• আসসালামুআলাইকুম, আমাদের ওয়েবসাইটে উন্নয়ন মূলক কাজ চলিতেছে, হয়তো আপনাদের ওয়েব সাইটটি ভিজিট করতে সাময়ীক সমস্যা হতে পারে, সাময়ীক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

শনিবার, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

এক বুদ্ধিজীবিকে প্রয়োজনীয় ধোলাই – মুসা আল হাফিজ

 

Musa Al Hafij  সৈকত আসগরের কোন উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্ম আমার নজরে পড়ে নি। এক সময় নজরুল গবেষক হবার চেষ্টায় ছিলেন। “গদ্যশিল্পী নজরুল” নামে একটি বই লিখেছিলেন। বইটিতে প্রতিভার ঝিলিক ছিলো, কিছু উন্মোচক বৈশিষ্ট্য ছিল। ভালো এক প্রতিশ্র“তি ছিলো। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্র“তি তার মধ্যে বেঁচে থাকে নি। বিখ্যাত হবার মোহ তাকে অস্থির করে তুলে। নানাদিকে ঘুরবৃত্তির প্রবনতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেন ইসলাম নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা তার হয়েছে। নিজের ক্ষমতা যেখানে কিছুটা ছিল, সেখানে লেগে থাকলে তিনি তৃতীয়সারির একজন নজরুল গবেষক হতে পারতেন। কিন্তু সিভিল সোসাইটিতে স্থান পাবার মোহ তাকে যে দিকে নিয়ে গেলো, সেদিকে তার কোন সাফল্য এলো না । এক ধরনের হতাশা তাকে শেষ পর্যন্ত ইসলাম নিয়ে গবেষণায় প্রণোদিত করলো। প্রাচ্যবিদদের আবর্জনা ঘাটাঘাটি ছাড়া এক্ষেত্রে তিনি কিছুই করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত একজন আবর্জনা বিশারদ হিসাবে নিজেকে “বিশেষ এলাকায়” তৃতীয় সারির এক প্রিয়জনে পরিণত করতে সক্ষম হন।

আসগর সাহেব চালাক, এতে সন্দেহ নেই। তিনি এমন সব জায়গায় তীর ছুঁড়েন, যার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে নেতিবাচক হতে বাধ্য। আবেদনময় ক্রিয়া দ্বারা আলোচিত হওয়ার পরিবর্তে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে উস্কে দিয়ে আলোচিত হবার ঘোড়ারোগ বরাবরই কিছু লোকের থাকে। ওদের কেউ কেউ জনতার কাছে নিন্দিত ও ধিকৃত হয়ে লক্ষ্যপূরণ করে। কেউ কেউ যথেচ্ছ বকাবকি করে। কেউ কেউ পান্ডিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তির খোলসের আড়ালে থাকতে ভালোবাসে। আসগর সাহেবের খোলস আছে। তিনি পান্ডিত্যের ভান করে লিখেছেন “কাবা প্রাচীন গৃহ এটা কথার কথা। ইতিহাস নয়। ইসলামে মিথ গ্রহণীয় না হলেও কাবার প্রাচীনত্বের ধারণা বিশ্বাসের মর্যাদা পেয়ে আসছে। কোনোভাবে যদি ইতিহাসের স্বীকৃতি এর পক্ষে থাকত, তাহলে অন্তত মুখরক্ষা হতো । কিন্তু কই?”। (মিথ ও ধর্মবিশ্বাস: দৈনিক জনকণ্ঠ ৩ ফেব্র“য়ারী ১৯৯৮) প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে তার প্রশ্নটি একটু ঘুরিয়ে তার প্রতি উচ্চারণ করতে হয়। বলতে হয়- কোনভাবে যদি ইতিহাসের স্বীকৃতি এর বিপক্ষে হতো তাহলে অন্তত আসগর সাহেবদের মুখ রক্ষা হতো। কিন্তু কই? ইতিহাস কখন প্রমাণ করলো কাবা প্রাচীন নয়? কোথায় তিনি পেলেন এ তত্ত? পবিত্র কুরআনের পাঠক মাত্রই জানেন আল্লাহর পরিস্কার ষোষণা- “মানব জাতির জন্য প্রথম যে পবিত্র ঘর নির্মিত হয়, তা হচ্ছে এ বাক্কায় প্রতিষ্ঠিত ঘর”।

বাক্কার পরিচয় ষ্পষ্ট করে ওল্ড টেস্টামেন্ট। যে কোন মনোযোগী পাঠক তার ৬ষ্ঠ খন্ডে পড়ে থাকবেন- “বাক্কার উপত্যকা অতিক্রম করার সময় একটি কূপের কথা বলা হয়, যা বরকত ও কল্যাণের দ্বারা মাওরাকে বেষ্টন করে রেখেছে।” দাউদ (আ.) প্রার্থনা করেছেন- “ওগো মহান!“ সকল বাহিনীর প্রভূ। তোমার ঘর কতো মধুর, কতো আনন্দময়! আমার হৃদয় মন আল্লাহর ঘর দেখতে উদগ্রীব। আল্লাহর ঘরের প্রেমিক হে প্রভূ! তোমার নামে তোমার দাস যেখানে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়েছিলো, সে জায়গা কতো মহান। প্রভূ! ধন্য হোক তারা যারা সর্বধা তোমার ঘরে অবস্থান করছে। তোমার নামের পবিত্রতা ঘোষণা করছে।”

বাইবেল ষ্পষ্ট করল পবিত্র কূপ এর অবস্থান যেখানে সেখানেই মক্কা। সেখানে আছে মাওয়া তথা মারওয়া। সেখানে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়েছিল খোদার দান, সেখানে পবিত্র ঘর। সে ঘর এতো মহান, যাতে দাউদ (আ.) গিয়ে ধন্য হতে চান। তাহলে দেখা যাচ্ছে বাইবেলের বাক্কা জমজম কূপ, ইসমাইল (আ.)এর কোরবানী স্থল, মারওয়া, এবং পবিত্র ঘরের অধিকারী। অতএব বাক্কা যে মূলত মক্কা, তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আরবরা হুজুর (সঃ) এর আভির্ভাবের বহু আগ থেকেই মক্কাকে বাক্কা হিসাবে অভিহিত করতো। বাক্কা দ্বারা কাবা ঘর বুঝাতো, মক্কা দ্বারা গোটা শহর বুঝাতো। আরবী ভাষাবিদগণই কাবা সন্নিহিত নিষিদ্ধ এলাকাকেই বাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ বাক্কা বলতে গোটা শহর বুঝিয়েছেন। সেই বাক্কায় নির্মিত হয় হয় মানব জাতির প্রথম গৃহ। যার প্রাচীনতার সক্ষী দিচ্ছে ওল্ড টেস্টামেন্ট। সুতরাং কা’বার প্রাচীনত্ব ধর্মগ্রন্থের সত্য, বিশ্বাসের সত্য। মিথ বা কিংবদন্তি নয়। কিংবদন্তির উৎস লোকশ্র“তি। যা নিশ্চিত সত্যের সাথে চলতেই পারেনা। তা রূপান্তরিত হয় এবং মুখের রটনা দ্বারা পরিপুষ্ট হয়। বিশ্বাসের সত্য সর্বদাই এক ও অপরিবর্তনীয়। সে জীবন পায় ঐশী উৎস থেকে। কা’বার প্রচীনত্ব ঐশী উৎস থেকে প্রমাণিত। একে তাই ধারণা হিসেবে উপস্থাপন করা এক ধরনের শঠতা। মিথ হিসেবে হাজির করা ষ্পষ্ট দূরভিসন্ধি। এর লক্ষ্য হলো ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সত্যকে সন্দেহের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। কুরআনের বক্তব্যকে অনৈতিহাসিক ও লোকশ্র“তির কথা হিসাবে চিহ্নিত করা।

এটা মূলত চরম ইসলাম বিদ্বেষী এক শ্রেণির ইহুদী-খ্রিষ্টান প্রাচ্যাবিদের প্রকল্প। তারা ইসলাম চর্চার নামে ইসলামের ভীতকে ধ্বসিয়ে দেওয়ার কৌশলী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অসংখ্য বিষয়ে সন্দেহের ধুলো-বালি ছাড়িয়ে দিতে চেষ্ঠা করছে। ছোট-বড় কোন কোন কিছুকেই বাদ রাখেনি। তার মধ্যে কা’বার প্রাচীনত্ব এক নতুন সংযোজন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মাঠে নামেন ইহুদী প্রাচ্যবিদ মারগোলিয়থ। তিনি রটনা করেন কা’বার প্রচীনত্ব অস্বীকারের তত্ত।

