রবিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

আরিফ আজাদের “আরজ আলী সমীপে”র সমালোচনা

আরিফ আজাদের “আরজ আলী সমীপে”র সমালোচনা

সামিউর রহমান পিয়াল 
.
গত পরশু বইটা হাতে আসে! আজ কয়েক পাতা পড়ে সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়েছি! প্যারাডক্সিকাল সাজিদ পড়ে যতটুকু এক্সপেকটেশন ছিল তার অর্ধেকটাও পূরণ করতে পারেননি! কথাগুলো বলতে মোটেও ভালো লাগছে না! পড়ে মনটা এতোটা খারাপ লেগেছে তা বলে বুঝাতে পারবো না!

Image may contain: text

আরিফ আজাদের “আরজ আলী সমীপে” বইয়ের ৯৬ পৃষ্ঠার শেষ দুই প্যারা…

(১)
ধর্ম সংক্রান্ত অধ্যায়ে মিরাজ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ৯৫-৯৭ পৃষ্ঠায় আলোচনা করেছেন! সেখানে আরিফ ভাই মিরাজকে অস্বীকার করেছেন! আশ্চর্য!!! অথচ উনার বইটি যিনি শার’ঈ সম্পাদনা করেছেন, তার ইসরা ও মিরাজ নিয়ে একটি লেখা “আহলে হাদিস”-দের একটি ওয়েবসাইট quraneralo ডটকমে শোভা পাচ্ছে সেখানে কিন্তু তিনি ইসরা ও মিরাজ উভয়টিকে স্বীকার শুধু করেননি, বরং কুরআনের আয়াত দিয়ে প্রমাণ করেছেন!

এটা কি ভুল, না কি ইচ্ছাকৃত? যদি ভুল হয়, তবে শার’ঈ সম্পাদনা কি করলেন? আমার মতে, এটা ইচ্ছাকৃত! তাহলে এরকম আক্বীদা তো আহলে হাদিসদেরও না! বরং আহলে কুরআনদের হতে পারে! ইসরা শব্দটির অর্থ রাতের সফর। আর মি‘রাজ হচ্ছে, উপরে আরোহন। আরিফ ভাই ইসরা অংশটিকে স্বীকার করেছেন, কিন্তু মি’রাজ অস্বীকার করেছেন! পাশাপাশি তিনি এমনভাবে লিখেছেন, কেবল মিরাজ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, ইসরা শব্দটি ব্যবহার করেননি। তার জানা থাকার কথা, পবিত্র কুরআনের ১৭ নম্বর সূরার নাম বনী ইসরাঈল, তার আরেকটি নাম “ইসরা’! সূরাটির ১ম আয়াতটিই ইসরা সংক্রান্ত!

“ইসরা ও মিরাজের ফলাফল ও আমাদের করণীয়” শিরোনামে লেখাটি May 25, 2014 প্রকাশিত হয়, লেখক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, যিনি “আরজ আলী সমীপে” বইটির শার’ঈ সম্পাদনা করেছেন!
নিচে লিংক দিলাম :
http://www.quraneralo.com/isra-wal-meraj/

বলতে পারেন, আরিফ আজাদ ভাই মি’রাজ অস্বীকার করেননি, বরং বুরাকে চড়ে গিয়েছেন, এটা অস্বীকার করেছেন, যারা এমনটা বলছেন, তাদের জন্য নিচে বুখারী শরীফের একটি হাদিস তুলে দিচ্ছি। অনেক বড় হাদিস, মূল অংশটুকু তুলে ধরলাম। বাকিটা লিংকে ঢুকে পড়তে পারেন।

হাদিসে আছে
وَأُتِيتُ بِدَابَّةٍ أَبْيَضَ دُونَ الْبَغْلِ وَفَوْقَ الْحِمَارِ الْبُرَاقُ، فَانْطَلَقْتُ مَعَ جِبْرِيلَ حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا
“তারপর হিকমত ও ঈমান পরিপূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা থেকে বড় অর্থাৎ বুরাক। এরপর তাতে আরোহণ করে আমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম) সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম।”

নিচের লিংকে দেখেন।
https://www.hadithbd.com/print.php?hid=3110

https://www.searchtruth.com/searchHadith.php…

(২)
অন্যদিকে যেহেতু শার’ঈ সম্পাদনা করেছেন, আহলে হাদিসদের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তাই ঈশ্বর সম্পর্কে কি ধরনের আক্বীদার কথা লেখা হয়েছে তা বলাই বাহুল্য! ঈশ্বর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ৪৬ পৃষ্ঠাতে তিনি দেহবাদী আক্বীদাকে প্রচার করা হয়েছে!

যেহেতু বিষয়গুলো প্রতিটিই আক্বীদাগত তাই না লিখে পারলাম না!

অন্যদিকে শার’ঈ সম্পাদক সাহেবের “তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন” নিয়ে করা মন্তব্য দেখুন।
https://youtu.be/09clBNEKFKo

 

সমাধান

১.তিনি তার লেখার কোথাও ইসরা শব্দটা ব্যবহার করেননি। তিনি  ইসরা ও মিরাজের উভয় ক্ষেত্রেই মিরাজ শব্দটি ব্যবহার করেছেন! এবং বুরাক ব্যবহার করে মিরাজে যাওয়ার বিষয়ে  বেশ কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন! তাই এমন মনে হওয়া স্বাভাবিক! তাছাড়া তিনি কোনো তথ্যসূত্র ব্যবহার করেননি।

২. যে জিনিসটা ব্যাখ্যার দাবী রাখে, সেই বিষয়টাকে কিভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ বলতে পারেন? যদি হাদিস বা কুরআনের কোনো আয়াত অস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়, সেটাকে অস্বীকার না করে স্পষ্ট করে বললেই হতো! তাই না?

