শুক্রবার, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সামাজিক সচেতনায় ইমাম রশিদির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দাবি


সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় সন্তান হারানোর পর শান্তির ডাক দেওয়া ইমাম রশিদির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি তুলেছে ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থা। সামাজিক সচেতনায় কাজ করা ‘সাভেরা’ নামের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি সোমবার আয়োজিত এক শোকসভা থেকে এই দাবি তুলেছে। দ্য ট্রিবিউন ইন্ডিয়ার খবর থেকে এই দাবির কথা জানা গেছে। ইমাম মওলানা ইমদাদুল রশিদিকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক শান্তি পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবিরও প্রতিধ্বনি তুলেছে সংস্থাটি। ঘটনার দুই দিনের মাথায় নন্দিত গায়ক কবীর সুমনও একই দাবি তুলেছিলেন।

আসানসোলের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক ঘৃণার মারণাস্ত্রে খুন হওয়া ১৬ বছরের কিশোর পুত্রের শেষকৃত্যে প্রতিশোধের বিপরীতে মাওলানা রশিদি আহ্বান জানিয়েছেন জীবনের। বলেছেন, ‘কোনও প্রতিহিংসা নয়। প্রতিশোধ নিতে যদি কারোর মৃত্যু ঘটাও, তাহলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাব। আমি তোমাদের সঙ্গে ৩০ বছর ধরে আছি, আমাকে যদি তোমরা ভালোবাসো তাহলে আর কাউকে যেন এভাবে মরতে না হয়।’ মওলানার এই তৎপরতায় আপাতভাবে শান্ত হয় আসানসোল। তবে আবারও গুজব ছড়িয়ে শহরকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেছেন, ‘অনেক ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে- এই হয়েছে, ওই হয়েছে, এখানে আক্রমণ হয়েছে, ওই বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে…যখন আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে, ঠিক তখন এমন সব ভুয়া কথায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে।’ দ্য ট্রিবিউন ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভূমিকার কারণে ইমাম রশিদিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল পিস কমিটির কাছে প্রস্তাব রাখার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। ভারতের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সংস্থাটি ওই প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান।
গতকাল সিবতুল্লাহ রশিদির জন্য বাহাদুরপুরের শ্রী রাম ভবনে শোকসভা আয়োজন করে সাভেরা নামের বেসরকারি সংস্থাটি। ওই অনুষ্ঠানে ইমাম রশিদির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি তোলেন সংস্থাটির আহ্বায়ক ড. অজয় ভাগ্য। শোকসভায় তিনি বলেন, পুত্রের শেষ কৃত্যের পর আসানসোল ঈদগাহ ময়দানে ইমাম রশিদি শান্তির ডাক দিয়ে বলেছিলেন ছেলে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় আর কোনও সহিংসতা হলে মসজিদ ছেড়ে চলে যাবেন, এমনকি আসানসোল ছেড়েও চলে যাবার হুমকি দেন তিনি।
গত সপ্তাহে রাম নবমীর মিছিল থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল ও পাশ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনার মধ্যে নিখোঁজ হন নুরানি মসজিদের ইমাম রশিদির ১৬ বছর বয়সী এসএসসি পরীক্ষার্থী সন্তান সিবতুল্লাহ রশিদি। একদিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায়। গত ২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করেন ইমাম রশিদি। পুত্রের শেষকৃত্যের সময় সেদিন রাতেই তিনি আসানসোলবাসীর কাছে শান্তির আহ্বান জানান। এরপরই ভারতজুড়ে আলোচনায় আসেন ইমাম রশিদি।
সাভেরার সভা থেকে পুত্র হারানোর পরও ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রাখার জন্য ইমাম রশিদিকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন দেওয়ারও দাবি তোলা হয়। ভারতের নন্দিত গায়ক কবীর সুমন ঘটনার দুই দিনের মাথায় নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্টে ইমাম রশিদির গণসংবর্ধনার আয়োজনের দাবি তোলেন। একইসাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তার জন্য ভারতরত্ন খেতাবের দাবি তোলার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

May 2021
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
shares
%d bloggers like this: