ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ০৮ সফর ১৪৪১

খ্রিস্টান ভাই-বোনদের প্রতি একজন দরদী দাঈ’র ভালোবাসার বার্তা

খ্রিস্টান ফাদারকে দাওয়াত দিচ্ছেন মুফতি যুবায়ের আহমাদ দাঃবাঃ

প্রিয় খ্রিস্টান ভাই ও বোনেরা! আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর দয়ায় ভালোই আছি।
পর সমাচার এই যে, আপনাদের শুভাকাক্সক্ষী এক দরদী ভাই বলছি। আমি আপনাদেরকে ভালোবাসি, মুহাব্বত করি। কারণ আপনারা হলেন আমার রক্ত সর্ম্পকের ভাই ও বোন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম আমাদের ও আপনাদের আদি পিতা। হাওয়া আলাইহিস সালাম আপনাদের ও আমাদের আদি মাতা। বাবা-মার সন্তানগণ যেমন একে অপরের ভাই বা বোন হয়, সে হিসেবে আপনিও আমার ভাই বা বোন। ভাই বা বোন যদি কোনো বিপদে পড়ে, আর রক্ত সম্পর্কীয় ভাই যদি তা জানতে পারে, এমতাবস্থায় সেই ভাইয়ের দায়িত্ব কী? অবশ্যই তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এটি তার মহান মানবিক দায়িত্ব।
এমনিভাবে আমি ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আর এটি আমি বিশ্বাসও করি যে, আপনি বর্তমানে যে বিশ্বাস ও মতাদর্শ লালন করছেন, তা আপনাকে চিরকালের জন্য মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মৃত্যুর পর একটি কঠিন ও স্থায়ী মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছেন। আর সেই মহাবিপদ হল জাহান্নাম; এই মহাবিপদকে কেউ বলে নরক। হে ভাই ও বোন আমার! চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দেয়ার আগে একটি বারও কি যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন মনে করলেন না? বংশ পরম্পরায় লালিত বিশ্বাস ও মতাদর্শ নিয়ে যদি আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে যতেœর, সাধের প্রাণবায়ু বের হয়েই যায় তবে আমার সামনে আসলেই কোন সত্য অপেক্ষা করছে তা কি বোঝা অথবা চিন্তা করার সময়টুকুও আমি পেলাম না! চিরদিনের সেই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য, হৃদয়ের গভীর আকুতি নিয়ে আমার ব্যথাময় মনে আপনাদের জন্য আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার কলম ও নামাজ অন্তের দোয়ায় বহমান চোখের জলের কালির ক্ষুদ্র অবলম্বনে আজ আপনাদের প্রতি এই ক্ষুদ্র অথচ মহামূল্যবান পত্রখানি লিখতে বসলাম।
মাঝে মাঝে আপনাদেরকে নিয়ে ভাবি- হায়! আপনারা কতই না ভালো মানুষ, কতই না সুন্দর মানুষ! আপনারা বিভিন্নভাবে মানুষের অনেক সেবা করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের উপকার করেন। আপনাদের মধ্যে অনেক গুণ আছে যা হয়তো আমার নিজের মধ্যেই নেই। কিন্তু, হায় আফসোস! এত সব গুণাবলি, মেহনত, কষ্ট মৃত্যুর পর আপনাদের কোন উপকারে আসবে না। কারণ, আপনাদের কাছে প্রত্যক্ষ সবকিছুই আছে, নেই শুধু পরোক্ষ মহামূল্যবান একটি সম্পদ। সেটি হল খাঁটি বিশ্বাস বা ঈমান। ঈমান না থাকার কারণে আপনাকে মৃত্যুর পরের অনন্ত কালের জীবনে জ্বলতে হবে চিরস্থায়ী জাহান্নামে, যে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। একটু কি ভেবে দেখেছেন কীভাবে জ্বলবেন সেই আগুনে? কীভাবে সহ্য করবেন জাহান্নামের সেই ভয়ানক আগুন? দুনিয়াতে একটি সাধারণ মোমবাতির আগুন সহ্য করতে পারি না, তাহলে জাহান্নামের ঐ চিরস্থায়ী আগুন কীভাবে সহ্য করবেন? যা দুনিয়ার আগুন থেকে লক্ষ-কোটি গুণ শক্তিশালী। যা প্রতি মুহূর্তে এই শরীরকে ৭০বার করে ভষ্ম করে দিবে। এসব বিষয় নিয়ে যখন ভাবি, তখন আমার অন্তর অস্থির হয়ে ওঠে, ব্যাকুল হয়ে যায়। মন থেকে আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করি; হে আমার চির দয়াময়, করুণাময় আল্লাহ! আমার খ্রিস্টান ভাই বোনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। তাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। তাদেরকে আপনার প্রতি ঈমান আনার তৌফিক দান করুন। আপনাদের জন্য আল্ল¬াহর দরবারে চোখের পানি জমা করি। উদ্দেশ্য হলো আপনারা যেন জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে যান।