শুক্রবার, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

যে সংবাদে হৃদয়ে রক্ত ঝরে!! পালিয়ে আসা ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীর কিছু কথা

১২ জন মিলে ধর্ষণের পর ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবোনা, বাংলাদেশে চলে যাব’ -পালিয়ে আসা ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারী।
.
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে এখনো পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। 
বনে জঙ্গলে লুকিয়ে যারা বাঁচতে পেরেছেন তারাই এখন আসছেন বলেই জানাচ্ছে আশ্রয়প্রার্থী নারী পুরুষেরা।
.
শুরুর মতো ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের ঢল এখন না থাকলেও রোহিঙ্গা নারী পুরুষ আর শিশুরা আসছে ছোট ছোট দলে।
এদের বেশির ভাগই হারিয়েছেন পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য।
নিজেরাও কেউ কেউ বর্বর নির্যাতনের শিকার।
.
টেকনাফে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা শাহপরীর দ্বীপে বিবিসি বাংলার সাথে কথা হয় মংডু’র ২০ বছর বয়সী আসমার সঙ্গে।
গত মঙ্গলবার পনের জনের একটি দলে বাংলাদেশে ঢুকেছেন আসমা।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
.
আসমা জানান, মিয়ানমারে সেনা সদস্যরা তার স্বামী ও ভাইকে হত্যা করে আর তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন।
.
তার কথায়, ১০/১২ জন সৈন্য মিলে আমাকে ধর্ষণ করে।
কি যে কষ্ট, সহ্য করতে পারছিলাম না।
ওদের অত্যাচারে অনেক মেয়ে মরে গেছে। আমাকেও যখন মেরে ফেলতে চাইল,
তখন বাচ্চা দু’টোকে দেখিয়ে ওদের পা জড়িয়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম।
বললাম কাউকে বলবো না বার্মায় কী হয়েছে। বাংলাদেশে চলে যাব এখনি।
.
কাকুতি মিনতি আর ছোট্ট দু’টি বাচ্চা দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে ১৫ দিন জঙ্গলে কাটান আসমা। সঙ্গে ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই আর দুই সন্তান।
.
কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পথেই মারা গেছে তার চার বছর বয়সী বড় ছেলেটি।
এক সন্তান আর ভাইকে নিয়ে বহু কষ্টে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি।
.
আসমা বলেন, হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলে গেছে। এদেশে এসে যে সাহায্য পেয়েছি, নিজের দেশে তা পাইনি।
বার্মার অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের বলে, সেদেশ শুধু তাদের, মুসলমানের নয়।
.
মংডুর আরেক অধিবাসী রফেকা বলছিলেন, তার স্বামীর গলা কেটে ফেলেছে সেখানকার অমুসলিম সম্প্রদায়ের অস্ত্রধারীরা।
আর তার ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
.
তিনি দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। রাখাইন থেকে তরুণী মেয়েরা অনেকেই আসতে পারেনি বলেও জানায় রফেকা।
.
বলেন, প্রতিদিনই ধরপাকড় চলে, সুন্দরী মেয়েদের তুলে নিয়ে জুলুম করে মিলিটারিরা। তারপর হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়।
.
অত্যাচারের কারণে বছর খানেক আগে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল রফেকার পরিবার। রফেকা জানান, আসার আগে কয়েকদিন তারা দিনের বেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন আর রাতে বাড়িতে যেতেন।
.
রফেকার বিবরণে অত্যাচার ও সহিংসতার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়েছিল যে গ্রামের সবাই যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে।
.
রফেকা বলেন, মগরা আমাদের প্রতিনিয়ত জ্বালায়।
বাড়িতে হানা দেয়। পুরুষদের ধরে নিয়ে যায়।
মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় অত্যাচার, জুলুম করে।
আমার ভাবীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। মেরে ফেলার আগে তাকে জুলুম করে (ধর্ষণ) মগ মিলিটারিরা। হাত-পা কেটে ফেলে।
.
স্বামী হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে আট দিন হেঁটে বাংলাদেশে ঢুকেছেন রফেকা।
.
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নারীরা অত্যাচার ও নির্যাতনের যে বিবরণ দিচ্ছে, তা বেশিরভাগ রোহিঙ্গার বক্তব্যে নির্যাতনের চিত্র একই রকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

February 2021
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728  
shares
%d bloggers like this: