Today is Sunday & October 20, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

প্রয়োজনে আবার  মুক্তাঙ্গণে অবস্থান!! – মামুনুল হক

Khutbah Tv 

গত কয়েকদিন ধরে কওমী সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি নতুন করে আবার আলোচিত হচ্ছে ৷ স্বীকৃতি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যপক টানা-পোড়েন থাকবে, বিষয়টি পূর্বেই অনুমান করা হয়েছিল ৷ এ বিষয়ে হটকারিতামুক্ত চিন্তাশীল সাহসী ভূমিকাই সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কাম্য ৷ আল্লাহ না করুন, ব্যত্যয় ঘটতে দেখলেই কোষবদ্ধ সেই তরবারী আবার উঁচিয়ে ধরে বলতে হবে “নেতৃত্ব যদি ভুল পথে পরিচালিত হয়, তবে এই নাঙ্গা তরবারী দিয়ে পথে ফেরাবো ইনশাআল্লাহ” ৷ তবে তার আগে অবশ্যই চোখ-কান খোলা রাখতে হবে ৷ বিগত দিনগুলোতে ধারাবাহিক পরম্পরায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঠিক তথ্য ও উপলব্ধি নিয়েই সামনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে-

এক,
অনেক তর্ক-বিতর্ক, দেন-দরবারের পর বিগত ১১/০৪/১৭ গণভবনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে এই মর্মে ঘোষনা দেন যে, “কওমী মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের লনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবী) এর সমমান প্রদান করা হল ৷” প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষনা কওমী ওলামাদের প্রত্যাশা মোতাবেকই হয়েছিল এবং কওমীর প্রায় সকল আলেম এই ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ৷ স্বীকৃতির ঘোষনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দিয়েছিলেন, তবে এবারের ঘোষনায় পূর্বেকার চেয়ে অগ্রগতি এই ছিল যে, স্বীকৃতির রূপরেখা ও প্রস্তাবনা তৈরির জন্য কেবলমাত্র ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে এবং বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে “সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটি নামে” একটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং একদিনের মাথায় সেই কমিটিকে “সনদ বিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী” বিবেচনা করে স্বীকৃতি ঘোষনার প্রজ্ঞাপন জারি করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে ৷ ১৩/০৪/১৭ তারিখে উক্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি হয় ৷ অনুমোদিত সেই কমিটিই ১৬/০৪/১৭ তারিখে হাটহাজারী মাদরাসায় বৈঠকে মিলিত হয় এবং স্বীকৃতির মান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ নামে সর্ববোর্ডীয় একক বোর্ড গঠন করে ৷ হাইআতুল উলয়া গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে কওমী মাদরাসার একক প্লাটফর্মে আসার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পুরন হয় ৷

দুই,
আল-হাইআতুল উলয়া গঠিত হওয়ার পর ২০১৭ সালের দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা গ্রহন করে ৷ পাশাপাশি স্বীকৃতির আইনগত ভিত্তি অর্জনের লক্ষ্যে উদ্যোগ চালিয়ে যায় ৷ সেই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০/০৫/১৭ হাইআর চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর নাতিদীর্ঘ এক পত্র প্রেরণ করেন, যাতে স্বীকৃতি সংক্রান্ত কওমীর দাবি ও চাহিদার কথা বিষদভাবে তুলে ধরা হয় ৷ প্রজ্ঞাপনের ধারা ৩,১এর উদ্ধৃতি দিয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে,
“দারুল উলূম দেওবন্দ যে সনদ ছাত্রদেরকে প্রদান করে তা গৃহীত হওয়ার জন্য অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না ৷ আমাদের দাবি,… সনদ অনুমোদন করাতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে না হয় তার প্রতি আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি ৷”
প্রজ্ঞাপনের ধারা ৩,৩এর উদ্ধৃতি দেয়া হয়, যাতে বলা আছে, এ কমিটির অধিনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৷ দাওরায়ে হাদীসের সিলেবাস প্রণয়ন,পরীক্ষাপদ্ধতি,পরীক্ষার সময় নির্ধারণ,অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন,উত্তরপত্র মূল্যায়ন,ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে ৷ এ কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে উক্ত বিষয়সমূহ অবহিত করবে ৷”
পত্রের শেষে আল্লামা আহমদ শফী উল্লেখ করেন, “আপনার নিকট আমার সবিনয় অনুরোধ, কালবিলম্ব না করে সনদের মান আপনার মন্ত্রীসভায় পাস করতঃ আগামী সংসদ অধিবেশনে তা পাস করিয়ে নেবেন ৷”

তিন,
প্রধানমন্ত্রী বরাবর আল্লামা আহমদ শফী পত্র প্রেরণের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সেটাকে আমলে নিয়ে এবং তা অগ্রায়নপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ জারি করে এক পত্র দেয় ৷ ২৭/০৮/১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের প্রতি এই মর্মে পত্র প্রেরণ করা হয় –
বিষয়: কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী) এর সমমান প্রদান ৷
উপর্যুক্ত বিষয়ে মাওলানা আহমদ শফি, চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত স্ব-ব্যখ্যাত আবেদনটি এ সাথে অগ্রায়ণ করা হলো ৷
আবেদনের বিষয়ে অতি সত্ত্বর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করে এ কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো ৷

চার,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় (শাখা: -১) এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ২৭/০৮/১৭ এক পত্র প্রেরণ করে ৷ তাতেও একই কথা বলা হয়
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে কওমী মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রেখে ও দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স-এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জরূরী ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো ৷

পাঁচ,
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন উক্ত আইনের খসড়া তৈরি করার লক্ষ্যে তাদের মত করে একটি কমিটি গঠন করে এবং তাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের ডিজিকে অন্তর্ভুক্ত করে ৷ এই কমিটি ইউজিসির পক্ষ থেকে গঠিত একতরফা কমিটি ৷ এই কমিটিতে কওমীর প্রতিনিধিত্ব না থাকাতে তেমন কোনো অসুবিধা দেখছি না ৷ যেহেতু কওমীর দেন-দরবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে এবং স্বীকৃতির প্রকৃতি ও মূলনীতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বিশদ বিবরিত রয়েছে, তাই ঐ জায়গাটায় আঘাত না এলে আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে ৷ আল্লাহ না করুন, যদি ঘোষিত প্রকৃতি থেকে বিকৃতির কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় তখন কোষবদ্ধ সেই দ্রোহের তরবারী আবার হাতে তুলে নিতে হবে ৷

ছয়,
সংবাদ মাধ্যমে সাম্প্রতিক এ মর্মে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, ইসলামি আরবি বিশ্বিবদ্যালয় কওমি ও আলিয়া স্তরের উচ্চশিক্ষার সনদ দেবে।
এ ব্যপারে আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান আগের মতই অনড়- কওমীর সনদ কওমীই দিবে ৷ কওমীর উপর অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের খবরদারী বরদাশত করা যাবে না, করা হবেও না ইনশাআল্লাহ ৷কোনো ষড়যন্ত্রকারীর দুতিয়ালী নয়; প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি হুবহুই বাস্তবায়ন চাই আমরা ৷
ব্যত্যয় দেখলে আবার মুক্তাঙ্গণে অবস্থান নেবো !
আবার আরজাবাদে মিলিত হবো ইনশাআল্লাহ !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares