শনিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

ঈমান যাঁদের হিমালয়কেও হার মানায়! শায়েখ আইনুল হক কাসেমী

Image may contain: one or more people, people sitting and outdoor

আমিনুল ইসলামঃ  আশির দশকের কথা। পাহাড়-পর্বত আর গিরি-কন্দরের দেশ আফগানিস্তান তখন রক্তে রঞ্জিত। রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে সোভিয়েত রাশিয়া ও আফগান মুজাহিদদের মাঝে। ভিন্ন ভিন্ন দলের অধীনে এক অভিন্ন উদ্দেশ্যে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে চলছে আফগানের মুজাহিদরা। যতো দিন যাচ্ছে, চোখে শর্ষেফুল দেখছে রাশান শ্বেত ভল্লুকের দল! সকাল-সন্ধ্যা রাশিয়ান হেলিকপ্টার আর বিমানগুলো আফগানের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে পটল তুলা গাদা গাদা লাশ বহন করে নিয়ে স্তুপাকারে জমাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ উজবেকিস্থানে। উজবেজিস্থান তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ।
.
সেই ভয়ার্ত সময়ের একটি কাহিনী। ড. সাদ শরীফ বলেন, একবার আমি আফগান মুজাহিদদের নিয়ে মাগরিবের নামাজের ইমামতি করছিলাম। নামাজের মধ্যেই আকাশে যুদ্ধবিমানের আওয়াজ শুনতে পেলাম। আওয়াজ যতো ঘনিভূত হচ্ছিল, আমার বুকের ভেতরকার হাতুড়িপেটার শব্দ ততো বেশি অনুভব করছিলাম। কিছুক্ষণ পর বিকট আওয়াজে অনতিদূরে এসে পড়ল একটি মিসাইল। ভয়ে আমি নামাজ ভেঙে দিলাম এক দৌড়! নামাজ তার জায়গাতেই রইল!
.
কিন্তু আফগান মুজাহিদরা স্থাণুবৎ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। একটু নড়াচড়াও করলনা! এতো বিকট আওয়াজে পাশেই পতিত হল মিসাইল, কিন্তু তাদের এতে কোন ভাবান্তরই নেই! তাদের মধ্য থেকে একজন আগে বেড়ে বাকি নামাজ পূর্ণ করে নিল। আমি বড়োই আশ্চর্য হলাম। আমার পরিবর্তে তাদের একজনকে ইমামতি করতে দেখে লজ্জাবোধ করলাম।
.
ঘটনা এখানেই শেষ নয়; সুন্নাহর অনুকরণার্থে ও প্রয়োজনের তাকিদে তাঁরা মাগরিবের সাথে ইশার নামাজকেও একত্রিত করে নিল। মাগরিবের সালাম ফিরিয়েই ইশার নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ল। বিনয়ের সাথে নামাজ পড়তে শুরু করল। অথচ যুদ্ধবিমান নিয়মিত মিসাইল ছুঁড়ে যাচ্ছে! পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। ধোঁয়ার কুন্ডুলির মধ্যেই তাঁরা নামাজ আদায় করে চলছে!
.
সালাম ফিরানোর পর তাঁরা কিছুক্ষণ তাসবীহ পড়ল। এরপর সুন্নাত আদায় করল। এই অবস্থায় তাঁদের ঠান্ডামাথায় নামাজ পড়া দেখে আমার আশ্চর্যের মাত্রা কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সুন্নাত শেষ করে তাঁরা আমাকে ভর্ৎসনা করতে লাগল এই বলে যে, আপনি খালিকের সামনে দাঁড়ালেন। তাহলে সে মিসাইল কিভাবে আপনাকে ভীত সন্ত্রস্ত করল, যে মিসাইল একজন মাখলুকের হাতের তৈরি?!
.
আমার তখনই মনে পড়ল আমাদের কতিপয় আরব ভাইদের কথা, যারা বলে যে, আমরা আফগানিস্থানে যেতাম আফগানদেরকে দ্বীন শিখানোর জন্য। আমি বলি, বরং আমরাই আফগানদের থেকে দ্বীন শিখতে পেরেছি।
.
সূত্র: شؤون أفغانية টুইটার একাউন্ট হতে।
– Shaykh Ainul Haque Qasimi

Archives

June 2022
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930