বৃহস্পতিবার, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

উদার মন ও চিন্তার অধিকারীরা একটু দাঁড়ান! -সাখওয়াত রাজী

উদার মন ও চিন্তার অধিকারীরা একটু দাঁড়ান!

– মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজী

নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তায়ালার নিকট দ্বীন বা ধর্ম হচ্ছে একমাত্র ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম গ্রহণযোগ্য নয় এবং হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহ্‌ তায়ালার সর্বশেষ রাসুল।
তবে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমুহ ও নবীদের সত্যায়নও একজন মুসলিমের ঈমানের জন্য অপরিহার্য বিষয়। হযরত আদম আঃ থেকে শুরু করে হযরত ঈসা আঃ পর্যন্ত প্রত্যেক নবী ও রাসুলগণও সত্য ছিলেন। কুরআন এবং সুন্নাহতে এ বিষয়টিও পরিষ্কার বর্ণিত আছে।
প্রশ্ন থেকে যায়, যদি সব নবী-রাসুল এবং তাদের ধর্মমত আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রেরিত ও স্বীকৃত হয়, তাহলে ইসলাম কেন একমাত্র মনোনীত ধর্ম হবে?
১) আদম আঃ প্রথম নবী। তাঁর সময়কার বিধিবিধান এখন প্রযোজ্য নয়। যার জন্য ইহুদী খ্রিস্টান নির্বিশেষে কেউ আদম আঃ এর উপর বিশ্বাস রাখা স্বত্বেও তাঁর বিধিবিধান ফলো করতে পারে না। কেননা, আল্লাহ্‌ তায়ালা সময়ে সময়ে নবী রাসুল প্রেরন করে নানা সংশোধনী এনেছেন। আর আল্লাহ্‌ তায়ালার দ্বীন বা ধর্মের সর্বশেষ এমেন্ডমেন্ট বা সংশোধনী হচ্ছে ইসলাম। সর্বশেষ রাসুল বা বার্তাবাহক হচ্ছেন মুহাম্মদ সাঃ।
২) পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমুহেও আখেরী জামানার পয়গম্বর মুহাম্মদ সাঃ এর আগমন ও তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের বাধ্যবাধকতার কথা আছে। সুতরাং কেউ যদি পূর্ববর্তী কিতাবসমুহ মানার দাবি করে তাকে কুরআন ও মুহাম্মদ সাঃকে মানতে হবে। আর কুরআনে আল্লাহ্‌ পাক স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন- এখন আমি দ্বীন হিসেবে ইসলামকেই তোমাদের জন্য মনোনীত করেছি।
৩) পূর্ববর্তী কিতাবসমুহ যে শব্দে বা যে ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল, আজকের পৃথিবীতে সে শব্দে বা ভাষায় এর একটি কপিও অবশিষ্ট নেই। যেসব ব্যাখ্যা বা অনুবাদ পাওয়া যায় তাতেও ব্যাপক রদবদল, পরিবর্তন-পরিবর্ধন সাধন করেছে ইহুদী নাসারারা। অতঃপর আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদের দ্বীনকে রহিত করে ঘোষণা করে দিয়েছেন- ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪) রাসুল সাঃ শেষ নবী। তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে আল-কুরআন। এ কুরআন কেয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। আল্লাহ্‌ তায়ালা নিজেই এই কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ হাফেজ আছে এই কুরআনের। দের হাজার বছরে তাঁর একটি নুকতাও পরিবর্তন হয়নি।
৫) মুহাম্মদ সাঃ সবার নবী। কুরআন সবার কিতাব। ইহুদী নাসারাদের এই হীনমন্যতায় ভোগার কোন কারণ নেই যে, ইসলাম মেনে নিলে মুসলমানদের ইসলাম মেনে নেয়া হবে। বরং ইসলাম গ্রহণ করে সঠিকভাবে পালন করলে ইসলাম তোমাদেরও হবে।
***মুসলমান ধর্মগুরুদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তাদের কোন আচরণে যেন এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় যে, সব ধর্মই সত্য এবং যে কোন একটা মানলেই নাজাত পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

February 2021
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728  
shares
%d bloggers like this: