Today is Thursday & June 27, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. সম্পর্কে ১২ তথ্য

জুলাই ৯, ২০১৭
 news-image

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের প্রথম খতিব (১৯৬৪-১৯৭৪) ছিলেন মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.)। তিনি ছিলেন দেশের একজন প্রাজ্ঞ আলেম, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, কর্মবীর ও বাংলার এক অতুলনীয় মনীষা। এই জ্ঞানতাপস সম্পর্কে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখুন।

০১. মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. ১৯১১ সালের ২৪ জানুয়ারি (১৩২৯ হিজরী ২২ মুহাররম) সোমবার বিহার প্রদেশের মুঙ্গের জেলার অন্তর্গত পাঁচনা নামক গ্রামে তার জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালের ২৭ অক্টোবর (১৩৯৫ হিজরীর ১০ই শাওয়াল) ইন্তেকাল করেন। তাকে ঢাকার ৬০নং তনুগঞ্জ লেনে অবস্থিত কলুটোলা মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

০২. তিনি মাওলানা মুহাম্মাদ আলী আল-কাদেরি আল মোজাদ্দেদি আল মুংগেরী রহ. এর একজন খলিফা ছিলেন। তার বংশ-তালিকা নবী মুহাম্মাদ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে তার পূর্ব-পুরুষগণ নামের পূর্বে ‘সাইয়্যেদ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

০৩. মাত্র তিন মাসে তিনি তার চাচা সাইয়্যেদ আবদুদ দাইয়্যান রহ. এর কাছে পূর্ণ ত্রিশ পারা কুরআন হেফজ করেন। এ সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর।

০৪. মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তিনি হযরত বারকাত আলী শাহ রহ.-এর কাছে আরবি ব্যাকরণের (মিজান মুনশায়েব) প্রাথমিক জ্ঞান রপ্ত করেন এবং পাশাপাশি উচ্চতর ফারসি সাহিত্য ও তাজবিদের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। মাত্র দশ বৎসর বয়সে তিনি হযরত সাইয়্যেদ বারকাত আলী শাহ এর কাছে কুরআন মাজিদের অনুবাদ, ইলমে সরফ, তাফসীর, হেসনে হাসিন ও ফারসি সাহিত্যের উচ্চতর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেন।

০৫. ১৯২৬ সালে পনের বছর বয়সে মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি ১৯২৯ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩১ সালে ফাযিল ও ১৯৩৩ সালে কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন এবং ‘মুমতাজুল মুহাদ্দিসিন’ উপাধি পান।

০৬. ১৯৩৪ সালে তিনি তার শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ মাওলানা মুফতি মুশতাক আহমেদ কানপুরী রহ. এর এর কাছে ‘মুফতি’ সনদ লাভ করেন।

০৭. ১৯২৭ সালে বাবার ইন্তেকালের পর ছোট ভাই বোনের লালন-পালন ও শিক্ষার দায়িত্ব, পিতার চিকিৎসালয় ও পারিবারিক প্রেস পরিচালনা, গৃহ সংলগ্ন (জালুয়াটুলীস্থ) মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত করা হয়। ১৯৩৪ সালে তাকে কলকাতার বৃহত্তর জামে মসজিদ ‘নাখোদা মসজিদের’ সহকারী ইমাম ও মাদরাসার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৩৫ সালে ‘নাখোদা মসজিদ’ এর মাদরাসার দারুল ইফতার প্রধান মুফতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

০৮. তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রায় লক্ষাধিক ফাতওয়া প্রদান করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি নাখোদা মসজিদের ও দারুল ইফতার দায়িত্ব প্রশংসনীয়ভাবে পালন করেন। এইজন্য ১৯৩৫ সালে কলকাতা সরকার তাকে একটি বিশেষ সীলমোহর প্রদান করে যাতে লেখা ছিল গ্রান্ড মুফতি অফ কলকাতা। তখন থেকে তিনি মুফতি-এ-আযম উপাধিতে ভূষিত হন।

০৯.  ১৯৪৯ সালে তৎকালীন সরকার তাকে ধর্মীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত করেন। ১৯৫৫ সালে আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানা, মাওলানা জাফর আহমদ উসমানি অবসর গ্রহণের পর মুফতি আমীমুল ইহসান অস্থায়ীভাবে সেই পদে নিয়োগ পান।

১৯৫৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সেই পদে নিযুক্ত ছিলেন। আলিয়া মাদরাসায় কর্মরত অধ্যাপক হিসাবে তিনি ব্যাখ্যাসহ বুখারি শরীফ পড়াতেন। ১৯৬৯ সালের ১ই অক্টোবর উক্ত পদ হতে অবসর গ্রহণ করেন।

১০. ১৯৫৫ সালে আলিয়া মাদরাসায় হেড মাওলানার পদে উন্নীত হবার পর তৎকালীন ঢাকার প্রধান ঈদগাহ পুরানা পল্টন ময়দানে ঈদের জামায়াতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কয়েক বছর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন কমিটির চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া বাওয়ানীর অনুরোধে এবং মসজিদ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে মসজিদের খতিব এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত এই দায়িত্ব কৃতিত্ব সাথে পালন করেন।

১১. তিনি প্রতি শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ পড়াতেন এবং আরবীতে স্বরচিত খুৎবা পড়তেন। খুৎবার বঙ্গানুবাদ পূর্বেই শ্রোতাদেরকে শোনানো হত। অভিনব পদ্ধতিতে অনর্গল বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় তার খুতবা প্রদানের অপূর্ব দৃষ্টান্ত ছিল বিরল। আরবদেশ থেকে আগত অনেক উচ্চশিক্ষিত আলেম ও রাষ্ট্রনায়ক তার খুৎবা শুনে আবেগাপ্লুত হতেন।

১২. তিনি ২০০ এর অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু কিতাবের তালিকায় রয়েছে—  ইলমে তফসির এবং উসূলে তফসির ইতহাফুল আশরাফ বি হাশিয়াতিল কাশশাফ, আল ইহসানুস সারি বিত তাওযিহ ই তাফসিরই সহিহিল বুখারি, আত তানবির ফি উসূলিত তাফসির আত-তাবশির ফি শরহিত তানবির ফি উসূলিত তাফসির, ইলমে হাদিস এবং উসূলে হাদিস, মিযানুল আখবার, আল ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার, মানাহিজুস সুআদা, উমদাতুল মাযানি বি তাখরিজে আহাদিস মাকাতিবুল ইমামুর রাব্বানী, আল আরবাঈন ফিস্ সালাত আল-আরবাঈন ফিল মাওয়াকিত, আল আরবাঈন ফিস্ সালাতি আলান নবী (সা.), জামে জাওয়ামেউল কালাম, কানযুল উম্মাল, মুকাদ্দামায়ে সুনানে আবু দাউদ, মুকাদ্দামায়ে মারাসিলে আবু দাউদ, লাইল ওয়ান নাহার, মীযানুল আখবার, মিয়ারুল আসার, হাশিয়ায়ুস সাদী, তোহফাতলি আখিয়ার, তালিকাতুল বারকতী, তালখীসুল মারাসিল, আসমাউল মুদিল্লীন ওয়াল মুখতালিতীন, কিতাবুল ওয়ায়েযীন, মিন্নাতুল বারী, ইলমে ফিকহ এবং উসূলে ফিকহ তরীকায়ে হজ্জ, ফাতাওয়ায়ে বারকাতীয়া, তরীকায়ে হজ্জ, আল কুরবাহ ফিল কুরা, হাদিয়াতুল মুসাল্লীন, আত¦নবীহ লীল ফকীহ, লুববুল উসূল, মালাবুদ্দা লিল ফকীহ, আত-তারীফাতুল ফিকহিয়্যাহ, উসূলুল কারখী, উসূলুল মাসায়েলীল খিলাফিয়্যাহ, কাওয়ায়েদুল ফিকহ, আদাবুল মুফতী, তুহফাতুল বারকাতী বি-শরহে আদাবুল মুফতী, সীরাত গ্রন্থ: আওজায়ুস সিয়ার, আনফাউস সিয়ার, সীরাতে হাবিবে ইলাহ রেসালা-হায়াতে আবদুস সালাম, ইলমে তাসাওউফ, রেসালায়ে তরীকাত, আততাশাররুফ লি আদাবিত তাসাওউফ, তারীখ (ইতিহাস), তারীখে ইসলাম, তারিখে আম্বিয়া, তারিখে ইলমে হাদীস, তারীখে ইলমে ফেকাহ, আল হাভী ফি যিকরিত তাহাভী, তারিফুল ফুনুন ওয়া হালাতে মুসান্নেফিন, নাফয়ে আমীম ইলমে নাহু ও শরফ (ব্যাকরণবিদ্যা), মুকাদ্দমাতুন নাহু, নাহু ফারসী, ওয়াজ ও মিলাদ, মজুমায়ে খুতবাত, মজুমায়ে ওয়াজ, ওয়াজিফায়ে সাদিয়া বারকাতীয়া, শাজারা শরীফা, সিরাজাম মুনীরা ও মিলাদ নামা, উর্দু সাহিত্য: আদবে উর্দু, শরহে শিকওায়াহ ওয়া জওয়াবে শিকওয়াহ।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, পয়গাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *