Today is Sunday & October 20, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

কওমী মাদরাসা সংস্কারের আগে নিজেকে সংস্কার করুন

কওমী মাদরাসা সংস্কারের আগে নিজেকে সংস্কার করুন

কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক চাঁদা করলে সেটা ভিক্ষাবৃত্তি৷ কওমী মাদরাসা লিল্লাহ বোর্ডিং চালালে সেটা হয় ভিক্ষুকের কেন্দ্র৷ অথচ সুফফা মাদরাসার নিয়ম-কানুন, খাওয়া-দাওয়া কেমন ছিলো সেই ইতিহাস আপনি জানেন না৷ তাহলে নিজেকে ইসলামী স্কলার দাবি করার মর্ম কী? একসময় দ্বীনি মাদরাসা পরিচালিত হতো মুসলিম শাসকদের অধীনে৷ সরকারি খাতে অধিকাংশ হালাল আয় ছিলো৷ যে কারণে ভালো আলেম তৈরি হতো৷ তারপর বড়বড় আলেমদের আপন বাসভবন ছিলো মাদরাসা৷ যেখানে ছাত্ররা নিজ খরচে পড়ালেখা করতো৷ এখন সেই পদ্ধতি নেই৷ আলাদা প্রতিষ্ঠান করতে হয়৷

আলাদা প্রতিষ্ঠানের তিনটি রূপ আমরা দেখতে পাই৷ একটা চলে প্রাইভেট ও ছাত্রদের থেকে মাসিক বেতন নিয়ে৷ আরেকটা চলে সরকারি ব্যবস্থাপনায়৷ যেখানে বোর্ডিং নেই৷ অথবা থাকলেও খোরাকির বিভিন্ন পদ্ধতি চালু আছে৷ আরেকটা কওমী মাদরাসা৷ যেটা চলে মুসলমানদের অর্থে৷ কওমী মাদরাসা স্রেফ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান৷ ধার্মিক মানুষের অর্থে পরিচালিত হয়৷

আপনি কি কওমীকে সরকারি মাদরাসা বানাতে চান যেখানে সরকারি অনুদান থাকবে? যে অনুদানে পতিতালয়ের ট্যাক্স আছে, যে অনুদানে মদের ট্যাক্স আছে৷ কোনটা ভালো? দ্বীন হেফাযতের জন্যে দ্বীনদরদী মানুষের কাছে হাত পাতা? নাকি অবৈধ ট্যাক্স মিশ্রিত অনুদান নিয়ে বসে বসে খাওয়া?

ঘরে ঘরে গিয়ে চাঁদা করলে কোনো গোনাহ নেই৷ যদি তা দ্বীনের হেফাযতের জন্যে হয়৷ আর যারা বদ্দীন তারা সেটাকে ভিক্ষাবৃত্তি বললেও তারাও চাঁদাবাজি করেই পেট চালায়৷ তবে তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে ত্রাস দেখিয়ে যাতে তাদের লোকে ভিক্ষুক না বলে ডাকাত বলে৷ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দলীয় ব্যয় চাঁদা থেকেই আসে৷ অথচ এসব রাজনীতি দ্বীনের জন্যে তো নয়ই দ্বীনি কোনো ফায়দাও নেই৷

যারা কওমী মাদরাসার সংস্কার চান তারা আগে কোটিপতি হয়ে দেখান৷ তারপর একটা একটা মাদরাসা দিন৷ তারপর গরীব এতীম ছাত্রদের সম্পূর্ণ নিজ খরচে একবছর খাইয়ে দেখান৷ তখন দ্বীনকে রাজার হালতে দেখবেন৷ যেখানে পুরো বাংলাদেশ বন্দী হয়ে আছে বিদেশী দাতাদের হাতে আপনি সেখানে নিজেকে কোন শিল্পপতির ভাব দেখান?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares