বৃহস্পতিবার, ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে ৪৫ টি তথ্য

বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে ৪৫ টি তথ্য

আমিনুল ইসলাম 

১. পৃথিবীর কোন দেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
২. বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য কি?
বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দিশ্য হলো ধর্মীয় কাজের জন্য মুসলমানদিগকে একত্রিত করা।
৩. ইজতেমা শব্দটি কোন ভাষা?
ইজতেমা শব্দটি আরবী ভাষা।
৪. ইজতেমা বলতে কি বুঝায়?
ইজতেমা বলতে ধর্মীয় কাজে একত্রিত বা সমবেত হওয়াকে বুঝায়।
৫. বিশ্ব ইজতেমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি ?
বিশ্বের আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে কুরআন-হাদিসের বয়ান শুনা ও তা বিশ্বের দরবারে পৌঁছিয়ে দেওয়া।
৬. তাবলীগ শব্দের অর্থ কি?
তাবলীগ শব্দের অর্থ হলো প্রচার বা প্রসার।
৭. তাবলীগ বলতে কি বুঝায় ?
তাবলীগ বলতে ইসলাম ধর্মের কর্মকাণ্ডের প্রচার ও প্রসারকেই বুঝায়।
৮. চিল্লা কি বলতে কি বুঝায় ?
চিল্লা বলতে ১৪/১৫ জন মুবাল্লিগ ঈমান ও আমলের কাজে ৪০ দিন যে কোন মসজিদে ইবাদতে মগ্ন থাকাকে বুঝায়।
৯. একটি চিল্লায় কত জন মুবাল্লিগ অংশ নেয়?
একটি চিল্লায় ১৪ থেকে ১৫ জন এর মত মুবাল্লিগ অংশ নেয়।
১০. এক চিল্লা কত দিনে হয় ?
এক চিল্লা ৪০ দিনে হয়।
১১. চিল্লাদানকারীরা কি কাজে নিয়োজিত থাকেন ?
চিল্লাদানকারীরা বিশ্বাবাসীর নিকট তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাতসহ ইমান আমলের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত থাকেন।
১২. আখেরী মোনাজাতের উদ্দেশ্য কি?
আখেরী মুনাজাত এর উদ্দিশ্য হলো নিজ, পরিবার, দেশ, জাতী ও বিশ্ববাসির শান্তির জন্য বিশেষভাবে বিশেষ দোআ করা।
১৩. তাবলীগ জামাতের ১ম উদ্যোক্তা মুরব্বী কে ?
তাবলীগ জামাতের প্রথম উদ্যোক্তা মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী (রা:)।
১৪. মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর (রা:)-এর জন্ম স্থান কোথায়?
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবীর (রা:)-এর জন্ম স্থান ভারতের দিল্লীতে।
১৫. তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় কোন্ দেশে?
তাবলীগ জামাতের ১ম সূচনা হয় ভারতের দিল্লীতে।
১৬. মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী (রা:) কত সাল হতে এই মহতি কাজের দাওয়াতি কাজ শুরু করেন।
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী (রা:) হিজরী ১৩৪৫ সন হতে এই মহতি কাজের দাওয়াত শুরু করেন।
১৭. মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী (রা:) কত সালে ইন্তেকাল করেন?
মাওঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্দলবী (রা:) ১৯৪৪ ইংরেজী সনে ইন্তেকাল করেন।
১৮. বাংলাদেশে কত সাল হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ?
বাংলাদেশে ১৯৪৬ইং সন হতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
১৯. সর্ব প্রথম বাংলাদেশের কোথায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়?
সর্ব প্রথম ঢাকার কাকরাইলস্থ প্রাচীন তাবলীগ মসজিদে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে।
২০. বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশ ২য় বিশ্ব ইজতেমা চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে।
২১. বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত স্থান কোথায়?
বাংলাদেশে ৩য় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে ১৯৫৮ সালে।
২২. বাংলাদেশে ৪র্থ ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হয় এবং কত সালে?
বাংলাদেশে ৪র্থ ইজতেমা গাজীপুর জেলার টঙ্গীস্থ পাগারে ১৯৬৬ইং সনে।
২৩. বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে?
বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গাজীপুর জেলার টঙ্গীস্থ তুরাগনদী তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৬৭ইং সন হতে।
২৪. ১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় কতজন মুসল্লী অংশগ্রহণ করেছিল?
১৯৬৬ সনে বিশ্ব ইজতেমায় মাত্র ৪৫০০ জন মুসল্লি জমা হয়।
২৫. ১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্য কতটি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল ?
১৯৬৬ সালে মুসল্লীদের পানির জন্যমাত্র ১০টি হস্ত চালিত নলকূপ বসানো হয়েছিল।
২৬. বর্তমানে ইজতেমা ময়দানে অঢেল পানি সরবরাহের উৎস কি?
৪টির অধিক বিদ্যুৎ চালিত গভীর প্রডাকশন নলকূপ।
২৭. বর্তমানে বিশ্বে কতটি জামাত তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?
প্রায় ২০০ শতের অধিক জামাত।
২৮. বর্হিঃবিশ্বে কতটি দেশ তাবলীগ জামাতে মেহেনত করে যাচ্ছে?
প্রায় ১১২টির অধিক দেশ।
২৯. বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর কোথায়?
বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সদর দপ্তর ঢাকা শহরের কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদে।
৩০. বিশ্ব ইজতেমায় মুসলীম মুসল্লী ছাড়া অন্য কোন ধমর্মের লোকেরা অংশগ্রহণ করে?
হ্যাঁ, প্রায় ২০০ শত সনাতন ধর্মের লোকেরা অংশ গ্রহণ করে থাকে (জরিপ অনুযায়ী)।
৩১. তাবলীগ জামাতে কি কি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়?
তাসকিল, জুড়নেওয়ালে জামাত, গাশ্ত, চিল্লা, সাল, তালিম, বয়ান, এলান, আমির মেহনত, জিম্মাদার, জামাত, সাথী, মামুর, মোতাকাল্লেম, হযরতজী, উসুলি ইত্যাদি।
৩২. ঢাকা শহরে কাকরাইলস্থ তাবলীগ মসজিদের অপর নাম কি?
জিন্দা মসজিদ।
৩৩. কাকরাইল মসজিদকে জিন্দা মসজিদ বলা হয় কেন?
প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এই মসজিদের কোন তালা-চাবি নেই, সর্বক্ষণিক মুসল্লীরা আল্লাহর উপাসনায়রত থাকে, প্রতি মুহূর্তে আরাধনা চলে যার ফলে দরজা বন্দের প্রয়োজন হয় না বলেই সর্বদা জিন্দা।
৩৪. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী কারা?
বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লী সমগ্র বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
৩৫. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লীদের পার্থক্য কিরূপ?
কোন পার্থক্য বা ভেদাভেদ নেই, আমির ফকির সকলেই এখানে সমান সমান।
৩৬. বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সহজ-সরল খাবার কি?
সাধারণত ডাল খিচুরি।
৩৭. বিশ্ব ইজতেমায় পত্রে কাওকে দাওয়াত দেয়া হয় কি না?
ধর্মপ্রাণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, কাওকেই দাওয়াত দিতে হয় না, আল্লাহর দাওয়াতেই সকলে নিজ নিজ দায়িত্ব অংশগ্রহণ করে থাকেন।
৩৮. বিশ্ব ইজতেমায় মুনাজাতের নির্দিষ্ট সময় কখন?
সকাল ১০টা হতে জোহরের আগ পর্যন্ত।
৩৯. বিশ্ব ইজতেমায় আগত অধিক সংখ্যক বিদেশী মেহমান কোন্ দেশের?
পাকিস্তানের।
৪০. বিশ্ব ইজতেমায় প্যান্ডেল নির্মাণের শ্রমিক কারা এবং কত দিন পর্যন্ত সময় লাগে?
ধর্মপ্রাণ সকল শ্রেণীর স্বেচ্ছা শ্রমিক প্রায় ৩ মাসের অধিক সময় লাগে।
৪১. বিশ্ব ইজতেমায় অর্থ যোগানদারী কারা?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশী-বিদেশী ধর্মপ্রাণ বিত্তশালীরা।
৪২. বিশ্ব ইজতেমার সময়কাল কত?
মাত্র ৩ দিন।
৪৩. বিশ্ব ইজতেমা আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়?
বাদশা, আমির, ফকির সকলেই সমান, সকলেই আল্লাহ্র দাস/গোলাম।
৪৪. বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লীগণের বয়সের তারতম্য কিরূপ?
পূর্ণবয়স্ক প্রায় ৩৫% মধ্যম বয়স্ক ৩৮% কিশোরযুব প্রায় ২২% পর্দানোশীল নারী প্রায় ৫%।
৪৫. বিশ্ব ইজতেমা স্থল ছাড়া আগত মুসল্লিরা আর কোথায় মুনাজাতে অংশ গ্রহণকরে ?
বিশ্ব ইজতেমা স্থল হতে ঢাকামুখী বিমানঘাঁটি ও খিলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা, ঘরের ছাদ, বারান্দা, রেলাইনের উপর পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষের অধিক মুসল্লী মুনাজাতে অংশগ্রহণ করে।
বিশ্ব ইজতেমাস্থল হতে পশ্চিমে বাইপাইল পর্যন্ত ঘরের ছাদ, বাস, লরী, গাছের উপর পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ লোক মুনাজাতে অংশগ্রহণ করে।

বিশ্ব ইজতেমা সফল হোক।

বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস

২ thoughts on “বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে ৪৫ টি তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

April 2020
S S M T W T F
« Jan    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
shares