বৃহস্পতিবার, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

আলকুরানে যিশু Al Qurane zisu

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি কোনো আবেদন ছাড়াই আমাদেরকে হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের উম্মতবানিয়েছেন। দরুদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবীয়্যিন,
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবা (রা.)- এর ওপর।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের নবী। তেমনি আল কুরআনও হলো, সকল মানুষের জন্য। হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, সকল মানুষের পথপদর্শক হলো, আল কুরআন। কুরআন নিজেই শুরুতে বলেছে এই কুরআনে কোনো সন্দেহ নেই। এমনি চ্যালেঞ্জ করেছে, যে, এর মধ্যে কোনো ভুল নেই। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁর এই বাণীকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। তিনি মুখস্থ রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা এই কুরআন সংরক্ষণের ওয়াদা করেছেন। যা অন্য কোনো আসমানী কিতাবের ব্যাপারে করেন নি। তাই নবীজী থেকে সাহাবাগণ মুখস্থ করেছেন। সাহাবাদের থেকে পরবর্তিলোকেরা মুখস্থ করেছেন। ধারাবাহিক ভাবে আমাদের পর্যন্ত শিশুদের অন্তরে এই কুরআন মুখস্থ করিয়ে হেফাজত করেছেন।

তাই আমাদেরকে এই কুরআন মানা উচিত। আমার বহুদিন থেকে চিন্তা ছিলো যে, আমি কুরআন থেকে যীশুর জীবনী খ্রিস্টান ভাইদের কাছে পৌঁছাব। কারণ তারা হযরত ঈসা আ. এর সঠিক ইতিহাস জানে না। তাই কুরআন থেকে ঈসা আ. সম্পর্কিত আয়াত গুলোর অনুবাদ ও সংখিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই পুস্তিকাটি প্রকাশে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার মধ্যে কয়েক জনের নাম না এনে পারছি না। বইটি প্রুফ দেখে সহযোগিতা করেছেন আমার বন্ধুবর মাওলানা জহিরুদ্দীন বাবর সাহেব; ও ভাই আব্দুল্লাহ। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।

ত্রিশ হাজার খ্রিস্টানের গুরু যেভাবে দ্বীনের মুবাল্লিগ

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদেরকে কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই ইসলামের মহান দৌলত দান করেছেন। লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামীন, সাইয়েদুল মুরসালীন দুজাহানের সরদার হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ও তাঁর পরিবার পরিজনের ওপর, রহমত বর্ষিত হোক ইসলামের জন্য জান উৎসর্গকারী তাঁর প্রিয় সাহাবাদের ওপর।

একদিন দেখা করতে গেলাম উম্মতের দরদী রাহবারে মিল্লাত হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী দা. বা. এর সাথে। কিছু কারগুজারী শোনালাম। হুজুর খুব দুআ দিলেন, সাথে একটি পরামর্শও দিলেন। বললেন, বিভিন্ন স্থানে তোমার সাথে যে সব মুনাজারা বা দাওয়াতি আলোচনা হয় এগুলো, ছোট ছোট বই আকারে প্রকাশ কর। তাতে অনেকের ফায়দা হবে এবং দা‘য়ীদের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করবে। হুজুরের হুকুম পালন করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সময় সুযোগ হচ্ছিল না। যাক, ভারতের সফরে কিছু সময় পেয়েছিলাম, সেই সুযোগে চেষ্টা করলাম পাঠকদের কাছে একটি কারগুজারী তুলে ধরি। ৪/১/১৬ তারিখে হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. এর বাসায় বসে এই পুস্তিকাটি লেখা শুরুর তৌফিক হয়েছে।

পুস্তিকাটিতে জামালপুরের জাহাঙ্গির খালেদ (লেবু) ডাক্তারের কাহিনীই মূলত আলোচনা করা হয়েছে। এই লেবু ডাক্তার খ্রিস্টানদের একজন বড় দা‘য়ী ছিলেন। প্রায় ৩০ হাজার মুসলমান তার মাধ্যমে খ্রিস্টান হয়েছে। ৬টি জেলায় দাওয়াতি কাজ করেছেন। তাকে দাওয়াত দেয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে জেলেও যেতে হয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। তাকে কীভাবে দাওয়াত দেয়া হলো এসব বিষয়েই মূলত এই পুস্তিকাটিতেই আলোচনা করা হয়েছে।

পুস্তকটি লিখতে অনেকই সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকেই কবুল করুন এবং এই পুস্তিকাটি দ্বারা মানুষের উপকার দান
করুন। আমিন।

মাস্টার মোহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর সাক্ষাৎকার

মাস্টার মোহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর সাক্ষাৎকার

বাবরী মসজিদ শহীদ করার জন্য সর্বপ্রথম যিনি কুদাল মেরেছিলেন,
তিনি এখন মুসলমান। সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি জনাব মাস্টার
মুহাম্মদ আমের সাহেব (বলবীর সিং)-এর আত্মজীবনীমূলক সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার গ্রহণে
মাওলানা আহমদ আওয়াহ নদভী
ফুলাত, মুজাফ্ফর নগর, ইউ, পি, ভারত

অনুবাদ
মুফতি যুবায়ের আহমদ
পরিচালক, ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ।
মান্ডা শেষমাথা, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪

ইযহারুল হাক্ব (সত্যের বিজয়) – খ্রিস্টধর্মের আলোচনায় প্রামাণ্য গ্রন্থ (১ম-২য় খণ্ড)

ইসলামই মানব জাতির জন্য মহান আল্লাহ তা’আলার মনোনীত একমাত্র ধর্ম। আর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর মাধ্যমেই এ ধর্মকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। এটা সর্বজন বিদিত যে, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই যুগে যুগে অমুসলিমরা এ শাশ্বত দীন এবং এর প্রবর্তক মুহাম্মাদ (সা)-এর বিরুদ্ধে নানাভাবে বিরোধীতা করে আসছে।

শুধু বিরোধীতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইসলামের দাওয়াহ বা প্রচার যেনো বাধাগ্রস্থ হয় সেজন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। এরই ফলস্বরুপ এই উপমহাদেশে খ্রিষ্টান মিশনারীরা  খ্রিষ্ট মতবাদ প্রচার করা শুরু করে। এরা সাধারণ মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে পুস্তক-পুস্তিকা এবং সভা-সমিতির মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালাতে থাকে।

খ্রিস্টান মিশনারীরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মূল শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী শিক্ষা অপসারণ, ইংরেজীকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া, ইতিহাস দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে ইসলাম বিরোদী বিকৃত তথ্য উপস্থাপন এবং গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (ভন্ডনবী) ও অন্যান্য ভন্ড ধর্মপ্রচারককে সাহায্য করে ইসলামের শিক্ষাকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। সর্বোপরী ইসলাম, কুরআন মাজীদ ও মহাবনী (সাঃ)-এর কুৎসা রটনা করে বাংলা উর্দু-ভারসী ভাষায় ছাপিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এরই সংগে খ্রিস্ট ধর্মীয় প্রচারক মিঃ কার্ল গোটালেব ফান্ডার ১৮২৯ সালে খ্রিষ্টান পাদ্রীদের গতানুগতিক মিথ্যাচার, তথ্যবিকৃতি, অপপ্রচার ও বিষোদগার সম্বলিত মীযানুল হক (Scale of Truth) নামক একটি পুস্ত রচনা করেন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে চতুর্মুখী আক্রমণ পরিচালনা করেন। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারণা চালাতে থাকে। এমনকি তারা এও দাবি করতে থাকেন যে, এ পুস্তকের যুক্তিগুলো খন্ডন করার সাধ্য কোন মুসলমান আলিমের নেই।

মুসলিমদরে এ দুর্দিনে এ উপমহাদেশে একজন বিশিষ্ট আলিম বহু ধর্মতত্ত্ববিদ আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ) খ্রিষ্টানদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং সেই সাথে দুই খন্ডে সমাপ্ত “ইযহারুল হক্ব” শীর্ষক পুস্তকটি মীযানুল হক এর জবাবে লিখেন। এ পুস্তকে পাদ্রীদের অপপ্রচারের জবাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়েই দেয়া হয়েছে।