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আপনারা খুব সহজেই জান্নাতে যেতে পারবেন। শুধু একটু বিশ্বাস ও আমলের পরিবর্তন করতে হবে। আপনারা আল্লাহকে তো মানেন, কিন্তু তার সাথে সাথে শিরকও করেন। অথচ আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করা, অন্য কারো কাছে কিছু চাওয়াকে সৃষ্টিকর্তা-পালনকর্তা-ধ্বংসকর্তা আল্লাহ্ সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন। সবকিছুর মালিক ও প্রভু আল্লাহ তা‘আলা সর্বশেষে নাযিলকৃত আসমানি কিতদাব আল কোরআনের সূরা ইখলাসের ১ম আয়াতে বলেন- ‘বলুন, আল্লাহ এক।’ আপনারা তো ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সাথে শরিক (অংশীদারি সাব্যস্ত) করেন। ২য় আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- ‘আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষি নন।’ আমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষি। আল্লাহর কোনো সন্তান নেই। আপনারা বিশ্বাস করেন ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর পুত্র। এই বিশ্বাসটি ভুল। তিনি আল্লাহর বান্দা ও প্রেরিত দূত (বার্তাবাহক)। হে আমার প্রিয় ভাই ও বোন! আমি আপনাদেরকে এক মহাসত্যের দাওয়াত দিচ্ছি- আপনাদের মনের এই ভুল বিশ্বাস অন্তর থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। আর বিশ্বাস স্থাপন করুন- আল্লাহ্র কোনো সন্তান নেই। যীশু বা ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ্র রাসূল মাত্র। ৩য় আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- ‘আল্লাহ কারো সন্তান নন। আল্লাহর সমকক্ষ কেউ নেই।’ সূরা এখলাস-১-৩
এই ক্ষেত্রেও আপনারা একটি ভুল বিশ্বাস ধারণ করে আছেন। ভুল বিশ্বাসটি হলো- যীশু বা ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ্র সমকক্ষ মনে করেন। আল্লাহ তা‘আলা যা বলেছেন নিশ্চিতভাবে তাই সঠিক, আর আপনারা যা না জেনে বিশ্বাস করছেন নিশ্চিতভাবে তা ভুল। আমি আপনাদের কল্যাণের জন্য বলছি, আপনারা বিশ্বাস করুন- আল্লাহর সমকক্ষ কেউ নেই। যীশু বা ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। যীশু বা ঈসা আলাইহিস সালাম আমাদের কোনো উপকার করতে পারবেন না, আমাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারবেন না। উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতার মালিক শুধুমাত্র আল্লাহ।
আপনারা পূর্ব হতে বিশ্বাস করে এসেছেন যে, যীশু শুলিতে চড়ে সকলের পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই বিশ্বাসও সম্পূর্ণ ভুল ও মনগড়া। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে পাকে বলেন-
“অথচ তারা না তাকে হত্যা করেছে আর না শুলিতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছি।” সূরা নিসা-১৫৭
আল্লাহ বলেছেন, ঈসা আলাইহিস সালামকে শুলিতে চড়ানো হয়নি। অথচ আপনারা বলছেন উনাকে শুলিতে চড়ানো হয়েছে। আপনাদের এই বিশ^াস সঠিক নয়। বরং আল্লাহ তাআলা যীশু বা ঈসা আলাইহিস সালামকে তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
বরং আল্লাহ তা‘আলা ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। সূরা নিসা-১৫৮
আমি আপনাদেরই কল্যাণের জন্য আপনাদেরকে করজোরে অনুরোধ করে বলছি- এই বিশ্বাসগুলো পরিহার করুন।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এবার আপনাদেরকে ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বাস্তব ও সত্য বাণী শোনাবো, যা আল্লাহ্ তা‘আলা নিজে বলেছেন-
ঈসা আলাইহিস সালাম যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করলো, তখন বললো, আমি তোমাদের কাছে প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা যে সকল বিষয়ে মতভেদ করছ তা ব্যক্ত করার জন্যে এসেছি। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা অনুসরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ই আমার ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তাঁরই ইবাদত কর। এটাই হল সরল পথ। সূরা যুখরুফ ৬৩-৬৪
ত্রিতত্ত¡বাদকে খন্ডন করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
তারা কাফের যারা বলে যে মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বনী ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
নিশ্চয়ই তারা কাফের যারা বলে আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয় তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে। সূরা মায়েদা ৭২-৭৩
 
ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর জিজ্ঞাসা
ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর জিজ্ঞাসা করেন। শুনুন, আল্লাহ কী বলেন-
যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন, আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথাও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের কর্ম সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত। (সূরা মায়েদা ১১৬-১১৭)
 
ঈসা আলাইহিস সালাম -এর অলৌকিকতা
 
যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতে ও পরিণত বয়সে এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি আমার আদেশে কাদামাটি দিয়ে পাখির প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখি হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করে তুলতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমার থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললো এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।
আর যখন আমি হাওয়ারীদের মনে জাগ্রত করলাম, আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগতশীল।
(সূরা মায়েদা ১১০-১১১)
প্রিয় খ্রিস্টান ভাই ও বোনেরা! আমাদের মধ্যে আরো একটি ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে। তা হলো, আপনারা মনে করেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মুসলমানদের নবী। আমরা মুসলমানদের অনেকেই তাই মনে করি। বাস্তবতা হলো তার উল্টো। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম,হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল মানুষের নবী। আপনার আমার সকলের ¯্রষ্টা মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
বলে দাও, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল। সূরা আরাফ-১৫৮
 
এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ‘নাস’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, ‘নাস’ অর্থ মানুষ। আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সকল মানুষের নবী। অতএব, তিনি আপনারও যেমন নবী, আমারও নবী। এই নবীকে জানা, মানা আমার জন্য যতটুকু জরুরি, আপনার জন্যও ঠিক ততোটুকুই জরুরি।
আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে নবীদেরকে পাঠিয়েছেন আল্লাহ্র বান্দাকে আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক করানোর জন্য। নিষ্পাপ বান্দা দুনিয়ায় এসে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে পাপে লিপ্ত হয়ে যায় । নবীগণ এসে পথভোলা বান্দাদেরকে সত্য, সুন্দর ও সফলতার পথে ডাকেন এবং কীভাবে চলতে হবে তা দেখিয়ে দেন। সকল নবীই সত্য ও সঠিক। তবে কোন স্থানে এক নবীর পরে অপর কোনো নবী আগমন করলে পরের সেই নবীকে মানতে হয়। পূর্বের নবীকে সম্মান দিতে হবে, তবে অনুসরণ করা যাবে না। এই বিষয়ে একটি উদাহরণ দিতে চাই। যেমন ধরুন, বাংলাদেশের বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন মাননীয় শেখ হাসিনা। এর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এখন আমরা কাকে মানবো? বেগম খালেদা জিয়াকে যদি প্রধানমন্ত্রী মানি তাহলে কি হবে বলুন? সবাই আমাকে বোকা বলবে। অবশ্যই শেখ হাসিনাকে মানতে হবে। খালেদা জিয়াকে সম্মান জানাবো ও বিশ্বাস করবো তিনিও এক সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তবে এখন নেই। ঠিক তেমনিভাবে আমরা ঈসা আলাইহিস সালামকে সম্মান করবো। বিশ্বাস করবো যে, তিনি নবী ছিলেন। এখন তার নবুওয়াতের কার্যকারিতা চলবে না। এখন শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের কার্যকারিতা চলবে। শুধু তাকেই মানতে হবে।
আমার প্রিয় ভাই বোনেরা! আপনাকে ও আমাকে আল্লাহ্ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করি ও তার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্ ও রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।” আলে ইমরান-১৩২
 
