সোমবার, ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

মোলাকাত ০১ঃ প্রফেসর হাফেজ হিজবুল্লাহ

Pro. Hafez Hizbullah
খতীব : বাইতুশ শাকুর জামে মসজিদ, শেওড়াপাড়া, ঢাকা।

প্রফেসর : আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ।

টিভি আলোচক

মুকাদ্দিমা
আমরা অনেক দিন ধরে উন্মুখ প্রতীক্ষায় অধীর ছিলাম, হযরতের সাক্ষাতকারটার জন্যে। হযরত ব্যস্ততার ঠিক সময় করে উঠতে পারছিলেন না। Raihan Khairullah হাল না ছেড়ে একনাগাড়ে লেগেই ছিল, শেষমেষ আমাদর মহার্ঘ্য সাক্ষাতকারটা হাসিল হলো।
.
হযরত সম্পর্কে আমরা এখানে কোনও অনুভূতি প্রকাশ করছি না। এজন্য অামাদের ভিন্ন অায়োজন আছে। সেখানে আমরা আমাদের চোখ দিয়ে হযরতকে দেখার চেষ্টা করবো।
—-
১. পরিচয় ও পড়াশোনা
জন্ম: নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার মির্জানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলিম পরিবারে জন্ম। সন সার্টিফিকেট অনুযায়ী ১৯৫৬ ইং।
পিতা : মুহাম্মদ বরকত উল্লাহ রহ.
নাম : মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ। হিফয শেষে ‘হাফেজ’ যোগে ‘হাফেজ মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ’। দাওরা শেষে ‘আবুল বারাকাত’ যোগ হয়ে ‘হাফেজ আবুল বারাকাত মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ’। (এ জন্য অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে)।

পড়াশোনা : আব্বাজানের চাকুরীর সুবাদে সেই মায়ের কোলে থাকতেই চলে আসতে হয়েছিল ঢাকায়। প্রথমেই পি এন্ড টি প্রাইমারী স্কুলে হাতেখড়ি। ক্লাশ টু শেষে থ্রীতে সম্ভবত দশ বারো দিন ক্লাশ করি। এর পরই আসে হিফযুল কুরআনের ডাক। মুহতারাম মেঝো চাচা হাফেয মাওলানা ওয়াজীহ উল্লাহর (রহ.) নিকট হিফয সম্পন্ন করি। পাশাপাশি উর্দু, ফারসী মাসদার, মীযান ও নাহবেমীরের কিছু অধ্যয়ন করি। ১৯৬৬ইং -এ মুহতারাম বড় হুজুর হাফেজ মুফিজুর রাহমানের (রহ.) তত্ত্বাবধানে লালবাগ মাদরাসায় হিফজখানার অধীনে সাপ্তাহিক শবীনায় অংশগ্রহণ করি। একই বছর হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর নিকট শশমাহী ও সালানা পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমে হিফযের শাহাদাহ লাভ করি।

১৯৬৭-১৯৭১ : লালবাগ মাদরাসায় নাহবেমীর থেকে শরহে জামী পর্যন্ত পড়াশোনা করি।
১৯৭২-১৯৭৬ : দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় শরহে বেকায়া থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করি।

ডিসেম্বর ১৯৭৮-১৯৮২ পর্যন্ত মদীনা মুনাওয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুল্লিয়াতুল কুরআন ওয়াদ দিরাসাতুল ইসলামিয়্যাহ থেকে লিসান্স ডিগ্রি অর্জন করি।

১৯৮৩-১৯৮৭ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাফসীরের উপর মাজিস্তের ডিগ্রি লাভ করি।
২০০০ ইং সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করি।

স্পষ্টকরণ: (অনেকেই মনে করে থাকেন যে, অবশ্যই আমি সরকারী মাদরাসায় দাখিল ও আলিম পরীক্ষা দিয়ে মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি লাভ করেছি। বিষয়টি ঠিক নয়। আমি কাওমী ঘরানার ছাত্র এটা যেন অনেকে বিশ্বাসই করতে চায় না। আমি কখনও সরকারী মাদরাসায় ভর্তিই হইনি। পরীক্ষা দেয়া তো পরের কথা। একমাত্র হিফয ও দাওরায়ে হাদীসের সার্টিফিকেটই ছিল আমার সম্বল।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের খাস কুদরতেই আমার মতো গুনাহগার মাদীনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার সুযোগ পায়। শুধু আমি নই, আমার পূর্বেও দু’জন মুআদালা ছাড়াই এবং আমার পরে মুআদালার সুবাদে পটিয়া মাদরাসার ফারিগ আরও চারজন মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিসান্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
এখনও দারুল মাআরিফ থেকে মুআদালা থাকায় ছাত্ররা সেখানে দরখাস্ত করার মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ পায়। অবশ্য বর্তমানে কওমী ঘরানার বেশ কিছু ছাত্র সরকারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। তাদের সংখ্যা যতটুকু জানা যায় প্রায় পঞ্চাশোর্ধ।)
—————————————————
২. লেখালিখির সূচনা কবে থেকে?
= দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের সময় লেখালেখির জন্য কোনো প্রেরণা পাইনি। মাদীনা মুনাওয়ারায় আমাদের সন্মানিত ভাই ড. আবূল বয়ান মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান (রহ.) কে দেখতাম বিভিন্ন বইয়ের অনুবাদ করতে। তখন নিজের মাঝেও ইচ্ছা জাগত কিছু করি। কিন্তু হয়ে উঠেনি। পরবর্তিতে রাবেতা থেকে “কাদিয়ানিয়াত” নামে একটি পুস্তিকা পেয়ে সেটা অনুবাদের ইচছা করি। বইটিতে তিনজনের লেখা ছিল। বিসমিল্লাহ বলে শুরু হল অনুবাদ। আলহামদুলিল্লাহ মাদিনাতেই অনুবাদ সমাপ্ত হয়। সময়টা সম্ভবত ১৯৮৫/৮৬ হবে। কিন্তু ছাপানোর বিষয়টি ঝুলে থাকে। ১৯৯৪ইং সনে কুয়েত এম্বেসির একজন কর্মকর্তা মুহতারাম হাসান বদর আক্কাবকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সেটা দেখতে চান। পরবর্তিতে তাঁর সহযোগিতায় একজনকে (তাঁর লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ায়) বাদ দিয়ে দু’জনের অনুবাদ ‘কাদিয়ানীদের স্বরূপ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

৩. নিয়মিত লেখালিখি করেন?
= নিয়মিত লেখালেখি বলতে শুরু হয় পদোন্নতির জন্য লেখালেখি ১৯৯৪ ইং সনে। তবে এখন ভাটা পড়েছে।

৪. লেখালিখির ক্ষেত্রে কার কাছ থকেে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন?
= তেমন কারও নাম উল্লেখ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ মুসা ভাই, নয়া দিগন্তের নাসির হেলাল এবং পরে আমার দেশ পত্রিকার শরীফ মুহাম্মদ (বর্তমানে মাসিক আল কাউসার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক) মাঝে মধ্যেই তাড়া দিয়ে লেখা আদায় করতেন।

৫. লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনার প্ররেণা ও আর্দশ কে?
= আদর্শ ছিলেন মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী সদর সাহেব র., শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক র., নূর মোহাম্মদ আজমী প্রমুখ।

৬. কোন সময় লিখতে ভালোবাসেন?
= বাদ ফজর ও বাদ এশা, এখন যখনই সময় পাই লেখার চেষ্টা করি। তবে অলসতা কাবু করে ফেলেছে।

৭. প্রথম লেখা প্রকাশ কবে কোথায়?
= ১৯৯৪ ইং সনে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পত্রিকা। ধর্মতত্ত্ব অনুষদ।

৮. এখন কী লিখছেন?
= বাংলা থেকে আরবী একটি বই অনুবাদ করছি। কিন্তু ….. দীর্ঘশ্বাস!

৯. প্রিয় লেখক?
= আবুল হাসান নদভী, শহীদ সাইয়্যেদ কুতুব, মুহাম্মাদ আল গাযযালী প্রমুখ

১০. প্রিয় স্থান?
= হারামাইন শরীফাইন।

১১. প্রিয় র্পযটন স্থান?
= পর্যটনের প্রতি আকর্ষণ নেই।

১২. স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
= স্বপ্ন? হ্যাঁ, স্বপ্ন ছিল বৈ কি। স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে একটি কাওমী মাদরাসার। একই সিলেবাস বহাল রেখে নতুন নতুন কিছু অত্যাবশ্যকীয় বিষয় সংযোজন করে পাঠ্যসূচী নির্ধারন করা। যেখানে ইবতিদাইয়্যাহ, (পাঁচ বছর) মুতাওয়াসিতাহ, (চার বছর) ছানুবিয়্যাহ (তিন বছর) এরপর বিষয় ভিত্তিক কুল্লিয়্যাহ (চার বছর) এর কোর্স থাকবে। এটা অসম্ভব কিছু ছিল না। সব কিছুই আছে। অবকাঠামো আছে। আছে শিক্ষকবৃন্দ। শুধু প্রয়োজন ছিল উদ্যোগ গ্রহণের। আলোচনা করেছি কয়েকজনের সাথে। কেউ দ্বিমত করেননি। তবে আগ্রহও প্রকাশ করেননি। স্বপ্নের এ মাদরাসায় কুল্লিায়্যাহ স্তরে থাকবে কিসমুত তাফসীর, কিসমুল হাদীস, কিসমুল আদব, কিসমুল ফিকহ, কিসমুল ইকতিসাদিল ইসলামী প্রভৃতি বিষয়। প্রয়োজনে আধুনিক বিষয়ও রাখা যেতে পারে। যেমন আছে আল আযহার বিশ্ববিদ্যলয়ে। বর্তমানে মাদীনা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং খোলা হয়েছে বিভিন্ন বিভাগ। এরপর আগ্রহী ছাত্রদের জন্য থাকবে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা। যেটা এখন বিভিন্ন মারকাযে চালু আছে। সেখানে তৈরি হবে বিষয় ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস সংগ্রহ করে আমাদের মতো করে সাজানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই তা আমাদের আকাবির ও আসলাফের স্বকীয়তাকে ধারণ করেই রচিত হতে হবে।
এখনও স্বপ্ন দেখি। কিন্তু নিজের অযোগ্যতা ও দুর্বলতার কারণে উদ্যোগী হতে পারছি না। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও নেই। তবে কেউ উদ্যোগী হলে ইন শা আল্লাহ সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। এখন যেখানে কুরআনের খিদমত সেখানে থাকতে চাই। আল্লাহ সাহায্য করুন।

১৩. প্রিয় রং?
= গোলাপি।

১৪. প্রিয় পাখি?
= কয়টি পাখির নাম জানি বলুন তো?

১৫. প্রিয় ফুল?
= টুকটুকে লাল গোলাপ।

১৬. প্রিয় খাবার?
= চালের রুটি, সাথে ভুনা গোশত।

১৭. প্রিয় কবি?
= আল্লামা ইকবাল, বিদ্রোহী কবি নজরুল ও কবি ফররুখের কবিতা ভাল লাগে।

১৮. প্রিয় কবিতা?
= চল চল চল; উর্ধ্ব গগণে বাজে মাদল।

১৯. প্রিয় মাদরাসা?
= প্রথম মাদরাসা লালবাগ ও শেষ হাটহাজারী মাদরাসা।

২০. প্রিয় মানুষ?
= আম্মা ও আব্বাজান র.।

২১. প্রিয় ব্যক্তিত্ব?
= রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২২. প্রিয় ফেসবুক লেখক?
= শাইখ আহমাদ উল্লাহ, শাইখ Hasan Jamil, শাইখ Labib Abdullah , শাইখ আবুল হুসাইন আলগাজী, Mohiuddin Faroqiসাইফ সিরাজ, Luthferabbe Afnan , Ali HasanTaib , জহীরুদ্দীন বাবর, Yousuf Sultan, গাজী ইয়াকুব , আতীকুল্লাহ,ও তরুনদের মাঝে উদিয়মান স্নেহের Raihan Khairullah, Arif Khan Sa’ad-সহ আরও অনেকে।

২৩. এখন কী পড়ছেন?
= বাছায়েরে হাকীমুল উম্মাত।

২৪. প্রিয় কয়েকটি বইয়ের নাম?
ما ذا خسر العالم بانحطاط المسلمين
মুহতারাম তাকী উসমানির ইসলাহী খুতুবাতসহ ছোট বড় কিতাব।

২৫. কওমি মাদরাসার ছাত্রদের জেনারেলে পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা ও উপায় সর্ম্পকে কিছু বলুন।
= কওমী মাদরাসার ছাত্ররা জেনারেল সাবজেক্ট পড়ার জন্য তো মাদরাসায় ভর্তি হয়নি। তারা তো আল্লাহওয়ালা হতে চায়। তারা তো দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের জন্য ফেরেশতাগণ পাখা বিছিয়ে দেন। মাছ পাখি তাদের জন্য দুআ করে। একটি প্রবাদ পড়েছিলাম ছোট বেলায়। এক ফানিস্ত হার ফানিস্ত; হার ফানিস্ত হেচ নিস্ত। হ্যাঁ, সব বিষয় পড়তে গেলে মূল হারিয়ে যাওয়ার শংকা আছে। তবে জেনারেল বিষয় পড়াশোনা করে সম্যক জ্ঞানার্জন দোষের নয়। তা হতে হবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে। দীনকে বুঝার ও বুঝাবার প্রয়োজনে।

২৬. কওমী ছাত্রদের বিদেশে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আপনার মতামত কী?
= উচ্চ শিক্ষা অর্জনে বিশ্বের যে কোন দেশে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় বা মাদরাসায় যাওয়া যেতে পারে। এতে মন-মননে, চিন্তা-চেতনায়, আচার-আচরণে অনেক উন্নতি ঘটে। চিন্তা গবেষণায় ব্যাপকতা আসে। আমাদের আকাবিরগণের অনেকেই এটাকে খুব একটা পসন্দ করেন না। তাঁরা প্রয়োজনে দেওবন্দ বা করাচি যাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। মিসরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের আপত্তি না থাকলেও সৌদী আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের দ্বিমত রয়েছে। কিছু শাইখ ও ড. মাদানীর কার্যক্রমে তাঁরা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়েই দ্বিমত পোষণ করেন বলে মনে হয়।
আমি আমার উস্তাযগণের বিপক্ষে অবস্থান নিতে চাই না। তবে আমার অনুভূতি হলো সবাই এমনটি হবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। আর ইচ্ছে করলেই যাওয়া হয় না। ময়দানও ফাঁকা রাখা যায় না। তাই আমার বিনীত পরামর্শ প্রয়োজনে তাঁদের তত্ত্বাবধানেই মাদীনায় কিছু যোগ্য ছাত্রদের প্রেরণ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমার জানামতে কওমী ঘরানার বেশ কিছু ছাত্র সেখান থেকে ফিরে এসে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই ভালো অবস্থানে থেকে ইলমী খিদমাত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, মীর খলীলুর রাহমান, পটিয়া মাদরাসায়। শাইখ ইসহাক, সম্ভবত জীরী মাদরাসায়। হাফেজ হেলালুদ্দীন, দুবাইতে ছিলেন। হাফেজ আবদুল হালীম, আরব আমিরাতে আছেন। আমাদের সর্বজন পরিচিত মুফতী মিজানুর রাহমান সাঈদ, অবশ্য তিনি মালিক সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদীনা শাখায় পড়াশোনা করেছেন। এখনও কওমী ঘরানার অনেক ছাত্র সেখানে অধ্যয়নরত। পাকিস্তান ও ভারতের অনেক কওমী ছাত্রও সেখানে পড়াশোনা করেছেন এবং করছেন।

২৭. মুআদালা না থাকায় অনেকের ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
= বেফাকের মাধ্যমে মু‘আদালা এখন একটু জটিল। তবে কোন মাদরাসা যদি এককভাবে চেষ্টা করে মু‘আদালা করতে চায় তাহলে এর সুযোগ আছে। দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়্যার সাথে মুআদালা রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের ভিন্ন মাসলাকের বেশ কিছু মাদরাসা মুআদালা করে তাদের ছাত্র পাঠাচ্ছে। মুআদালা হলে দাখিল আলিম পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন হবে না। এ জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হয়।

২৮. প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য বইয়ের একটা তালিক পেলে ভালো লাগতো!
১. কাদিয়ানীদের স্বরূপ (অনুবাদ)
২. দুরূসুন ফী ইলমিত তাজওয়ীদ (আরবী)
৩. বাংলা ইংরেজী উচ্চারণে কুরআন বিকৃতির অপপ্রয়াস
৪. হাদীসের আলোকে মহিলাদের সালাত পদ্ধতি
৫. সিলসিলাতুত তাওহীদ, কিতাবুল ‘আকীদাহ. সদস্য (আরবী)
৬. দুরুসুল লুগাতিল ‘আরাবিয়্যাহ. সদস্য (আরবী)
৭. না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলেও ছাওয়াব হবে
৮. উজূবু কিতাবাতিল মাসহাফিশ শারীফ বিল হরূফিল আরাবিয়্যাতি মা‘আল ইলতিযামি বির রাসমিল ‘উছমানী (আরবী)
৯. বাংলা ইংরেজী উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াতের শর‘ঈ হুকুম
১০. হারাম শরীফের দেশ ফযীলত ও আহকাম। (যৌথ)
১১. আশ শিফা বিতা‘রীফি হুকূকিল মুসতাফা, কাযী ইয়ায, ১ম ও ২য় খন্ড, ইফাবা, প্রকাশিতব্য (অনুবাদ)
১২. নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননাকারীর শাস্তির বিধান। (অনুবাদ)
১৩. ইসলাম ও আমরা, পারভীন ফিরোজ, এস.এম.ফেরদৌস আলম ফিরোজ। (সম্পাদনা)