অধুনা মিশনারীর নামে মুসলিমদের খ্রিষ্টানীকরণ এর ফিতনা আরো জোরদার হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাভাষী মুসলিমগণ যাতে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা অপপ্রচারের স্বরুপ বাইবেলের উদ্ধৃতি থেকেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় সেজন্যই এই বইয়ের প্রকাশনা।

এটি অনুবাদ করেছেন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর। এটি সম্পাদনা করেছেন ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের সাবেক পরিচালক আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ওমর আলী। এটি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

বেলা ফুরাবার আগে

নিজেকে আবিষ্কারের একটি আয়না। যে ভুল আর ভ্রান্তির মোহে, অন্ধকারের যে অলিগলিতে আমাদের এতোদিনকার পদচারণা, তার বিপরীতে জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিজের নাম লিখিয়ে নিতে একটি সহায়ক গ্রন্থ এই বই, ইন শা আল্লাহ।

বইটি কাদের জন্য?

এই বই তাদের জন্য যারা আমার কাছে ‘সাজিদ হতে চাই’ বলে বিভিন্ন সময়ে আবদার করেন। পরামর্শের আবদার, পথনির্দেশের আবদার। সাজিদ হতে হলে, আমি মনে করি, সবার আগে একটা অন্ধকার বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাজিদ যেভাবে অন্ধকারের কৃষ্ণগহ্বর ছেড়ে, আলোর ফোয়ারাতে তার জীবন রাঙিয়েছে, সেরকম ঝলমলে আলোর মাঝে নিজেকে মেলে ধরাই ‘সাজিদ’ হবার প্রথম এবং প্রধান শর্ত। কেবল ভারি ভারি বই আর যুক্তির পশরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার মধ্যেই ‘সাজিদ’ হয়ে উঠার সার্থকতা নেই। সাজিদ হয়ে উঠার সার্থকতা তখনই যখন সাজিদ যে আদর্শের আলো প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে দিতে চায়, তা আমরা জীবনে মেখে নিতে পারবো।

বইটি কাদের জন্য?

ভুলোমনা একঝাঁক তারুণ্যের জন্য এই বই। যে ভুলের গহ্বরে তারা জীবনের বসন্তগুলোকে পার করছে, সেই ভুল থেকে তাদের ‘বেলা ফুরাবার আগে’ টেনে তুলতেই এই বইটার অবতারণা।

এর বাইরেও থাকছেঃ
‘চোখের রোগ’, ‘বলো, সুখ কোথা পাই’, ‘বেলা ফুরাবার আগে’, ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা’, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’, ‘বসন্ত এসে গেছে’, ‘তুলি দুই হাত করি মোনাজাত’, ‘চলো বদলাই’ নামের আঠারোটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে, ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়।

ঈমান সবার আগে

সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হল ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার। ঈমান জীবন, কুফর মৃত্যু। ঈমান পূর্ণ কল্যাণ আর কুফর পূর্ণ অকল্যাণ। ঈমান সরল পথ, আর কুফর ভ্রষ্টতার রাস্তা।

ঈমান মুসলমানের কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয়। ঈমানদার সকল কষ্ট সহ্য করতে পারে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, কিন্তু ঈমান ছাড়তে পারে না। ঈমানই তার কাছে সবকিছু থেকে বড়। ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামকে তার সকল অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্রাণে কবুল করার নাম। আর একারণে মুমিনকে হতে হবে সুদৃঢ়, সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ। মুমিন কখনো শৈথিল্যবাদী হতে পারে না। কুফরির সাথে যেমন তার সন্ধি হতে পারে না তেমনি মুরতাদ ও অমুসলিমদের সাথেও বন্ধুত্ব হতে পারে না।

তো ইসলামের সে পূর্ণ পরিচয় কী? তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গগুলোই বা কী? এরই সংক্ষিপ্ত আলোচনা এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।