আমরা সবাই আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করতে চাই। আপনি কি আল্লাহ্কে ভালোবাসতে চান? আল্লাহ্র কাছে প্রিয় হতে চান? তাহলে আল্লাহ্র দেখানো পথ আপনাকে বলে দিচ্ছি। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।” আলে ইমরান-৩১
আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো, আপনারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করুন। তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন যে, তিনি আপনাদেরও নবী। আল্লাহ্কে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে মুখে ও অন্তরে স্বীকার করে নিলেই ইনশা আল্লাহ্ মুক্তি পাবেন ।
আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আমি আপনাদের সাথে আরো একটি ভুল ধারণার কথা আলোচনা করবো। তা হলো, কুরআন শরীফের ব্যাপারে। আপনারা মনে করেন আল কুরআন শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ। আমরা মুসলিমরাও অনেকে মনে করি, আল কুরআন শুধুমাত্র আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ এবং শুধুমাত্র আমাদের জন্যই নাযিলকৃত। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আল্লাহ তা‘আলা নিজেই বলছেন যে, কুরআন সকল মানুষের জন্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা সকল মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” (সূরা বাকারা-১৮৫)
 
এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- কুরআন সকল মানুষের জন্য। আপনি মানুষ, আমিও মানুষ। অতএব, কুরআন আপনার জন্যও, আমার জন্যও। কুরআন হলো আল্লাহর বাণী। এই কিতাব আল্লাহর বাণী হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কোরআনের শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই, পরহেজগারদের জন্য পথ প্রদর্শনকারী।” (সূরা বাকারা-২)
অন্যত্র আল্লাহ্ তা‘আলা চ্যালেঞ্জ করেছেন-
“এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আসো। তোমাদের সমস্ত সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও এক আল্লাহ্কে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।” (সূরা বাকারা-২৩)
এবার শুনুন কুরআনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আল্লাহ্ তা‘আলা জিব্রাইল ফেরেশ্তার মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এই কুরআন অবতীর্ণ করেন। নবীজী এই কুরআন অন্তরে সংরক্ষণ করেন অর্থাৎ মুখস্থ করেন, এর উপর আমল করেন, সকল মানুষের কাছে এই কুরআনের বার্তা পৌঁছান। নবীজীর কাছ থেকে তার সঙ্গীগণ মুখস্ত করেছেন। তাদেরকে সাহাবী বলা হয়। তারা তার উপর আমল করেছেন। এভাবে একের পর এক আমাদের কাছে এই কুরআন পৌঁছেছে। ছোট ছোট বাচ্চারা এই কুরআন মুখস্ত করে। আল্লাহ তা‘আলা এই কুরআনকে সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“আমি স্বয়ং এ উপদেশমূলক গ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষণকারী।” সূরা হিজর-৯
 