২৯. জীবনের সবচয়েে স্মরণীয় মুর্হূত?
= যেদিন বাদ মাগরিব মাসজিদে নববীতে বাবে উমার দিয়ে প্রবেশ করি। আহ, সেই অনুভুতি যদি আবার ফিরে পেতাম! আরও স্মরণীয় বাইতুল্লাহর হাতছানি!

৩০. জীবনরে সবচয়েে স্মরণীয় ঘটনা?
= মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মাজিস্তের প্রথম পর্বে একজন উস্তাদ একটি এসাইনম্যান্ট দিয়েছিলেন। সেটা লিখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। দু’ দিন পর ছাড়া পেয়ে তৃতীয় দিন ক্লাশে গেলে উস্তায জানালেন তিনি আমাকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়েছিলেন। ততক্ষণে আমি রিলিজ হয়ে গেছি। শুনে আমি আপ্লুত হয়েছিলাম। তিনি ছিলেন মিসরীয় অধ্যাপক ড. ইবরাহীম মাহান্না।

৩১. দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত করা হয়?
= মাঝে মাঝে নাগাহ হয়ে যায়।

৩২. জীবনের লক্ষ্য কী?
= রেযায়ে মাওলা।

৩৩. এই যে লেখালিখি এ নিয়ে জীবনের সমাপ্তি বেলায় কী দেখতে চান?
= লেখার জন্য লেখা নয়। যদি মাওলায়ে কারীম লেখাগুলোকে সাদাকায়ে জারিয়া হিসাবে কবুল করে নাজাতের উসিলা বানিয়ে দেন।

৩৩. কোন ধরনের বই পড়তে পছন্দ করনে এবং কেন করেন?
= ইলমী যে কোন ধরনের বই ভালো লাগে।

৩৪. আমাদের নবী ছাড়া কোন নবীকে বেশি ভাল লাগে এবং কেন?
= বলুন, কাকে বাদ দিয়ে কাকে এগিয়ে নিয়ে আসি। বিশেষ করে উলুল আযম নাবীগণ। নূহ আলাইহিস সালাম, দাওয়াতী মিশনে জীবনটাই পার করে দিলেন।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, রেযায়ে মাওলার জন্য কী না কুরবানী করেছেন।
মূসা আলাইহিস সালাম, ফিরআউনের বিরূদ্ধে সংগ্রাম করে যে বণী ইসরাইলকে মুক্ত করলেন তারা তাঁর সাথে কেমন আচরণ করল।
‘ঈসা আলাইহিস সালাম, ইহুদীদের হাতে কেমন নির্যাতন ভোগ করে মৃত্যু দন্ডাদেশ পেলেন। আল্লাহ তাঁকে তুলে নিলেন। তাই এঁরা সবাই স্ব স্ব স্থানে চির ভাস্মর। আর আমি বলি যেমন বলেছেন সাহাবায়ে কিরাম কুরআনের ভাষায়, لا نفرق بين أحد من رسله

৩৫. কোন সাহাবীকে বেশি ভাল লাগে এবং কেন?
= সুবহানাল্লাহ! কাকে রেখে কাকে বাদ দেই। যার নাম প্রথমেই মনে আসে তিনি হযরত খাদীজা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা। হেরা-ফেরৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কীভাবে সাহস যোগালেন তিনি। كلا والله لا يخزيك الله أبدا، না, কখনও নয়। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনও অপমানিত করবেন না।
হযরত আবূ বাকর রাযিয়াল্লাহ ‘আনহু। সুখে দুঃখে তিনিই তো সাথী।
হযরত উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু। যার ইসলাম গ্রহণ কাফিরদের দিলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
সাইয়েদুশ শুহাদা হযরত হামযা রাযিয়াল্লাহ ‘আনহু। যিনি রাসুলুল্লাহা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেয়া কটু কথা সহ্য করতে পারেন নি। সাথে সাথে একশান এবং ঈমানের ঘোষণা। উহুদ প্রান্তরের বীর শহীদ।
যায়দ ইবন হারেছা, একমাত্র সাহাবী যার নাম কুরআনে স্থান পেয়েছে। তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাই আল্লাহ তাঁদের শানে যা বলেছেন আমরাও তাই বলি, رضي الله عنهم ورضوا عنه،

