শুক্রবার, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

অভিজ্ঞতা থেকে বলছিঃ রহিঙ্গাদের ত্রান বিষয়ক জরুরী কিছু নির্দেশনা

রোহিঙ্গাদের ত্রান বিষয়ক জরুরী কিছু নির্দেশনাঃ আপনার কষ্টের টাকা বিফলে যাচ্ছে নাতো ? মুহাজির ভাইদের খেদমত করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছিঃ 

Aminul Islam 

আলহামদুলিল্লাহ বিভিন্ন সংগঠন দলমত নির্বিশেষে বিশাল বড় বড় ত্রানের ট্রাক নিয়ে আসতেছে। কিন্তু খুবই খারাপ লাগার বিষয় হল, কেউ প্রকৃত রোহিঙ্গাদের কাছে ত্রান পৌঁছাতে পারতেছে না। তাহার প্রধান কারন হল এই কাজগুলোতে অভিজ্ঞতা না, কারও ঠিক ভাবে ক্যাম্প সম্পর্কে ধারনা না থাকা, কোথায় নতুন রোহিঙ্গা আসতেছে তা না জানা, কোথায় রোহিঙ্গাদের মূল সাহায্য দরকার তাও না জানা, কারা রোহিঙ্গা কারা স্থানীয় না জানা, কোন ক্যাম্পগুলোতে এখন সাহায্য জরুরী তা না জানা এবং কি ধরনের ত্রান দিবে তাও না জানা।
 
প্রথমে আসি রোহিংগা চিনার উপায়ঃ
 
যারা নতুন রোহিংগা তাদের বড় বড় গাট্টি  থাকবে। তাদের দেখতে হলে টেকনাফ জিরো পয়েন্ট এবং শাহপুরী দ্বীপে যেতে হবে। পুরো পরিবার নিয়ে আসা রোহিঙ্গা রাস্তায়ও মিলতে পারে। তবে সেটা খুবই কম। কারন টেকনাফ থেকে তাদেরকে গাড়িযোগে বিভিন্ন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ এরা কারা? প্রশ্ন আসতে পারে। উত্তর ৭০% স্থানীয়। বাকি হয়ত নতুন যারা এসেছে তাদেরকে পেতে পারেন। এইবার কথা হলো পুরাতন রোহিঙ্গারা কই? তারা সবাই বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করতেছে। এ বার মনে আবার প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে আমরা রাস্তায় যাদের ত্রান দি ওরা কারা? উত্তর ওরা স্থানীয় লোকজন। রোহিংগারা মুলত ক্যাম্প থেকে বের হয় না। প্রশ্ন এটাও করতে পারেন যে , তাইলে রাস্তায় দারিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাত দিন যারা অপেক্ষা করতেছে তারা কীভাবে স্থানীয় হয় , এর উত্তর ও একই ।আমরা অনেক যাচাই করে দেখেছি এরা আসলে রোহিঙ্গা নয় ।
 
ত্রান কিভাবে এবং কোন কোন ক্যাম্পে দিবেন?
 
যারা নতুনভাবে ত্রাণ নিয়ে আসতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য ত্রাণ দেওয়ার মতো ১২টা জায়গায় ত্রাণ দেওয়া ভালো। তবে প্রতিটি ক্যাম্পে একদম ভেতরের দিকে গিয়ে তারপর ভেতরের মানুষদের ঘরে ঘরে অনুদান পৌঁছে দিবেন। কারণ যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে ত্রাণের জন্য তারা সত্যিকার রোহিঙ্গা নয়। সত্যিকার রোহিঙ্গা পেতে হলে আপনাকে প্রতিটি ক্যাম্পের ভেতরে যেতে হবে।রাস্তার পাশে হয়তো দেখবেন ভিজে একাকার, কঠিন অবস্থা তারপরও তাদের কে না দিয়ে ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে কষ্ট করুন, যিনি প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দিন। কারন রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা অধিকাংশই এলাকার লোকজন। এরা ত্রানের আশায় বৃষ্টিতে ভিজেই অপেক্ষা করতেছে।
 
১/ চাকঢালা বৃহত্তম ক্যাম্প
২/ তুলাতলী ছোট ক্যাম্প
৩/ ঘুমধুম
৪/ কুতুপালং এর পেছনে মধুরছড়া
৫/ বালুখালি নতুন ক্যাম্প
৬/ থেংখালি দক্ষিণ
৭/ থেংখালি উত্তর
৮/ জামতলী
৯/ পালংখালি
১০/ ঊনচিপ্রাং, রইক্ষ্যং, পুটিবুনিয়া
১১/ লেদা
১২/ মুছনি
 
কি কি ত্রান দিবেন অথবা কিভাবে সহযোগিতা করবেনঃ
 
১/ শুকনো খাবার (যেমন পারওটি, বিস্কুট, মুড়ি এবং পানি
২/ ফল সামগ্রীঃ ওদের পুষ্টির দিকটা অনেক বিবেচ্য। বিশেষ করে ক্যাম্পের ভিতরে প্রচুর নতুন জন্ম নেওয়া বাচ্চা এবং গর্ভবতী মহিলা আছে। ঐ সময় মায়েদের পুষ্টিকর খাওয়ার বিষয়টা খেয়াল করা।
৩/ জুস, চকোলেট, বিস্কুট এবং খেলনা বাচ্চাদের জন্য। তবে যেন খাবার কোয়ালিটি সম্পূর্ন হয়।
৪/ চাউল, আলু, তেল এবং কিছু সবজি এইগুলো মৃলত নতুনদের জন্য। যারা একেবারে এসেছে বা ২-৩ দিন হয়েছে। ( ওরা ডাল খেতে পারে না, সরকারী ক্যাম্পে মিক্স সবজি রান্না করা হয়)
৫/ নগদ টাকাঃ অনেক রোহিংগা বাংলাদেশী টাকার মান বুঝে না। মূলত একেবারে নতুন যারা। এই ক্ষেত্রে স্থানীয়রা তাদের সাথে প্রতারনা করে। টাকা বুঝে শুনে দেওয়া। এমন যে একেবারে ৫/১০/২০ টাকা দিলাম। ৫/১০/২০ টাকায় কিছুই পাওয়া যায় না। (বাচ্চাদের ৫/১০/২০ টাকা দিতে পারেন)। টাকা দিয়ে বাংলায় কত টাকা তা বলে দেওয়া খুব জরুরী ।
৬/স্যানিটারি খুবই জরুরি একটা জিনিস
৭/ মা-বোনদের জন্য গোসলখানা তৈরি করে দেওয়া
৮/ মাসজিদ নির্মান করা
৯/ মক্তব চালু করা
১০/ মা-বোনদের হিজাব দেওয়া
১১/ কম্বল দেওয়াঃ এটা মূলত গর্ভবতী মহিলা, নতুন জন্ম নেওয়া বাচ্চা এবং বয়স্ক রোগিদের জন্য
১২/ মশারি/কয়েল
১৩/ জায়নামাজ
১৪/ মোমবাতি এবং লাইটার
১৫/ মেডিকেল ক্যাম্প করাঃ এই ক্ষেত্রে গাইনী, মা ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রাখা। কারন ক্যাম্পে অধিকাংশ মহিলার ১-৫ বছরের বাচ্চা আছে এবং অনেক মহিলা প্রেগন্যান্ট। ঔষুধ দিলে খাবারের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া।
১৬/ খাবার স্যালাইন দেওয়াঃ এই ক্ষেত্রে অবশ্যই পানিতে গুলে খেতে হবে সেই নিয়ম বলে দেওয়া।
১৭/ ন্যাপকিন
১৮/ ত্রিপল (নতুনদের জন্য খুবই জরুরী)
১৯/ ছাতা দিতে পারেন , এটাও খুব জরুরী ।
 
আরও কয়েকটি বিষয় নিজেদের জন্য জানা জরুরীঃ
 
১/ ব্যানার নেওয়া
২/ গাড়ি থেকে ছিটকে বা ছুড়ে মেরে কোন কিছু না দেওয়া। এতে গাড়ির নিচে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩/ জামা কাপড় আপাদত না নেই
৪/ তাদেরকে বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে মহব্বতের সহিত  দেখা, খোজ খবর নেওয়া।
৫/ ক্যাম্পের একেবারে ভিতর থেকে ত্রান দেওয়া- কারন শুরু থেকে সবাই দেয় বলে ভিতরে পায় না
৬/ ক্যাম্পে যাওয়ার পুর্বেই , অভিজ্ঞদের সাথে খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়া । তাদের সহযোগিতা নেওয়া ।
৭/ ভুলেও অন্য কারও হাতে না দেওয়া
৮/ টোকেন দিয়ে ত্রান দেওয়া। আগে ক্যাম্পের ভিতরে গিয়ে প্রতিটা তাবুতে পরিবার হিসেব করে টোকেন দিয়ে আসতে পারেন। পরবর্তীতে তারা বাহিরে থেকে ঐ টোকেনন দেখিয়ে ত্রান কালেকশন করে নিবে।
 
বিঃদ্রঃ আলহামদুলিল্লাহ সরকারি ক্যাম্পের রোহিংগারা অনেক ভালো আছে। ঐ খানে এতটা সহযোগিতা দরকার হয় না।
 
আল্লাহতালা সব মুজতাহিদ ভাইদের কবুল করুন।
আমিন

One thought on “অভিজ্ঞতা থেকে বলছিঃ রহিঙ্গাদের ত্রান বিষয়ক জরুরী কিছু নির্দেশনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

May 2021
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
shares
%d bloggers like this: