বুধবার, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

আইয়ামে বীয-এর দিনগুলোর বিশেষ ফযীলত


.
প্রশ্নঃ আইয়ামে বীয কি?
.
উত্তরঃ প্রত্যেক চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫, এই দিনগুলোকে “আইয়ামে বীয” বা আলোকিত দিনসমূহ বলা হয়। কারণ এই দিনগুলোতে চাঁদ সবচাইতে বেশি আলোকিত থাকে। ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আইয়ামে বীজ-এর তিন দিন রোযা রাখা পাকা মুস্তাহাব।”
.
.
প্রশ্নঃ আইয়ামে বীয-এর দিনগুলোর বিশেষ ফযীলত কি?
.
উত্তরঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আইয়ামে বীয-এর তিনদিন নিয়মিত রোযা রাখতেন। তাই মাসের ৩টা রোযার জন্য এই তিন দিনকে বেছে নিলে মুস্তাহাব বা উত্তম কাজ।
.
● আবু দরদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা (আইয়ামে বীজ-এর তিন দিন) পালন করা, সালাতুদ দোহার নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।” [সহীহ মুসলিম হা/৭২২, আবু দাউদ হা/১৪৩৩, আহমাদ হা/২৬৯৩৫]
.
● আবু যর রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক মাসে (নফল) রোযা পালন করলে (শুক্লপক্ষের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করো।” তিরমিযীঃ ৭৬১, নাসায়ীঃ ২৪২৪, হাসান সহীহ শায়খ আলবানী, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
.
● ক্বাতাদাহ ইবনে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শুক্লপক্ষের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার জন্য আদেশ করতেন।” আবু দাউদঃ ২৪৪৯, নাসায়ীঃ ২৪৩২।
.
● আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়ীতে থাকাবস্থায় অথবা সফরে থাকাবস্থায়, কখনোই আইয়ামে বীযের রোযা ছাড়তেন না।” নাসায়ী ২৩৪৫, শায়খ আলবানীর মতে হাসান সহীহ, তাহকীক রিয়াদুস সালেহীন।
.
____
.
প্রত্যেক মাসে তিনটি করে রোযা রাখার ফযীলতঃ
.
প্রত্যেক মাসে ৩টা করে রোযা রাখলে সারা বছর নফল রোযা রাখার সমান পাওয়া যায়, সুবহা’নাল্লাহ! কারণ, আল্লাহ যেকোনো ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে অন্তত ১০ থেকে ৭০০ গুণ, বা তাঁর রহমত অনুযায়ী চাইলে আরো অনেক বেশি দান করেন। ৩*১০=৩০, এইভাবে প্রত্যেক মাসে ৩টি রোযা রাখলে সারা বছরই নফল রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে, ইন শা’ আল্লাহ।
.
.
আ’ব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর ইবনে আ’স রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখা, সারা বছর ধরে রোযা রাখার সমান।” [সহীহুল বুখারী হা/১১৫৯, ১৯৭৫]
.
.
উল্লেখ্য কোনো কারণে আইয়ামে বীজ-এর এই তিন দিন রোযা রাখতে না পারলে, মাসের অন্য যেকোনো ৩দিন রাখলেও ‘সারা বছর রোযা রাখার এই ফযীলত’ পাওয়া যাবে। যাদের ‘কাজা রোজা’ বাকী আছে, তারা সাহরীর সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই আইয়ামে বীজের রোযার সাথে ‘আমার ফরজ কাজা’ এই নিয়তও যুক্ত করে নেবেন (নিয়ত মুখে বলার প্রয়োজন নেই, অন্তরের নিয়তই যথষ্টে)।.কারণ, ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বেই ‘ফরজ রোজার নিয়ত’ না করলে সেটা ফরজ বলে গণ্য হবেনা, নফল রোজা হিসেবে গণ্য হবে। এতে আশা করা যায়, দুটোর সওয়াব একই সাথে পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ।

Default Ad Content Here

Archives

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930