রবিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

আমেনা মহসিনের গবেষণাপত্র কি ইসলামবিরোধী প্রজেক্ট?

আমেনা মহসিনের গবেষণাপত্র কি ইসলামবিরোধী প্রজেক্ট?

ঢাবি’র প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রফেসর আমেনা মহসিন এবং প্রফেসর দেলোয়ার হোসাইনের উগ্রবাদবিষয়ক যৌথ গবেষণাপত্রের অ্যাবস্ট্রাক্টটা পড়লাম।

ওনারা যেই ম্যাথডে রিসার্চ করে বাংলাদেশে উগ্রবাদের কারণসমূহ চিহ্নিত বা নির্ণয় করতে চেয়েছেন, সেটা নিয়ে আমার আপত্তি নাই। কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্টে আশ্চর্যকরভাবে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রসারণে বৈশ্বিক প্রভাব এবং পাশ্চাত্য বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দায়কে কোনোরূপ ইঙ্গিত করা হয়নি! কেবল একটা দেশের সামাজিকভাবে প্রচলিত পোশাক-আশাক ও ভাষায় এবং ভাস্কর্য, উৎসব, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ধর্ম ও সেকুলারিজম এবং রাজনীতি সম্পর্কে সেখানকার ধ্যানধারণার স্বাভাবিক পরিবর্তন ও রূপান্তরগুলোকে নিরীক্ষা করেই গবেষণাটা করা হয়েছে।

অ্যাবস্ট্রাক্ট থেকে একটা লাইন কোট করছি:
The analysis has been done at the levels of symptoms, through examining the shifts and changes in language, dress codes, observations about festivals, sculptures, culture, education, religion and secularism, politics and so on. (পোস্টে সংযুক্ত স্ক্রীনশটে অ্যাবস্ট্রাক্টা বিস্তারিত পড়তে পারেন আগ্রহীরা)

আমেরিকার কোনো এক এনজিও’র অর্থায়নে গবেষণাটা করা হয়েছে বলে আমার মনে হলো। উদ্দেশ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিকভাবে নীরবে যে ইসলামী প্রভাব ব্যাপকতরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটাকে রুখতে ইসলামী বিধিবিধান, আচার ও সুন্নাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করে খামোশ করে দিতে হবে।

প্রাসঙ্গিকভাবে এখানে স্মরণযোগ্য যে, কাশেম বিন আবুবাকারকে নিয়ে গত ২৬ এপ্রিলে এএফপি’র রিপোর্ট ‘Islamic romance novels set hearts aflutter in Bangladesh’-এ একটা গুরুত্বপূর্ণ লাইন ছিল (রিপোর্টটা আমি অনুবাদও করেছিলাম)। “…Bangladesh slides from the moderate Islam worshipped for generations to a more conservative interpretation of the scriptures.” অর্থাৎ বাংলাদেশ কয়েক প্রজন্মের অনুসৃত মডারেট ইসলাম থেকে সরে গিয়ে ধর্মীয়ভাবে আরো রক্ষণশীল হচ্ছে।

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা ইতোমধ্যেই নিরীক্ষা করে ফেলেছে যে, বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণপ্রজন্মের সিংহভাগই সেকুলার চেতনার চেয়েও ইসলামী ভাবধারাতেই বেশি এনগেইজ হতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। তরুণপ্রজন্ম দিনদিন ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠছে। তারা পাশ্চাত্যপ্রসূত তথাকথিত মডারেট ইসলামকে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেনা।

সুতরাং, সমাজের গভীরে নীরবে বয়ে চলা এই ইসলামী প্রভাবকে ঠেকাতে হলে উগ্রবাদের জিগির তুলে এবং ইসলামী বিধি-বিধান ও ভাবধারাকে উগ্রবাদের সাথে গুলিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে তরুণপ্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে ইসলামবিমুখ করার একটা প্রজেক্ট পাশ্চাত্য থেকে এদেশে আসাই স্বাভাবিক। সম্ভবত আমেনা মহসিনরা সেই প্রজেক্ট বাস্তবায়নেই আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের কোনো এক এনজিও’র ফান্ডে এমন উদ্দেশ্যমূলক বা ম্যানিপুলেটেড গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণায় উগ্রবাদের জন্য পাশ্চাত্যের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ইসলামী আচার, বিধিবিধান ও সুন্নাহকে দায়ী বা প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রকৃতপক্ষে এদেশে ইসলামী ভাবধারাকে ঠেকানোর প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন।

তারেকুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

February 2021
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728  
shares
%d bloggers like this: