• আসসালামুআলাইকুম, আমাদের ওয়েবসাইটে উন্নয়ন মূলক কাজ চলিতেছে, হয়তো আপনাদের ওয়েব সাইটটি ভিজিট করতে সাময়ীক সমস্যা হতে পারে, সাময়ীক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

মঙ্গলবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

নওমুসলিমের ঈমান জাগানিয়া সাক্ষাৎকারঃ সত্যের অন্বেষণে একজন সাহসী যুবক

সত্যের অন্বেষণে একজন সাহসী যুবকঃ
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
■প্রাক কথনঃদুদিনের এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যখন যেতেই হবে,ঈমান নিয়েই যাব।ঈমান ও ইসলামের জন্য আমি আমার এ ক্ষুদ্র জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দেব।কথাগুলো বলেছিলেন ঈমানদ্বীপ্ত চেতনার অধিকারী একজন নব মুসলিম।বাড়ি হতে সদ্য পালিয়ে আসা একজন টগবগে যুবক।
■বর্ণনাঃনব মুসলিম এ ভাইটির পূর্ব নাম ছিল,আশোক কুমার ঘোষ।মুসলমান হয়ে নাম রেখেছেন আশিকুর রহমান।বাড়ি দিনাজপুর।
স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি,বাড়ি-গাড়ি,টাকা-পয়সা,প্রভাব-প্রতিপত্তি কোন কিছুরই অভাব নেই তাঁদের।চার ভাই-বোনের সংসারে তিনিই ছিলেন সবার বড়।
মুসলমান বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে উঠাবসা করার ফাঁকে তিনি কিশোর বয়স থেকেই ইসলাম নিয়ে ভাবতেন।ভাবতেন তাঁদের হিন্দু ধর্ম নিয়েও।
■ইসলামী ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণঃএস এস সি পাশের পর ইসলাম সম্পর্কে জানতে তিনি প্রথমে চুপে চুপে বিভিন্ন লেখকের বই পুস্তক অধ্যয়ন শুরু করেন।একদিন তিনি একজন হুজুরের কাছে ঈমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।ইমাম সাহেব তাঁকে দিনাজপুর মার্কাজ মসজিদে প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিবের বয়ান শোনার পরামর্শ দেন।নিয়মিত ছয়টি মাস,ছয় ছিফতের আলোচনা তাঁর হৃদয়কে বিগলিত করে।অতঃপর একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি,পরামর্শদাতা ঐ হুজুরের নিকট যেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
■অমানবিক নির্যাতনঃইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারটা প্রথম প্রথম গোপন থাকলেও এককান দুইকান করে এক সময় মহল্লার সবাই জেনে যায়।মহল্লার শালিস বৈঠকে তাঁকে ইসলাম ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি দ্বীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন,যে ইসলামে প্রবেশ করে আমি পরম তৃপ্তি আর শান্তি লাভ করেছি।যে ইসলামে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের চির মুক্তি।সে ইসলামকে ছাড়তে আমি পারবনা।
সেদিনের ঐ বৈঠকে তাঁকে চরম বেত্রাঘাত করা হয়।লাঠির আঘাতের কালো ক্ষত চিহ্নগুলো তিনি আমাদেরকে জামা খুলে দেখান।
■গৃহবন্দিঃএলাকার মাতবরগণ তাঁর বাবার প্রতি এই বলে কড়া নির্দেশ প্রদান করেন যে,তোমার ছেলে এর পরেও যদি ফিরে না আসে,তাহলে আমরা তাঁকে কেটে টুকরা টুকরা করে নদীতে ফেলে দিব।
অতঃপর তাঁর বাবা দশের সামনে ছেলের গালে দুটো থাপ্পড় মেরে লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে বাড়িতে এনে গৃহবন্দি করে রাখেন।বাবার কড়া নির্দেশ ছিল,যে কুলাঙ্গার ছেলে বংশের মান সম্মান নষ্ট করেছে,সে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে না আসা পর্যন্ন,তাকে কেউ ভাত দিবেনা।
■মায়ের আহাজারীঃতিনি বলেন,আমার মা প্রতিদিনই চুপে চুপে এসে জানালা দিয়ে আমাকে খানাদানা দিয়ে যেতেন আর চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে দিয়ে হাত জোড় করে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার অনুরোধ জানাতেন।মায়ের চোখের জল আমাকেও কাঁদাত কিন্তু আমি নিরুপায়।কেঁদে কেঁদে মাকে বলতাম,মা-তুমি আমাকে ক্ষমা কর মা।আমার ইসলামের পথ থেকে ফিরে আসার আর কোন উপায় নেই।এভাবে মাস পেরিয়ে চল্লিশ দিন গত হয়ে যায়।
■হত্যার পরিকল্পনা ও পলায়নঃনব মুসলিম আশিক ভাইয়ের দৃঢ় অবস্থান দেখে,এলাকার মাতবরগণ তাঁকে সুকৌশলে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।গোপনসূত্রে মায়ের কানে চলে আসে সে খবর।মমতাময়ী মা সে রাত্রই ছেলেকে পালাতে সাহায্য করেন।
তাঁর বক্তব্য শুনে আমরা অনেকই সেদিন চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।
■পরিশিষ্টঃদু বছর পূর্বে রংপুরের মিনি ইজতেমায় তাঁর সঙ্গে কাকতালীয় ভাবেই আমার সাক্ষাৎ হয়।মুখে লম্বা দাড়ি শোভা পাচ্ছে।পরনে সুন্নতি লেবাস।হাসি মাখা সুন্দর মুখায়ব।
জনৈক তিন চিল্লার সাথী ভাইয়ের একটি প্রাইভেট ফার্মে ভাল বেতনে কাজ করছেন।সেখানে মাসে তিনদিন ও বছরে এক চিল্লা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

■মন্তব্যঃদ্বীনের পথে আছে কষ্ট, আছে দুঃখ বেদনা।আর সেই দুঃখ-কষ্টের ভেতরেও রয়েছে এক অনাবিল শান্তি,যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

January 2020
S S M T W T F
« Dec    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
shares