Today is Monday & August 26, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

মোলাকাত ০৮ঃ মুফতী আবদুল্লাহ আল ফারূক

নাম = মুফতী আবদুল্লাহ আল ফারূক (Abdullah Al Faruque )
জন্ম = ২৩ নভেম্বর ১৯৮৩
বাড়ি = পাড়াগাঁও, আশুলিয়া, ঢাকা
বাসা = জান্নাতবাগ, নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা
.
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা
দাওরায়ে হাদীস: জামেয়া সুবহানিয়া মাহমূদনগর, তুরাগ, ঢাকা [২০০২]
দাওরায়ে হাদীস: দারুল উলূম দেওবন্দ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত [২০০৩]
আদব: দারুল উলূম দেওবন্দ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত [২০০৪]
তাফসীর: দারুল উলূম দেওবন্দ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত [২০০৫] অসমাপ্ত
ইফতা: মাহমূদিয়া দারুল ইফতা, দেওবন্দ, ইউপি, ভারত
(পরিচালনায় মুফতী ইউসুফ তাউলুভী হাফিযাহুল্লাহ [২০০৫] অসমাপ্ত
—–
আমাদের কওমী ঘরানায়, তরুনদের মধ্যে:
= যারা উদীয়মানতার গন্ডী পেরিয়ে, উদিত হয়ে গেছেন প্রায়
= যারা কলি থেকে ফুল হয়ে গেছেন প্রায়।
= যারা ছানা থেকে ডানা মেলা হয়ে গেছেন প্রায়।
= যারা অনুসারী থেকে অনুসৃত হয়ে গেছেন প্রায়।
-= যারা নবিস থেকে পুর্ণ লেখকে পরিণত হয়ে গেছেন প্রায়।
তাদের মধ্যে, মুফতী আবদুল্লাহ আর-ফারুক অগ্রপথিক-পর্যায়ে আছেন।
.
বলতে গেলে তার পথচলা সবে শুরু। কিন্তু ইস্তক তার অর্জন বিস্ময়জাগানিয়া।
.
বর্তমানে ইসলামী ঘরানার তরুনদের মধ্যে লেখক তো অনেকই আছেন। কিন্তু মাওলানার মতো দক্ষ শরীয়তবেত্তা লেখক হাতে গোনা বললে অত্যুক্তি হবে না মোটেও।
.
কিছু একটা লিখতে, মাথা-ঘাড়-গলা-নাক আরও অনেক কিছু চুলকাতে হয়। ভ্রু-মুখ-চোখ কোঁচকাতে হয়। তারপরও একটা পৃষ্ঠা লেখা কেয়বমবৎ এমন অনেকেরই হয়। কিন্তু আমাদের মাওলানা সব্যসাচী। তিনি যেন চার হাতপায়ে লিখতে পারেন। মাশাআল্লাহ।
.
মাছিমারা কেরানী। ফুট-ফরমায়েশী লেখা লিখেই মাসকাবার করেন। দিন আনি দিন খান। প্রকাশনার গৃহপালিত পোষা-ধরা লেখক হয়ে দিনাতিপাত করেন এমন কেউ হয়তো পারেন। কিন্তু আমাদের মাওলানা আবদুল্লাহ ফারুক সম্পূর্ণ উল্টো পথের যাত্রী। তিনি একাই একটি সংগঠন। কোনও ছক কাটা রেখা ধরে তিনি জীবনকে চালিত করতে চান না।
.
তার কাব্য প্রতিভাও ঈর্ষণীয়। অবশ্য তিনি কবিতা লেখার চেয়ে, চিরায়ত কবিতাগুলোর রসাস্বনেই বেশি আগ্রহী। তার সুস্বাদ প্রসাদসম্পন্ন রচনাতেই নানা ফুল (কবিতা) থেকে আহরিত মধু– ছড়িয়ে-জড়িয়ে থাকে।
.
