মঙ্গলবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

একটি মসজিদ শহীদ করে দেয়া হলো অথচ কথিত মুজাহিদ আমরা সবাই অক্ষত! – সাখাওয়াত রাজি

একটি মসজিদ শহীদ করে দেয়া হলো
অথচ কথিত মুজাহিদ আমরা সবাই অক্ষত!

  • মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি 

১৯৯৫ সালে হাতিরঝিল আমবাগানের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোড়ল ৪ কাঠা জায়গা হাতিরঝিল মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেন। তখন আমবাগানের এই জায়গাটিতে একটি পুকুর ছিল। তবে মসজিদ তৈরির আগেই নুর মোহাম্মদ মোড়ল মারা যান। এর ৩ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন তার ছেলেরা। পুকুরের ওপরে বাঁশ ও লোহার পাইপের খুঁটি স্থাপন করে তার ওপর পাটাতন তৈরি করে মসজিদ ঘরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৯ সাল থেকে এই মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন এই মসজিদের মোতাওয়ালি ছিলেন মৃত নুর মোহাম্মদ মোড়লের ছোট ছেলে ফকরুল ইসলাম মোড়ল। দীর্ঘদিন মোতওয়ালী দায়িত্ব পালনের পর ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। এরপর তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম মোড়ল মোতওয়ালী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর মসজিদে জায়গা বৃদ্ধি করা হয়। নির্মাণ করা হয় মসজিদের বারান্দা। এরপর মসজিদের মেঝে আরসিসি ঢালাই দিয়ে পাকা করা হয়। আর মুসল্লিদের পারাপারের সুবিধার্থে করা হয় বাঁশের সাঁকো।


অন্যদিকে, ২০০৭ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন পায় হাতিরঝিল প্রকল্পটি। এরপর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শুরু হয়। এরজন্য হাতিরঝিল এলাকার বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তখন এই মসজিদের আশপাশের বাসিন্দাদের জমি অধিগ্রহণ হলেও মসজিদটি ঠিকই ছিল। প্রকল্প এলাকাটি ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি জনগণের জন্য উন্মুক্ত হয়। এরপর এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মসজিদটি আমবাগানে স্থানান্তর করে হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ। (বাংলা ট্রিভিউন ১৭জুলাই ২০১৮)


নিউজটি পড়ছিলাম আর নিজের উপর ক্ষোভ ও ঘৃণায় থরথর করে কাঁপছিলাম। অন্যদিকে চোখের পানি বারবার ঝাপসা করে দিচ্ছিল নিউজটিকে। আরে! ওয়াকফকৃত জায়গায় প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদকে শহীদ করে দেয়া হলো অথচ আমরা কিছুই করতে পারলাম না। তারা সৌন্দর্য বর্ধনের নামে মসজিদটি উচ্ছেদ করেছে। হে মুসলিম জনতা! আল্লাহ্‌র ঘর কি তোমাদের কাছে সবচেয়ে সুন্দর নয়? তারা কী করে এহেন জগন্য কাজটি করলো!


মনে রেখো! মসজিদ করার অধিকার আছে কিন্তু কোন মসজিদ ভাঙার অধিকার নেই। তাই অন্য জায়গায় মসজিদ করেও তোমরা মাফ পাবে না।
অবশ্য মসজিদটি ওয়াকফ জায়গায় নাকি সরকারী জায়গায়, খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি তখন; কিন্তু মসজিদ কমিটির কোন বিবৃতি কিংবা জাতীয় কোন মিডিয়ার এ ব্যাপারে অনুসন্ধানী রিপোর্ট চোখে না পড়ায় বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। তবে এখনো উলামায়ে কেরাম মিলে যদি কোন পদক্ষেপ নিতেন, অন্তত আল্লাহ্‌র কাছে জবাব দেয়ার কোন পথ তৈরি হত।

Archives

December 2022
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31