বুধবার, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

খুব ভয় হয় শরণার্থী ক্যাম্পে এনজিও তৎপরতা নিয়ে!

Khutbah Tv 

আলী আজমঃ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে মাজলুম মুহাজির আরাকানি মুসলিম ভাই-বোনদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা, স্যানিটেশন স্বাস্থ্যসম্মত পানি ব্যবস্থা, খাদ্য এবং যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে আলেমসমাজ এবং তাওহীদি জনতা দলমত নির্বিশেষে সেখানে যেভাবে রাতদিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। সেখানে কমবেশ সর্বস্তরের মানুষ কাজ করলেও বিশেষ করে আলেম সমাজের ক্লান্তিহীন এই ত্যাগ-অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো। রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে আর্তমানবতার সেবায় আলেমসমাজ বিরল এক নযীর স্থাপন করেছেন। এ অবদান কখনো ভুলবার মত নয়।
.
কিন্তু সেখানে দেশী-বিদেশী ইসলাম বিদ্বেষী মানবতার ভুয়া লেবাসধারি এনজিও সংস্থাগুলো লোকদেখানো উদ্দেশ্যমূলক টুকটাক যেসমস্ত কাজ করছে তাদের সেই কর্মতৎপরতার কাছে আমাদের অসংখ্য-অগণিত কাজ তুচ্ছ বলেই মনে হয়। কারণ এনজিও সংস্থার কাজগুলো দীর্ঘমেয়াদী। তাদের চিন্তাধারা সুদূরপ্রসারী। তারা হুজুগি না হয়ে বুঝেশুঝে ধীরেসুস্থে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোচ্ছে। যদিও তাদের কাজ অতি অল্প লোকদেখানো, কিন্তু তা মানুষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে বেশিই। ক্যাম্পের দিকে দৃষ্টি দিতেই তাদের ব্যানার-স্টিকারে চোখ আটকে যায়; বরং তাদের কাজের উদ্দেশ্যও সেটা বলে চলে নির্দ্বিধায়।
.
তারা যা কিছু করছে একপাশ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে করে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকটি কার্যক্রম মিডিয়াজুড়ে জোরেশোরে প্রচারও হচ্ছে। তারা যেসমস্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা যথেষ্ট সুসংগঠিতভাবে আঞ্জাম দিচ্ছে। তাদের প্রতিটি প্রকল্পে রয়েছে সংস্থার ব্যানার, স্টিকার। যত্রতত্র যা তা করছে না তারা। তাদের চিন্তাধারা গভীর; সহজে মাঠ ছেড়ে দিচ্ছে না তারা। সবজায়গায় কৌশলী ভূমিকা রাখছে। একদিনে সফলতা চাইছে না। তারা চায় তাদের কাজ দেখে মানুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হোক।সরেজমিনে গিয়ে দেখলাম সহজে আকৃষ্ট হচ্ছেও বটে। সেক্ষেত্রে বলা যায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা সফল প্রায়।
.
তথাপি সেই অবস্থান থেকে আমরা যা কাজ করছি তা অনেকটা দায়সারা। আমরা সঙ্ঘবদ্ধ কিংবা একাকী বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গোটা শরণার্থী ক্যাম্প চষে বেড়ালেও তা থেকে যাচ্ছে মিডিয়া এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে। শরণার্থী ক্যাম্পগুলো আমাদের ত্যাগ-অবদান আর মানবিক পদচারণায় মুখরিত হলেও কাজের ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় বলা যায় আমরা আশানুরূপ ফলাফল দেখছি না। কারণ, আমাদের কাজগুলো অদূরদর্শী। আমরা যা করছি তা এলোমেলো। আমাদের মধ্যে কোনোপ্রকার সমন্বয় নেই। যার যেখানে যা ইচ্ছা করেই যাচ্ছি। ফলে কাজের কোনো গতি দেখছিনা।
.
আজ আমাদের আবেগ আছে বিধায় আমরা দলমত নির্বিশেষে নিরলস অর্থ, শ্রম, ত্যাগ দিয়ে শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি/দাঁড়াচ্ছি। কাল আবেগ ফুরিয়ে যাবে। প্রতিবন্ধকতা পাশে দাঁড়াবে। তখন আমরা কেটে পড়বো। কিন্তু এনজিওরা কেটে পড়বে না। তাদের মিশন অব্যাহত থাকবে। তখন আমাদের এতো অর্থ, ত্যাগ, সম্পূর্ণ বিফলে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। তাই এভাবে যত্র-তত্র দায়সারা কাজ নয়। চাই সমন্বয় ভিত্তিক যৌথ দূরদর্শী কাজের উদ্যোগ। না হয় আম-ছালা দুটোই যাবে। আখের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এনজিওরা বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করার সুযোগ নেবে নিশ্চিত।
.
তাই তৃপ্তির ঢেকুর না তুলে কাজের কাজ করা উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
shares