তিনি, যাবেন অনেক দূউরে।
তিনি পৌঁছবেন বহু উঁচুতে।
তিনি পাড়ি দেবেন দীর্ঘ পথ।
তিনি হবেন উম্মার রাহবার।
=এটা আমাদের কামনা নয়, দৃঢ় বিশ্বাস। প্রতীতি।
.
আসুন তার সাথে মনোজ্ঞ আলাপচারিতায় শরীক হই।
.
১. লেখালেখির সূচনা কবে থেকে?
= ১৯৯৬ সালে আমি যখন জামিয়া রহমানিয়া মুহাম্মাদপুরে হিদায়াতুন্নাহু জামাতে পড়ি যতোদূর মনে পড়ে তখন থেকেই নিয়মিত দেয়ালিকায় লেখতাম। হাতেখড়ি বলেন আর চর্চা বলেন সম্পূর্ণ দেয়ালিকা ও স্মরণিকা কেন্দ্রিকই ছিলো।
.
২. নিয়মিত লেখালেখি করেন?
= তাদরীস, তালীফ ও সিয়াসত; এ তিনটির সঙ্গে সারা জীবন জড়িয়ে থাকার স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে নিয়মিত লেখালেখি করার চেষ্টা করি। কোনো দিন ছেদ পড়লে ওই দিনটাকেই ধুসর মনে হয়।
.
৩. লেখালেখির ক্ষেত্রে কার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন?
= আমি যার কলঙ্ক, যিনি আমার সৌভাগ্য উসতাযে মুহতারাম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী হাফিযাহুল্লাহ। ছাত্রজীবনের পুরোটা ও কর্মজীবনের সূচনাকালীন সময়ে নিয়মিত হযরতের কাছ থেকে প্রেরণা ও উৎসাহ পেয়েছি।
এছাড়া কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সীরাত বিশ্বকোষ বিভাগের ভূতপূর্ব পরিচালক মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ওমর আলী রহ. ও প্রিয় শিক্ষক, বরেণ্য সাহিত্যিক মাওলানা যাইনুল আবেদীন হাফিযাহুল্লাহু-কে।
.
৪. লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনার প্রেরণা ও আদর্শ কে?
= আবুল হাসান আলী নদভী রহিমাহুল্লাহ।
.
৫. প্রিয় বই
= ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين
.
৬. প্রিয় লেখক
= এ তালিকায় নির্দিষ্ট করে একজনকে দাগাতে পারবো না। আলী নদভী রহ. শিবলী নু‘মানী রহ. ও মাওলানা মঞ্জুর নু‘মানী রহ. প্রত্যেকেই আমার কাছে অসম্ভব প্রিয়।
.
৭. প্রিয় মুহূর্ত
= গোধুলী বেলা। পূব-পশ্চিমে বহমান নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আকাশের বুকে হলদে কিরণের একটু একটু করে প্রস্থানের সেই আনমনা করা মুহূর্তটি খুবই প্রিয়।
.
৮. কোন সময় লিখতে ভালোবাসেন?
= নিস্তব্ধ রাতে।
.
৯. প্রিয় স্থান
= দিল্লী জামে মসজিদের সামনে আবুল কালাম আযাদ রহ.-এর মাকবারা ও তার পাশের বিশাল চত্বর।
.
১০. প্রিয় পর্যটন স্থান
= তাজমহল।
.
১১. স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
= বাংলা ভাষা যেদিন ইসলামী জ্ঞান ও সাহিত্যে সমৃদ্ধ হবে; বুঝবোÑ আমার স্বপ্ন ফিকে হয়নি।
.
১২. প্রিয় রং
= আকাশি নীল।
.
১৩. প্রিয় পাখি
= চাতক। মাঝে-মাঝে নিজেকে চাতক পাখি মনে হয়; কেন? জানি না।
.
১৪. প্রিয় ফুল
= কেয়া। তার গন্ধ নেশা ধরিয়ে দেয়। নাকের কাছে ধরে বুঁদ হয়ে থাকি।
.
১৫. প্রিয় খাবার
= ঘিয়ে ভাজা আলু ভর্তা দিয়ে গরম ভাত। সঙ্গে শুটকির ঝাল।
.
১৬. প্রিয় কবি
= আল্লামা ইকবাল ও ফররুখ আহমদ।
.
১৭. প্রিয় কাজ
= কাছের মানুষটিকে নিয়ে কোনো মরা নদীর তীরে শুকনো বালুর ওপর খালি পায়ে হাটতে। যদিও আজোব্দি হাটা হয়ে ওঠেনি।
.
১৮. সর্বাধিক পঠিত বই
= আলোর পরশ।
.
১৯. প্রিয় মাদরাসা
= দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত।
.
২০. প্রিয় মানুষ
= আমার মরহুমা দাদীজান। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসিণী করুন।
.
২১. প্রিয় ব্যক্তিত্ব
= শায়খুল আরব ওয়াল আযম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.।
.
২২. প্রিয় ফেসবুক লেখক
= ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী
এর বাইরে ওয়ালী উল্লাহ আরমান ও শাকের এহসানুল্লাহর স্ট্যাটাসগুলো ভালো লাগে।
.
২৩. প্রথম লেখা প্রকাশ। কবে কোথায়?
= জাগো মুজাহিদ। ১৯৯৭
.
২৪. এখন কী পড়ছেন?
= মার্জিনে মন্তব্য
.
২৫. এখন কী লিখছেন?
= ডক্টর আয়েদ আল ক্বরনী-এর أسعد المرأة এর অনুবাদ চলছে।
.
২৬. কোন বইটি পড়ে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন?
= لا تحزن। সঞ্জীবনী সুধা বললেও কম হবে। এখনও বিষন্নতা, ক্লান্তি বা দুঃখ ভর করলে ওই সুধা-সমুদ্রে তরতর করে নেমে পড়ি।
.
২৭. কোন বইয়ের ছেলে চরিত্রকে দেখে মনে হয়েছে- ইস, আমি যদি এমন হতাম!
= নসীম হিজাযীর ‘মুয়ায্যাম আলী’। সেনা-পরিবারে জন্ম নিয়ে বৈরী পরিবেশে সাহিত্যচর্চা, আবার দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাহসী ভূমিকা। এ দুইয়ের মেশেলে চরিত্রটি গড়ে ওঠেছে, বিধায় ভালো লাগে।
.
২৮. কোন বইয়ের কোন মেয়ে চরিত্রকে দেখে মনে হয়েছে- ইস, আমার যদি এমন কেউ হতো!!
= সাতকাহনের ‘দীপাবলী’ এক সময় খুবই মিস করতাম। এখন আর নয়। নসীম হিজাযীর সবক’টি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় মেয়ে চরিত্র এখনো কামনা করি।
.
২৯. জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?
= দারুল উলূম দেওবন্দে দাখেলা পাওয়ার মুহূর্ত।
.
৩০. জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা কী?
= প্রথম অনুবাদকর্ম ‘ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ’ যখন প্রকাশিত হয়।
.
৩১. জীবনের সবচেয়ে মজার ঘটনা কোনটা?
= বিয়ের আক্বদের প্রাক্কালে একজন মুরুব্বী আত্মীয়ের পরামর্শে কবুল বলতে দেরি করেছিলাম। যার পরিপ্রেক্ষিতে উসতাযে মুহতারাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারূক সাহেবের কাছ থেকে যেই ঝারি খেয়েছিলাম; সেই বোকামি মনে পড়লে এখনো আনমনে হেসে ওঠি।
.
৩২. জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা শেয়ার করুন।
= আমার প্রথম কন্যার ইনতিকাল। নাম ছিলো, হুমায়রা আফরোজ তাবাসসুম। ১ লা মার্চ ২০০৯।
.
৩৩. দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত করা হয়?
= জ্বি। তবে কাক্সিক্ষত পরিমাণে হয় না, বিধায় নিজের ওপর নিজেই বিরক্ত।
.
৩৪. তাহাজ্জুদ আদায় করা হয়?
= অনিয়মিত। নিয়মিত যেনো হয়, তার জন্যে দু‘আ চাই।
.