নিরেট এক বিভ্রন্তির জটর থেকে এর জন্ম। মারগোলিয়থ তার ‘মুহাম্মদ’ প্রবন্ধে লিখেছেন- “যদিও ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে মুসলমানগণ বিশ্বাস করেন তাদের কেন্দ্র অতি প্রচীনকালে নির্মিত। কিন্তু বিশুদ্ধ বর্ণনা থেকে জানা যায় যে মক্কার সর্বাধিক প্রচীন গৃহটি মুহাম্মদ (স.) এর মাত্র কয়েক পুরুষ পূর্বে নির্মিত হয়েছিলো”। দাবির সমর্থনে তিনি উদ্ধৃতি দেন ইবনে হাজার আসকালানির (রহ.) ‘আল ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা’ গ্রন্থের। অথচ ইসাবা গ্রন্থ মারগেলিয়থের দাবীকে প্রমাণ করেনা। সেখানে লিখা আছে- ‘মক্কার সর্বপ্রথম পাকা গৃহ নির্মান করেন সাইদ ইবনে ওমর অথবা সাআদ ইবনে ওমর।’ এর অর্থ কি সাঈদ ইবনে ওমর কাবার প্রথম নির্মাতা। তিনিই প্রথম পাকা গৃহ নির্মাণ করেন। এর আগে মক্কায় কেউ এমনটি করেনি। কারণ কাবা গৃহের আশেপাশে পাকা ঘরবাড়ী নির্মাণ করাকে আরবরা কাবার অপমান মনে করতো। তারা বসবাস করতো তাবু ও সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে। এ কারণে যুগ যুগ ধরে মক্কায় কোন পাকা ঘর নির্মিত হয়নি। গোটা শহর ছিলো বিশাল এক তাবুর নগরী। সর্বপ্রথম এ প্রথা যিনি ভঙ্গ করেন, তিনি সাঈদ ইবনে ওমর। সুয়ুতী এ কথাই বলতে চেয়েছেন। এ কথাই প্রমাণিত হয় তাবারী, ইবনুল আসির, ইবনে হাযম সহ অসংখ্য ঐতিহাসিকের ভাষ্যে। কিন্তু সৈকত আসগর এই সব ভাষ্যের সহায়তা নেবেন কেন? সত্য তো তার লক্ষ্য নয়। তিনি চেয়েছেন ইসলাম বিদ্বেষী মহেলের সন্তুষ্ঠি। অতএব মালগোলিয়াথদের সাথে কণ্ঠ না মেলালে কীভাবে হয়। তার জানা উচিৎ ছিলো মারগোলিয়থ এ তত্ত বাজারজাত করতে গিয়ে ইতিহাসের শক্ত মার খেয়েছেন।

ইনসাইক্লোপোডিয়া অব বিটানিকায় ‘মুহাম্মদ’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি দাবী করেন- “প্রচীন ইতিহাসে মক্কা শহরের কোন নাম নিশানা পাওয়া যায় না। যবুরের এক জায়গায় ওয়াদিয়ে বাক্কার উল্লেখ আছে মাত্র।” কিন্তু ইনসাইক্লোপিডিয়ার আরেক প্রাবন্ধিক ফরাসী প্রাচ্যবিদ ডুজি ভিন্ন এক প্রবন্ধে প্রমাণ করেন- বাক্কা হচ্ছে সেই স্থান, যাকে গ্রীক ভূগোলবিদগন মকরুবা বলে উল্লেখ করেছেন। এর মানে হাজার হাজার বছর আগেও গ্রীকদের গ্রন্থে এর উল্লেখ ছিল! প্রাচ্যবিদ টমাস কার্লাইল তার হিরো এন্ড হিরোজ ওয়ারশিপে জনাচ্ছেন- ঈসা মসীহের (আ.) জন্মের ৫০ বছর আগে জনৈক রোমান ঐতিহাসিক কাবা গৃহের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেন- এ উপসনালয় দুনিয়ার সকল উপাসনালয় থেকে প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ। কাবাগৃহ যদি ঈসা (আ.) এর জন্মের বহুকাল আগে বিদ্যমান থাকে, তাহলে মক্কা ও হবে সেকালের এক নগরী।” ইয়াকুত হামাভীর মুজামুল বুলদানের উদ্বৃতি রয়েছে মারগোলিয়াথের বিভিন্ন রচনায়। অথচ এ গ্রন্থে হামাভীর ভাষ্য- “প্রাচীন গ্রীক পন্ডিত বাৎলামিয়োসের ভৌগলিক বর্ণনা মতে মক্কার দৈর্ঘ-প্রস্থ ছিলো নিুরূপ- দৈঘ্যঃ ৮৭ ডিগ্রী, প্রস্থঃ ৩ ডিগ্রী”। অতি প্রচীন গ্রন্থকার বাৎলামিয়োসের গ্রন্থে মক্কার উল্লেখ থাকার পর আর কোন যুগের প্রাচীন গ্রন্থে তা থাকলে মারগোলিয়থের কাছে তা “প্রাচীন” হতো?