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এই কুরআন আপনার জন্যই আপনার মালিক পাঠিয়েছেন। একবার পড়ে দেখুন না, আপনার মালিক আপনাকে কী বলেন তা একটিবারের জন্য জানলেন। কুরআনের যতটুকু জানলেন তার উপর আমল করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ্ মুক্তির পথ পেয়ে যাবেন, সফলতা অর্র্জন করতে পারবেন।
আমাদের মধ্যে ইসলামকে নিয়ে আরো একটি ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। আপনারা মনে করেন ইসলাম শুধু মুসলমানদের ধর্ম। আমরা অনেক মুসলিমও তাই মনে করি। প্রকৃতপক্ষে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ইসলাম শুধু মুসলমানদের ধর্ম নয়। ইসলাম হলো সকল জাতির সকল মানুষের ধর্ম। ইসলাম অর্থ হলো শান্তি ও মালিকের কাছে আত্মসমর্পণ। যারা শান্তির পথে চলে, এক আল্লাহ্র কাছে আত্মসমর্পণ করে, তাকে মুসলমান বলা হয়। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম একটিই আর তা হলো ইসলাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“নিঃশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। আর যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে (সে জেনে রাখুক যে), নিশ্চয় আল্লাহর দ্রæত হিসাব গ্রহণকারী ” সূরা আলে ইমরান-১৯
যারা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো মতাদর্শকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে, তা আল্লাহ্র কাছে কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না, সে ব্যক্তি হবে চরম ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত।” সূরা- আলে ইমরান-৮৫
আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত ধর্ম একটিই। আর সেটাই হলো ইসলাম।
দুনিয়াতে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য যা কিছু আসে তা সবার জন্য সমান হয়। যেমন আলো, বাতাস, বৃষ্টির পানি ইত্যাদি সবকিছু আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য আসে। তাই এগুলোর মধ্যে কোনো ভাগাভাগি হয় না। আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কখনও এমন ঘোষণা অথবা ফায়সালা হয় না যে, এই আলো-বাতাস-বৃষ্টির পানি শুধু মুসলিম জাতির জন্য, অন্যান্য জাতির জন্য নয় অথবা শুধু হিন্দু জাতির জন্য, মুসলিম জাতির জন্য নয়। ঠিক ইসলামও আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে দুনিয়ার সকল জাতির মানুষের জন্য, তার মধ্যে কোনো ভাগ নেই। ইসলাম সবার জন্য সমান। সকলকে এই ধর্ম গ্রহণ করতে হবে, পালন করতে হবে ও সেই সাথে প্রচারও করতে হবে।
ইসলাম ছাড়া আর কোন ধর্ম আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হিন্দু ধর্ম আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। খ্রিস্টধর্মও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যারা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে। তারা পরকালে মৃত্যুর সময় ও মৃত্যুর পরে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা আল্লাহ্র কথা।
দেখুন ভাই! আমাদেরকে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তার কাছ থেকেই আমরা এসেছি। তিনি আমাদের সব বিষয়ে খুব ভালো জানেন।
আমার খ্রিস্টান ভাই ও বোনেরা! আমি আপনাদের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করছি, আপনারা মুসলমান হয়ে যান। ইসলাম গ্রহণ করুন। আপনাদের কল্যাণের জন্যই বলছি। অন্যথায় আপনারা পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। আমি চাই না আপনি জাহান্নামের জ¦ালানি হন।
প্রিয় ভাই ও বোন! ইসলাম গ্রহণ না করলে আপনারা চিরকাল জাহান্নামে জ্বলবেন, এটা সাধারণ কথা নয়। চিরকাল, যার শুরু আছে শেষ নেই। একটি বারও কি বিষয়টি ভেবে দেখেছেন? দুনিয়ার একটি মোমবাতির আগুনে অল্প সময় আঙ্গুল ধরে রাখা যায় না, তাহলে পুরা জীবন কিভাবে জ্বলবেন।
একটু ভাবুন, একটু ভেবে দেখুন। আমি আপনাদেরকে ভালোবেসেই বলছি, আপনাদের কল্যাণের জন্যই বলছি।
আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানুন, পড়–ন, বুঝুন এবং তা গ্রহণ করুন। আপনারা পরকালের ক্ষতি থেকে নিজেকে হেফাজত করুন। ইসলাম গ্রহণ না করে মৃত্যুবরণ করলে, কি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে তা আপনার জানা নেই। এ বিষয়ে কুরআনের কিছু বাণী আপনার খেদমতে পেশ করছি। তাহলে কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
এই দুই বাদী বিবাদী, তারা তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্ক করে। অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে।
২০/ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে।
২১/তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি।
২২/তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে দহন শাস্তি আস্বাদন কর। সূরা হাজ-১৯,২২
 
আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে বের করুন, আমরা সৎকাজ করবো, পূর্বে যা করতাম তা আর করবো না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এত বিরাট এক সময়কাল দেইনি, যেন যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমণ করেছিল। অতএব শাস্তি আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা ফাতির-৩৬-৩৭
এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমুহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী। সূরা নিসা-৫৬
 
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।
তাদের জন্যে নরকের আগুনের শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি। সূরা আরাফ ৪০-৪১
 
যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করবো।
সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো দুনিয়াতে চক্ষুষ্মান ছিলাম। সূরা তাহা-১২৪,১২৫
 
হে আমার প্রিয় খ্রিস্টান ভাই ও বোনেরা! আপনারা যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তাহলে পাবেন অন্তরের প্রশান্তি, যা দুনিয়ার কোথাও খুঁজে পাবেন না। এর সাথে পাবেন চিরস্থায়ী সফলতা। মৃত্যুর পরে পাবেন জান্নাত। লাভ করবেন অনন্তকাল সুখময় জীবন। এবার শুনুন জান্নাত সম্পর্কে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
তোমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে।
তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।
যে জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছো, এটা তোমাদের কৃতকর্মের ফল।
তথায় তোমাদের জন্যে আছে প্রচুর ফলফলাদি, তা থেকে তোমরা আহার করবে। সূরা জুখরুফ-৬৯-৭৩
নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রæত জান্নাতের সুসংবাদ শোন।
ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে তোমরা দাবী কর।
এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন। সূরা হামিম সাজদাহ-৩০-৩২
 