৩৬. কোন তাবেয়ীকে বেশি ভাল লাগে এবং কেন?
= হাসান বাসরী রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু। তাঁর ইলম, আমল, যুহদ, সুলুক ও তাকওয়ার জন্য।

৩৭. কোন ইমামকে বেশি ভালো লাগে এবং কেন?
= ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ। তাঁর দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতার পাশাপাশি ইলমে গভীরতা ও ইলমে ফিকহের উদ্ভাবক হিসেবে।

৩৮. কোন বুর্যুগকে বেশি ভাল লাগে এবং কেন?
= আমার শাইখ আমার উস্তায হযরত মাওলানা আহমাদ শফী হাফিযাহুল্লাহ। বর্তমান এই ঝঞ্ঝা-বিক্ষুদ্ধ সন্ধিক্ষণে উম্মাতে ইসলামিয়ার হাল ধরার জন্য।

৩৯. আমাদরে আকাবিরের মধ্যে কাকে বশেি ভালো লাগে এবং কেন?
= সকল আকাবিরকেই ভালো লাগে। হার গুলে-রা রঙ্গ-ও-বুয়ে দীগারাস্ত।

৪০. কোন বীর মুজাহদিকে বশেি ভালো লাগে এবং কেন?
= অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মাসজিদুল আকসা মুক্তকারী সালাহুদ্দীন আইয়ূবী রাহিমাহুল্লাহ।

৪১. প্রিয় শিল্পী?
= এক সময় ছিল মেহদী হাসান, আব্বাস উদ্দিন ও আব্দুল আলীম। এখন নির্ধারিত কোন শিল্পী নেই।

৪২. কয়কেটি প্রিয় নাশীদ?
ইয়া রাব্বি সাল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
উম্মি, আনতি আহাব্বুন নাসি ইলাইয়া।

৪৩. র্বতমান পরস্থিতিতে আলেম সমাজের দায়িত্ব ও র্কতব্যের ব্যাপারে আপনার পরার্মশ কী?
= চোখ কান খোলা রেখে সতর্কতার সাথে সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা প্রদান করা।

৪৪. ফেসবুক ব্যবহার সর্ম্পকে আলোকপাত করলে খুশি হতাম!
= এটা হচেছ দ্বিমুখী ধারালো ছুরি। ভালোর জন্য ব্যবহৃত হলে ভাল। অন্যথায় মন্দ। হ্যাঁ, দাওয়াতী কাজের জন্য ফেসবুক নেট একটি ভালো মাধ্যম। তবে এর পিছনে বিপুল সময় ব্যয় করা যাবে না। হকের দাওয়াত ও বাতিলের জবাব দেয়া যেতে পারে এর মাধ্যমে। সর্বক্ষেত্রে মার্জিত ও ভদ্র ভাষা ব্যবহার কাম্য।

৪৫. যুবসমাজ ও পাঠকের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন!
= হযরত লুকমান আলাইহিস সালাম যে উপদেশগুলো দিয়েছিলেন নিজ সন্তানকে সেই উপদেশগুলোই হতে পারে আমিসহ সবার জন্য প্রযোজ্য। তরুণেরা এগিয়ে যাও দ্বীনের মশাল হাতে। নিজেকে গড় জান্নাতের উপযোগী করে। আমলী যিন্দেগী সুন্নাতী বন্দেগী হয় যেন পথের পাথেয়। পিতামাতসহ উস্তাযগণ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা থেকে যেন বিরত না থাকি। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
সাক্ষাতকার নেয়ার জন্য জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
= রাব্বে কারীম আপনাকেও উভয় জাহানে জাযায়ে খাইর দান করুন। সিহহত ও আফিয়তের সাথে রাখুন। অামীন।


একক্লিকে:
আমাদের সাক্ষাৎকার

Atik Ullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

April 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
shares