• আসসালামুআলাইকুম, আমাদের ওয়েবসাইটে উন্নয়ন মূলক কাজ চলিতেছে, হয়তো আপনাদের ওয়েব সাইটটি ভিজিট করতে সাময়ীক সমস্যা হতে পারে, সাময়ীক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

বুধবার, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২রা রজব, ১৪৪১ হিজরী

সিরাতে মুস্তফা (সঃ)-(পর্ব ০৫) :: হাবশীদের দখলে ইয়ামান

হাবশীদের দখলে ইয়ামানঃ   

যূ-নাওয়াসের অগ্নিকুন্ডে নিহত মুমিনদের একজন কোন রকমে আত্নরক্ষা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সাবা গোত্রোদ্ভূত দাওস যূ-সুলুবান নামক এই ব্যক্তি আগুনের পরিখা থেকে সুকৌশলে উদ্ধার পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চড়ে ঊর্ধশ্বাসে মরুভূমির ভেতর দিয়ে ছুটতে থাকেন। যূ-নাওয়াসের পশ্চাদ্ধাবনকারী লোকজনের চোখে ধূলো দিয়ে। ছুটতে ছুটতে তিনি রোম সম্রাটের দরবারে উপনীত হন। তিনি উহুদীবাদী যূ-নাওয়াস ও তার সৈন্য সমন্তের হাতে নাজরানবাসী মুমিনদের যে লেমহর্ষক গণহত্যা ও নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিররণ দিয়ে যূ-নাওয়াসের শক্তির বিরুদ্ধে রোম সম্রাটের সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করেন। সম্রাট বলেন, “তোমার দেশ আমার এখান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাই আমি আবসিনিয়ার রাজাকে চিঠি লিখবো। তিনিও আমার ধর্মাবলম্বী। আর তাঁর দেশ তোমার দেশের কাছাকাছি।” সম্রাট আবিসিনিয়ার রাজাকে শুধু সাহায্য করার নির্দেশই নয়, সেই সাথে প্রতিশোধ গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিলেন। হাবশার রাজা নাজাশীর কাছে রোমান সম্রাটের ঐ চিঠি নিয়ে হাজির হলেন দাওস। নাজাশী হাবশা থেকে ৭০ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী দাওসের সাথে পাঠিয়ে দিলেন। বাহিনীর সেনাপতি করা হলো আরিয়াত নামক এক ব্যক্তিকে। তার সহযোগী হিসেবে ঐ বাহিনীতে রইলো আবরাহা আল আশরাম নামক অপর এক ব্যক্তি।

আরিয়াত তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে সমুদ্রপথে ইয়ামানের উপকূলে গিয়ে নামলেন। তার সাথে দাওস যূ-সুলুবানও ছিলেন। খবর পেয়ে যূ-নাওয়াস, হিমইয়ার ও তার অনুগামী অন্যান্য ইয়ামানী গোত্র সমভিব্যাহারে আরিয়াতের সৈন্যদের বাধা দিতে এগিয়ে গেলেন। উভয় পক্ষে তুমুল লড়াই হলো। অবশেষে যূ-নাওয়াস ও তার দলবল পাজয় বরণ করলো। এ অবস্থা দেথে যূ-নাওয়াস তার ঘোড়াকে সমুদ্রের দিকে হাঁকালো। ঘোড়া সমুদ্রের বুকে ঝাপিয়ে পড়লো এবং যূ-নাওয়াসের সলিল সমাধি ঘটলো। এখানেই যূ-নাওয়াস ও তার ইহুদীবাদী শাসনের অবসান ঘটলো। আরিয়াত ইয়ামানে প্রবেশ করে সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

আরিয়াত ও আবরাহা দন্দ্বঃ 

আরিয়াত দীর্ঘকাল ইয়ামানের শাসন পরিচালনা করতে থাকেন। এক সময় আবরাহা তাঁর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। তাঁর দাবী ছিল, নাজাশীর প্রতনিধি হিসেবে ইয়ামান শাসনের অধিকার তাঁরই বেশী। হাবশী সৈন্যরা এ প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়লো। দুই দলে যুদ্ধ হবার উপক্রম হলে আবরাহা আরিয়াতকে এই মর্মে বার্তা পাঠালেন, “হাবশীরা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হলে নিজেরাই ধবংস হযে যাবে,পরিণামে কোন লাভ হবে না। সুতরাং এসো আমরা দু’জনে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হই। আমাদের দু’জনের মধ্যে যে জয়যুক্ত হবে, সমস্ত সৈন্যবাহিনী তার আনুগত্য করবে।”আরিয়াত এই প্রস্তাবে রাজী হয়ে বললো,“হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ।” আরিয়াত ও আবরাহার মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হলো আবারাহা অপেক্ষাকৃত ধার্মিক, মোটা ও বেঁটে এবং আরিয়াত লম্বা, সুদর্শন ও বিশালদেহী ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি অস্ত্র। আবরাহা তাঁর পৃষ্ঠদেশকে রক্ষা করার জন্য তাঁর আতুদাহ নামক ক্রীতদাসকে পিছনের দিকে রাখলেন। আরিয়াত তাঁর তরবারি দ্বারা আবরাহার মাথায় আঘাত করলেন,কিন্তু তা তাঁর মুখম-লের ওপর লাগলো। এতে আবরাহার নাক ও কপালের ভ্রু কেটে গেল এবং ঠোঁট ও চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হলো। একারণেই তাকে আবরাহা আল-আশরাম বা নাক কাটা বলা হয়। এইবার আতুদাহ আবরাহার পিছন থেকে বেরিয়ে এসে আরিয়াতকে আক্রমণ করে হতৃা করলো। এরপর আরিয়াতের অনুগত হাবশীসৈন্যরা আবরাহার দলে ভিড়ে যায় এবং আবরাহা আবিসিনিয়ার সর্বসম্মত প্রতিনিধিরূপে ইয়ামান শাসন করতে থাকেন।

এক ক্লিকে

সিরাতে মুস্তফা (সঃ) 

 

Series Navigation<< সিরাতে মুস্তফা (সঃ) (পর্ব ০৪) :: রাবিয়া ইবনে নসরের স্বপ্নসিরাতে মুস্তফা (সঃ)-(পর্ব ০৬) :: আসহাবুল ফীলের ঘটনা >>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

February 2020
S S M T W T F
« Jan    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29  
shares