হে আমার প্রিয় খ্রিস্টান ভাই ও বোনেরা! আমার কথায় যদি কেউ মনে ব্যথা পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন। আরো একবার ক্ষমা করবেন এই সত্য বার্তাটি আপনার কাছে পৌঁছাতে দেরি করার জন্য। আর আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি আপনাদের দুশমন নই, আপনাদের প্রকৃত বন্ধু, আপনার চিরকল্যাণকামী। আমার ও আপনার প্রকাশ্য দুশমন হলো শয়তান। সে আপনাকে জান্নাতের পথে যেতে দিতে চায় না। অন্তরে বিভিন্ন কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে সত্য গ্রহণে ও সত্য পথে চলতে বাঁধা দেয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
 
হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চিতরূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সূরা বাকারা ২০৮
 
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়। সূরা ফাতির-৬
 
আমি আপনার কাছে আমার মালিকের যেই বার্তা পৌঁছালাম তার বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না। এর উত্তম বিনিময় তো আল্লাহর কাছেই জমা থাকবে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আপনাদের কাছে এই পত্রটি লিখছি, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান, আল্লাহর ঘর কাবা শরীফের সামনে বসে এবং যেই সময়টিতে লিখতে শুরু করেছি, সেটিও বছরের শ্রেষ্ঠ সময়, যা রমজান মাসের শেষ দশক বলে পরিচিত। পত্রটি লেখা শুরু করার আগে আপনাদের জন্য মহান আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে অনেক দো‘আ করেছি। আল্লাহ্র কাছে আপনাদের হেদায়াতের জন্য আমার চোখের পানি ফেলে দু‘আ করেছি, এখনো করছি। সামনেও করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ্ যেন আপনাদেরকে সঠিক বুঝ দান করেন।
মৃত্যুর পর জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচার তৌফিক দান করেন।
দেখুন, আপনি যদি মুসলমান হয়ে যান আমার জাগতিক কোন লাভ নেই। আপনি আমাকে একটি টাকাও দিবেন না, এর আশাও করি না। শুধু আল্লাহ্কে খুশি করার জন্য, আপনার পরকালের মুক্তির আশায়, এই পত্রখানি লেখা।
এবার বলতে পারেন- আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই, তাহলে কী করতে হবে? আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না। আপনি বিশ্বাস করুন- আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল। আর মুখে স্বীকার করুন-
اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمد عبده ورسوله
উচ্চরণঃ-“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু”
অর্থঃ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে- আল্লাহ্ ছাড়া আর কেহ পূজা/উপাসনা পাবার উপযুক্ত নয়। আল্লাহ্ এক, তার কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে- হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা’আলার বান্দা ও রাসূল।
আর কোরআন ও সুন্নাহ মেনে আল্লাহ্র নির্দেশগুলো মেনে চলবেন। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন, রমজান মাসে রোজা রাখবেন। নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নত মেনে চলার চেষ্টা করবেন।
 
কেউ বলতে পারেন, ‘‘আপনি আমাদের ধর্ম পরিবর্তন করাতে চান?’’ আমি বলবো- আপনাকে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে না। আপনাকে আপনার প্রকৃত ও পূর্বধর্মে ফিরে আসার দাওয়াত দিচ্ছি। আমাদের সকলের আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম মুসলিম ছিলেন ।
 
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুল (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানই ফিতরত (ইসলাম)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার মাতা-পিতা নিজেদের সংশ্রব দ্বারা তাকে ইহুদি করে দেয় বা খ্রিস্টান করে দেয় অথবা অগ্নি উপাসক করে দেয়। বুখারি, মুসলিম
 
পরিশেষে আহ্বান করবো। আপনার এই শুভাকাঙ্ক্ষী ভাইকে, তার পেশ করা অনুনয় আকুতিকে কবুল করে, তার এই অস্থিরতাকে কিছুটা হলেও লাঘব করবেন। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
 
বিনীত নিবেদক
আপনার পরম হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু
মুফতি জুবায়ের আহমাদ 
পরিচালক, ইসলামী দাওয়াহ ইন্সটিটিউট
মুগদা , মান্ডা শেষ মাথা , ঢাকা ।
লেখার স্থান: মক্কা মুকাররামা
সময়- ৫:২৬ মিনিট
২৯ রমজান ১৪৪০ হি:
০৩/০৬/২০১৯ ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

December 2019
S S M T W T F
« Nov    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
shares