এসব প্রশ্নের কোন জবাব সৈকতদের কাছে পাওয়া যায় না। ওরা বিবেকী কোন জিজ্ঞাসাকে ঘৃণ্য অভিধায় উড়িয়ে দিয়ে মুখ রক্ষা করতে চায়। বরাবরই বিপরীত দিক থেকে উচ্চারিত সত্যের মুখোমুখি না হয়ে উচ্চারণকারীকে লাঞ্চিত ও অগ্রহণযোগ্য করার চাল আটেঁ এবং মিথ্যার উপর আরো বেশী মিথ্যার স্তুপ তৈরী করে। ভেতরে ভেতরে ওরা যতোই ফোকলা হয়, ততোই হম্বিতম্বির মাধ্যমে দূর্বলতাকে আড়াল করতে চায়। অসহিষ্ণু ও উদ্ধত কণ্ঠস্বরে উন্মত্ততা প্রদর্শন করে। আর এর ফাকে নিজেদের মুখোশ কখন যে খসে পড়ে, তা ওরা টেরই পায়না। কীভাবে যে ওরা নিজেদের ঘৃণ্য স্বরূপ নিজেরাই ফাঁস করে দেয়, তা বোঝার হুশ তখন কাজ করে না।

যেমনটি ঘটেছে সৈকতের ্েক্ষত্রে। মিথ ও ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন ইসলামের জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর। বুঝাতে চাইলেন ইসলাম বিশ্বমানবতার জ্ঞানসম্পদের শত্র“। দেখাতে চাইলেন দর্শনগতভাবে ইসলাম বিশ্বজনীন জ্ঞানরাজীকে প্রয়োজনের বাইরের জিনিস হিসেবে দেখে। এর ধ্বংশ কামনা করে। নিজের দাবীকে প্রতিষ্ঠা দিতে তিনি হানা দিলেন ওমর (রা.) এর শাসনামলে। মিসর বিজয়ের পরে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী ধ্বংশের উদ্ভট গল্প আউড়ালেন।