দ্বীন ও ঈমান সম্পর্কে বেপরোয়া লোকদের যেহেতু এইসব বিষয়ের জ্ঞান নেই, কিংবা জ্ঞান থাকলেও পরোয়া নেই তাই তাদের মতে, ঈমান-কুফরের সন্ধিও অসম্ভব কিছু নয়। (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম)

ইযহারুল হাক্ব (সত্যের বিজয়) – খ্রিস্টধর্মের আলোচনায় প্রামাণ্য গ্রন্থ (২য় খন্ড)

ইসলামই মানব জাতির জন্য মহান আল্লাহ তা’আলার মনোনীত একমাত্র ধর্ম। আর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর মাধ্যমেই এ ধর্মকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। এটা সর্বজন বিদিত যে, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই যুগে যুগে অমুসলিমরা এ শাশ্বত দীন এবং এর প্রবর্তক মুহাম্মাদ (সা)-এর বিরুদ্ধে নানাভাবে বিরোধীতা করে আসছে।

শুধু বিরোধীতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইসলামের দাওয়াহ বা প্রচার যেনো বাধাগ্রস্থ হয় সেজন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। এরই ফলস্বরুপ এই উপমহাদেশে খ্রিষ্টান মিশনারীরা  খ্রিষ্ট মতবাদ প্রচার করা শুরু করে। এরা সাধারণ মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে পুস্তক-পুস্তিকা এবং সভা-সমিতির মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালাতে থাকে।

খ্রিস্টান মিশনারীরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মূল শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী শিক্ষা অপসারণ, ইংরেজীকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া, ইতিহাস দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে ইসলাম বিরোদী বিকৃত তথ্য উপস্থাপন এবং গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (ভন্ডনবী) ও অন্যান্য ভন্ড ধর্মপ্রচারককে সাহায্য করে ইসলামের শিক্ষাকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। সর্বোপরী ইসলাম, কুরআন মাজীদ ও মহাবনী (সাঃ)-এর কুৎসা রটনা করে বাংলা উর্দু-ভারসী ভাষায় ছাপিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এরই সংগে খ্রিস্ট ধর্মীয় প্রচারক মিঃ কার্ল গোটালেব ফান্ডার ১৮২৯ সালে খ্রিষ্টান পাদ্রীদের গতানুগতিক মিথ্যাচার, তথ্যবিকৃতি, অপপ্রচার ও বিষোদগার সম্বলিত মীযানুল হক (Scale of Truth) নামক একটি পুস্ত রচনা করেন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে চতুর্মুখী আক্রমণ পরিচালনা করেন। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারণা চালাতে থাকে। এমনকি তারা এও দাবি করতে থাকেন যে, এ পুস্তকের যুক্তিগুলো খন্ডন করার সাধ্য কোন মুসলমান আলিমের নেই।

মুসলিমদরে এ দুর্দিনে এ উপমহাদেশে একজন বিশিষ্ট আলিম বহু ধর্মতত্ত্ববিদ আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ) খ্রিষ্টানদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং সেই সাথে দুই খন্ডে সমাপ্ত “ইযহারুল হক্ব” শীর্ষক পুস্তকটি মীযানুল হক এর জবাবে লিখেন। এ পুস্তকে পাদ্রীদের অপপ্রচারের জবাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়েই দেয়া হয়েছে।

অধুনা মিশনারীর নামে মুসলিমদের খ্রিষ্টানীকরণ এর ফিতনা আরো জোরদার হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাভাষী মুসলিমগণ যাতে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা অপপ্রচারের স্বরুপ বাইবেলের উদ্ধৃতি থেকেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় সেজন্যই এই বইয়ের প্রকাশনা।

এটি অনুবাদ করেছেন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর। এটি সম্পাদনা করেছেন ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের সাবেক পরিচালক আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ওমর আলী। এটি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

 

ইযহারুল হাক্ব (সত্যের বিজয়) – খ্রিস্টধর্মের আলোচনায় প্রামাণ্য গ্রন্থ (১ম খন্ড)

Categories

Archives

January 2021
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031