বৃহস্পতিবার, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

প্রশাসনের মূলে দুর্নীতি আয়া বুয়া বলির পাঠা – সাখাওয়াত হোসেন রাজি

সাখাওয়াত হোসেন রাজিঃ পারস্যের বাদশাহ নওশের। একদিন মনস্থ করলেন বনভোজনে যাবেন। বাদশার ইচ্ছে বলে কথা। উযির-নাযির পাইক-পেওদা সবাই তৈরি। বিশাল কাফেলা। যথাসময়ে গিয়ে পৌঁছলেন সবুজ গাছ-গাছালি ঘেরা মনোরম এক পরিবেশে। নানা প্রজাতির পাখির কলরব। বন্য হরিণের ছুটোছুটি আর লুকোচুরি। সব মিলিয়ে যেন স্বর্গীয় আমেজ।
ইতোমধ্যে সেবক একটি হরিণ শিকার করে নিয়ে আসল। বাদশাহ বেশ খুশি। ভালোই হল, হরিণের গোশত দিয়েই ভোজন উৎসব হবে।
ব্যাপক হৈ চৈ রে রে করে হরিণ জবাই করা হলো। কাবাব তৈরি হবে। বাদশাহ পাশেই কুরসিতে বসে আনন্দঘন এই মুহূর্তটি উপভোগ করছেন।
হঠাত ঘটে গেল এক বিপত্তি। সেবকদের মুখ শুকিয়ে আসছে। উযির-নাযির সকলেই পেরেশান। আচমকা আশায় গুড়েবালি। সব মশলাই আনা হয়েছে। আনা হয়নি লবণ। লবণই তো আসল। লবণ ছাড়া কি চলে।
উযিরে আযম সবাইকে শান্ত করলেন। বললেন, কোন চিন্তা নেই। আমি ব্যবস্থা করছি। একজন সেবককে ডেকে বললেন, পাশের গ্রাম থেকে লবণ নিয়ে আস। বাদশাহ থামিয়ে দিলেন সেবককে। কাছে ডেকে বললেন, খবরদার! লবণের মূল্য দিয়ে দিও। ফ্রি লবণ এনে জুলুমের বীজ বপন করবে না।
সকলেই বাদশার দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। একজন উযির এগিয়ে গিয়ে বলল, জাহাঁপনা! আপনার রাজ্য সমৃদ্ধশালী। এতটুকু লবণ ফ্রি আনলে প্রজাদের উপর জুলুম হবে না।
বাদশাহ বললেন, শোন! সব জুলুম-ই প্রথমে ছোট থাকে। বাদশাহ যদি একটু লবণ ফ্রিতে আনে, প্রজারা মটকিসহ নিয়ে আসা বৈধ মনে করবে। বাদশাহ যদি মটকিসহ ফ্রিতে আনা বৈধ মনে করে, প্রজারা ফ্যাক্টরিসহ আত্মসাৎ করে ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

July 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
shares