“ইসলামেরে মিসর জয় লাইব্রেরীর ভাগ্য নির্ধারণ করে দিলো। তার বেঁচে থাকার দিন শেষ হয়ে এলো। কারণ যে বিদ্যা কুরআনে নেই তা হারাম। লাইব্রেরীতে কুরআনের বিদ্যা ছিলো না। ফলে তার বেঁচে থাকার প্রশ্নই উঠে না। অতএব খলীফার আদেশ -লাইব্রেরী ধ্বংশ করে দাও। বিশ্বের কোন জ্ঞানই প্রয়োজনীয় নয়। যেহেতু কুরআন আছে”।
একদম মিথ্যাচার। আগাগোড়া বিভ্রান্তি। হযরত ওমর (রা.)এর মিসর জয়ের সময় আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরীর কোন অস্তিত্বই ছিলো না। রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজার আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধ করলে তার সৈন্যরা আগুন লাগিয়ে লাইব্রেরীটি নষ্ট করে দেয়। এটা ছিল তৎকালীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লাইব্রেরী। সাত লক্ষ পুস্তক ছিল এতে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম টলেমি। খ্রিস্টপূর্ব ৫৩-৫০ সাল পর্যন্ত বিজয়ী জুলিয়াস মিসরে অবস্থান করেন। তার সাক্ষাৎ হয় মিসরের রাণী ক্লিউপেট্রার সাথে। ভেনি, ভিডি, ভিসি (এলাম, দেখলাম, জয় করলাম) পর্ব সেরে সিজার চলে যান মিসর থেকে। রাণী ক্লিউপেট্রার আমলে পারগামস নামক দার্শনিক ও মার্ক এন্টনির চেষ্ঠায় আংশিকভাবে লাইব্রেরীটি জীবন ফিরে পায়। এভাবেই চলে প্রায় ৪০০ বছর। ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট থিউডরাস লাইব্রেরীটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেন। কারণ আর্কবিশপ থিউফিলাস তাকে আদেশ করেন অখ্রিস্টান গ্রন্থাবলীতে ভর্তি এ লাইব্রেরী খ্রিস্টজগতে ধর্মহীনতা ছড়াবে। তাই একে পূর্ণভাবে শেষ করে দিতে হবে। থিউডরাস লাইব্রেরীটির কোনো চিহ্নই বাকি রাখলেন না। তার ধ্বংশকর্মের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন আল্লামা শিবলী নোমানী। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী গ্রন্থে তিনি তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে লাইব্রেরী বিলুপ্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ৩৯১ এর পরে তার কোন অবশিষ্টই অস্তিত্বে ছিল না। পশ্চিমা ঐতিহাসিক গীবন সাহেব রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস গ্রন্থে এ সত্যকে ষ্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবুল ফারাজ নামক জনৈক আরব খ্রিস্টান লাইব্রেরী ধ্বংশের আদেশ দাতা হিসাবে ওমরের উল্লেখ করে এক গল্প তৈরী করেন। ব্যাস এতোটুকুই। ইউরোপে ভূমিধ্বস প্রচারণা শুরু হলো। ধ্বংশপ্রাপ্ত লাইব্রেরীকে ইসলামের কলঙ্ক হিসেবে অবিহিত করা হলো। সভ্যতাও জ্ঞানচর্চার শত্র“ হিসাবে মুসলিমদের উপস্থাপন করা হলো।

কোন এক নৈয়ায়িক লাইব্রেরী ধ্বংশ নিয়ে তৈরী করলো এক ডিলেমা। যাতে দেখা যায়- ওমর (রা.) বলেছেন- (ক) আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরীতে লক্ষ লক্ষ পুস্তুক আছে, সেগুলো যদি কুরআনে নিহিত জ্ঞানরাশির অতিরিক্ত কিছু শিক্ষা না দেয়, তাহলে তা একান্তই অপ্রয়োজনীয়। (খ) এসকল পুস্তক যদি কুরআনের বাইরের কোনো জ্ঞান মানুষকে শেখায়, তাহলে তা হারাম। (গ) অতএব কোনো মতেই এগুলো বাঁচিয়ে রাখা যায় না।

নৈয়ায়িকের এ ডিলেমা স্থান পেলো লজিকের গ্রন্থে। এমনকি পাঠ্যপুস্তকেও। কিন্তু ইতিহাসের শুদ্ধ বয়ান যখন এর সবগুলো ভীত ধসিয়ে ছিলো, তখন এর অতি উৎসাহী প্রাচারকদের চক্ষু চড়কগাছ না হয়ে পারেনি। ঐতিহাসিক শিবলী নোমানি এ ডিলেমাকে চ্যালেঞ্জ করলেন। ভিত্তিহীন এই কেচ্ছার অসারতা উপস্থাপন করলেন। এরপর যে গর্ত থেকে উৎপত্তি সেখানেই কাহিনীটি সমাধিত হলো। প্রাচ্যবিদরা এ নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করছে না।কিন্তু গোলামদের চরিত্রই আলাদা। মনিবদের পুরনো বমিকে ও তারা অমৃত হিসেবে দেখে। এক তারা মাহার্ঘ্য বিবেচনায় উপস্থাপন করে। কিন্তু অচিরেই এর র্দুগন্ধ ভেতরের গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়।

ফলে সৈকত আসগারেরা বুদ্ধিজীবিতার নামে কীসের ফেরি করেন, তা বানান করে বুঝিয়ে দিতে হয় না। লোকে লোকে এমনিতেই জানাজানি হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

January 2020
S S M T W T F
« Dec    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
shares