৩৫. জীবনের লক্ষ্য কী?
= আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম হোক।
.
৩৬. এই যে লেখালেখি, এ নিয়ে জীবনের সমাপ্তি বেলায় কী দেখতে চান?
= বাংলা সাহিত্যকে রাম ও বামের কবল থেকে উদ্ধার করে একটি পরিণত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেখা।
.
৩৭. কোন ধরনের বই পড়তে পসন্দ করেন এবং কেন করেন?
= ইতিহাসের যে কোন বই ভালো লাগে। বিশেষ করে যেসব বই ইতিহাসের দর্পণে বর্তমানকে নিরীক্ষণ করে।
.
৩৮. শখ কী?
= ঘাষের মাদুরের ওপর খালি পাঁয়ে হাটাহাটি।
.
৩৯. আমাদের নবী ছাড়া কোন নবীকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= হযরত আইয়্যূব আলাইহিস সালাম। অসাধারণ কষ্ট স্বীকার, সঙ্গহীন জীবনযুদ্ধ ও চূড়ান্ত পরিণতিতে ধৈর্যের পুরস্কারপ্রাপ্তির কারণে।
.
৪০. কোন সাহাবীকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। সত্যের ওপর অবিচল অবস্থান ও ঈমানী প্রত্যয়ের কারণে।
.
৪১. কোন তাবেয়ীকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= হযরত উয়াইস আল ক্বরনী রহ.। তাবেয়ী হয়েও যিনি ছিলেন সাহাবীদের কাছেও বরণীয়।
.
৪২. কোন ইমামকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= ইমামে আ‘যম আবূ হানীফা রহ.। ইসলামী শরীয়তকে এতোটা সামগ্রিক ও দূরদৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, তার প্রখর বুদ্ধিমত্তা আমার কাছে কিয়ামত পর্যন্ত আধুনিক মনে হয়।
.
৪৩. কোন বুযর্গকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ.-কে। একজন মুজাদ্দিদের ভূমিকা পালন না করলে আমরা ভারতবর্ষীয় মুসলমানগণ কোথায় থাকতাম, তা কল্পনা করতেও শিউরে উঠি।
.
৪৪. আমাদের আকাবিরদের মধ্যে কাকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ.। ইসলামের হিফাযত, মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার সংরক্ষণ, আযাদী আন্দোলন সর্বোপরি দ্বীন, দেশ ও দশের জন্যে তিনি যেই ভূমিকা রেখেছেন; তা কখনই ভুলতে পারবো না।
.
৪৫. কোন বীর মুজাহিদকে বেশি ভালো লাগে? কেন?
= হযরত হাফেয যামেন শহীদ রহ. ও ইমাম শামেলী রহ.। এককথায় বলতে পারবো না।
.
৪৬. প্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কে?
= নুসরাত ফতেহ আলী খাঁন।
.
৪৭. প্রিয় সঙ্গীত
= খুদ যো না থে রাহ পর আওরোঁকে হাদী বনগায়ে;
কিয়া নযর থী, যেস নে মুর্দোঁ কে মাসীহা কর দিয়া।
.
৪৮. প্রিয় কবিতা
= উর্দূতে- সারে জাহাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্তাঁ হামারা।
= বাংলায়- যেদিন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।
.
৪৯. প্রকাশিত বই
= ২৯ টি।
.
৫০. প্রকাশনী
= মাকতাবাতুল আযহার, আলিফ বুকস, মাকতাবাতুল ইসলাম, এদারায়ে কুরআন ও মাকতাবাতুদ দাওয়াহ।
.
আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্যে, আনেক অনেক জাযাকাল্লাহ।
-আপনাদেরকেও।
.
আজকের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছে:
মুফতী Raihan Khairullah
.
আমরা যারা তার সহকারী হিশেবে ছিলাম:
Arif Khan Sa’ad
Nuruzzaman Nahid

একক্লিকে:
 আমাদের সাক্ষাৎকার

শায়েখ Atik Ullah 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *