর্ণ ভেদের কারনে বিভাজন দৃশ্যমান, অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দারিয়েছে।এ কারনে চূড়ান্ত রুপে এ প্রথাকে বর্জন করাই মঙ্গলজনক।

হিন্দুরা অনেকেই বলে তাদের ধর্মে প্রবল জাতপাত থাকলেও হিন্দুরা নাকি এখন এসব জাত ভেদ প্রথা মানে না !  যে প্রথার নির্দেশ তাদের ভগবান দিয়েছেন যা তাদের ধর্মগ্রন্থে সুস্পষ্ট ভাবে আছে তা অবিশ্বাস করার অর্থতো ভগবানকেই অবিশ্বাস করা অর্থাত জাত ভেদে অবিশ্বাসী হিন্দুরা নাস্তিকের সমপর্যায়ের ।
হিন্দুরা যদি তার ধর্মগ্রন্থের বিধানকেই অস্বীকার করে তবে হয় তাদের ভগবান ভুল না হয় এই অমানবিক ধর্ম মানার একেবারেই অনুপযুক্ত ।
আর এই প্রথা ঠিকঠাক মানলে ছোটজাতের হিন্দুদের জীবন স্রেফ কুকুরের মত হয়ে যাবে । উচ্চবর্ণীয় হিন্দুদের কামলা হিসেবেই কাটবে তাদের জীবন ।
অতএব, এই অমানবিক ধর্মকে পরিত্যাগ করে ইসলামে ফিরে আসুন।
মহান আল্লাহ পাক বলেছেন
”নিশ্চয় আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম” (সূরা আল ইমরান : ১৯)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

August 2020
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
shares