৩. তার এ বইটি খুব বেশি আলেম পড়বে না, বরং আমজনতাই পড়বে, তাই “আলেম হিসেবে তার শার’ঈ সম্পাদক বিষয়টা হয়ত আমলে নেয়নি।”, কিন্তু যেহেতু এটা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, আগামী সংস্করণে এটার সংস্কার আশা করতেই পারি! নয় কি?

৪. একটা মূলনীতি হলো, শত্রুপক্ষ যখন তাকে ডিবেটে আমন্ত্রণ জানাবে, তখন তিনি কোনো ভুল কথা বললে সেটাকে বাতিল বা রদ করতে হবে! তা না হলে বিভ্রান্তি হবে। যেমন- সে  মি’রাজ সম্পর্কে আরজ আলীর প্রথম যে প্যারাটা quote করেছেন সেখানে বুরাকের পাশাপাশি রফরফের কথাও ছিল, তিনি বুরাকের বিষয়টাকে বাতিল করলেও রফরফের বিষয়টাকে বাতিল করেননি। অথচ রফরফের বিষয়ে তিনি কিছুই লেখেননি! তার কমেন্ট পড়ে মনে হলো তিনি রফরফের বিষয়ে সন্দিগ্ধ  । সে ব্যপারে কোনো কথাই বলেননি! বলেছেন কি?

৫. তাকে কেন আহলে হাদিস বলেছি? ধরুন, আমি দেওয়ানবাগী পীরকে দিয়ে আমার বই যদি শার’ঈ সম্পাদনা করাই, আর আমাকে যদি কেউ দেওয়ানবাগীর মুরিদ বলে, তবে আমার মাইন্ড করার কি আছে?  তিনি এমন একজনকে দিয়ে শার’ঈ সম্পাদনা করিয়েছেন যিনি কিনা একজন সিলমারা আহলে হাদিস, সেখানে এরকম দাবী করলে মনক্ষুন্ন হবার কারণ দেখি না। তারপরও যদি সেটা না হয়ে থাকেন, দুঃখ পেয়ে থাকেন, ক্ষমা করে দিবেন।

৬. তার প্রতি আমাদের মনের কোনো ঝাল নাই! ঝাল থাকলে আপনার বই আমি আমারা প্রোমোট করতাম না! আর শার’ঈ সম্পাদকের বিপরীতে ঝাল রয়েছে অতোটুকু, যতটুকু তিনি তাফসিরে মা’আরেফুলের বিপরীতে বুকের মধ্যে পুষেন!

৭. বুরাকের ডানা আছে। সে মহাশূন্যে কিভাবে উড়বে, কেননা সেখানে কোনো বাতাস নেই, সুতরাং বুরাকের মহাশূন্যে যাওয়া অযৌক্তিক! – এরকম যুক্তি যদি ঔদার্য্যের পরিচায়ক হয়, তবে জিবরিলের ডানার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন আসা নিশ্চয়ই বড় ঔদার্যের পরিচয়বাহী হবে! একটা গ্রুপে দেখলাম, তিনি এরকম যুক্তি দিয়েছেন!

৮. তার মিরাজ সম্পর্কিত জবাবে আপত্তিকর আরেকটি পয়েন্ট মনে হয়েছে, তিনি বুরাককে একটা রূপক বস্তু হিসেবে (অর্থাৎ প্লেন) বুঝাতে চেয়েছেন।

আর এ কারনে তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন,
“এই বর্ণনা থেকে আরজ আলী সাহেবেরা ধরে নিয়েছেন যে, এটা মনে হয় কোনো প্রাণী সদৃশ যেটা নিশ্বাস নেয়, ঘাস খায়, মল ত্যাগ করে ইত্যাদি। কিন্তু হাদীসের কোনো রেওয়ায়েতে এ রকম কিছুই পাওয়া যায় না।”

হাদিসের বর্ণনা থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বুরাক ঘর্মাক্ত হওয়ার মত একটা জীব।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِالْبُرَاقِ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مُلْجَمًا مُسْرَجًا فَاسْتَصْعَبَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ أَبِمُحَمَّدٍ تَفْعَلُ هَذَا فَمَا رَكِبَكَ أَحَدٌ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْهُ قَالَ ‏ “‏ فَارْفَضَّ عَرَقًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

যে রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে (মিরাজে) ভ্রমণ করানো হয় সে রাতে তাঁর সামনে জিনপোষ আঁটা ও লাগাম বাঁধা একটি বোরাক আনা হয়। বোরাক তার পিঠে সাওয়ার হওয়াটা তাঁর জন্য অসম্ভব করে তুললে জিবরীল (‘আঃ) তাকে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে কেন এ রকম আচরণ করছ? অথচ আল্লাহ তা‘আলার সমীপে তাঁর চেয়ে বেশি সম্মানিত কেউ তোমর পিঠে সওয়ার হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এতে বোরাক ঘর্মাক্ত হয়ে যায়।

তিরমিযী, হাদিস নং ৩১৩১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

ভাই, ঘেমে যাওয়াটাকে কিসের সাথে তুলনা করবেন?

আরিফ ভাইকে বলছি, বইটা নিজে একবার পড়ুন!

ধন্যবাদ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

February 2021
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728  
shares
%d bloggers like this: