শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরন – মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী

‘মিয়ানমারের বিতর্কিত সেনা ও বৌদ্ধ মগ গোষ্ঠির লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুসলিম রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে। তাদের অসহায়ত্ব দেখে হৃদয়ে কাঁপুনি সৃষ্টি হলো। তাদের নূন্যতম খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তায় আমি ব্যাকুল হয়ে উঠি। তাই ছুটে গিয়েছিলাম সেখানে । কিছুদিন সেখানে ঘুরে ঘুরে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে । অভিজ্ঞতা গুলো আপনাদের সামনে পেশ করছি ।

Image may contain: 6 people, people standing

মুল আহবান হল,সু-চিন্তিত ও পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। 
তাই আগেই জেনে নিতে হবে কোথায় আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা আছে?
আমাদের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনটি থানায় মোট ১২ টি ক্যাম্প আছে।
নাইক্ষাংছড়ি থানা
****************
১) চাকঢালা বৃহত্তম ক্যাম্প
২) তুলাতলি ছোট ক্যাম্প
৩) ঘুমধুম ক্যাম্প

উখিয়া
******
৪) কুতুপালং এর পিছনে মধুছড়া ক্যাম্প
৫) বালুখালি নতুন ক্যাম্প
৬) থ্যাংখালি উত্তর ক্যাম্প
৭) থ্যাংখালি দক্ষিণ ক্যাম্প

টেকনাপ
********
৮) জামতলি ক্যাম্প
৯) পালংখালি ক্যাম্প
১০) উনচিপ্রাং,রইক্ষাং,পুটিবুনিয়া ক্যাম্প
১১) লেদা ক্যাম্প
১২) মুছুনি ক্যাম্প
আমরা অবশ্যই খেয়াল রাখব যেন এ ক্যাম্পগুলোতে গড়ে উঠা নতুনদের মাঝে আমাদের খেদমত পৌছানো যায়।
কারণ নিজ চোখে দেখেছি তারা কত টা মাজলুম ও মাহরুম।
অবশ্য এ কাজ আঞ্জাম দিতে হলে কয়েকমাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই শারিরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসলে ভালো হয়।

Image may contain: one or more people, people standing, wedding, sky, outdoor and nature

অভিজ্ঞতা শেয়ার – ২
রাস্তায় নয়,ঘরে ঘরে গিয়ে উপযুক্ত লোকদের হাতে ত্রাণ তুলে দিন।
*********************************
রাস্তার পাশে বসে থাকা লোকগুলো দেখে খুব মায়া হয়,মন চায় এদেরকেই সব ত্রাণ দিয়ে দেই।
আহ! কত জুলুমের শিকার এ লোকগুলো।
ঘর-বাড়ি, পরিবার-পরিজন হারিয়ে আজ রাস্তায় বসেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও তাদের নেই।
কি করবে?কি খাবে?কোথায় যাবে?
তাই যথাসাধ্য সবাই চেষ্টা করছি নিজেদের সবটুকু তাদের হাতে তুলে দিয়ে পাশে দাঁড়াতে।
এটাই আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ এবং ঈমানি তাগাদা। আপনি আমি যা করছি সবাই এটাই করছে।
কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। আমরা যাদের রাস্তায় পাশে দেখছি আর আবেগের বশে তাদের মধ্যে সব বিলিয়ে দিচ্ছি তারা সবাই কিন্তু এবারে আসা আরাকানি /রুহিংগা না।
স্থানীয় ও অভিজ্ঞদের মতামত হল, রাস্তার পাশে বসে থাকা লোকগুলো তিন ধরনের।
(আমাদেরও এমনই মনে হয়েছে)
১) চিটাগাংয়ের ভাষা জানা ফকির(স্থানীয় বা দুরের)
২) পুরাতন রুহিংগা। (রেজিস্ট্রিভুক্ত ক্যাম্পের সদস্য)যাদের থাকা-খানা সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস কম হলেও আছে।
৩) নতুন রুহিংগা।
উপরোক্ত তিন শ্রেণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি পুরাতন রুহিংগাদের। তারপর স্থানীয় ফকিরদের।
আর নতুন রুহিংগাদের সংখা সবচেয়ে কম।তার বাস্তব প্রমাণ হল, যখন রাস্তায় ত্রাণ দখলের লড়াই চলছে তখনও আমরা নতুন ক্যাম্পগুলোতে গিয়ে দেখেছি আগত মুহাজির নারী-পুরুষ নিজ নিজ ঘরেই বসে আছেন।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে তারা খায় কী?
জি,আমরা এ তথ্যও তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।
তারা হিজরতের সময় সাথে নিয়ে আসা নগদ অর্থ। এ গুলো শেষ হলে স্ত্রী সন্তানদের গহনা ইত্যাদি বিক্রি করে স্থানীয় বাজার থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করে খাচ্ছেন।
আর শেষ হলে হয়ত তারাও বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসছে।আর এই অল্প সংখ্যক লোকই মুল ত্রাণ নিতে রাস্তায় আসে।
এখন আমাদের কাজ হল,একটু কষ্ট হলেও খবর নেওয়া নতুন ক্যাম্পগুলোর বা নতুনরা কোথায় অবস্থান করছেন? তারপর তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেয়া।
কিভাবে দিব?
************
আগত মুহাজিররা তাদের বিভিন্ন কাজের ইন্তেজামের লক্ষে নিজেদের একজন কে
নেতা বানিয়ে রেখেছে। তাদের ভাষায় “মাঝি”।
মাঝিকে খবর দিয়ে তাদের পরিবার সংখা, কি প্রয়োজন, গরিব কতজন, আহত কতজন, বিধবা কতজন? ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য নিয়ে তারপর ঘরে ঘরে গিয়ে বিতরণ করলে আশা করি আসল হকদাররা পাবে।

অভিজ্ঞতা শেয়ার – ৩
মেডিকেল ক্যাম্পগুলো কোথায় স্থাপন করলে বেশি ভালো হয়?
আলহামদুলিল্লাহ।
আমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা বিভিন্ন সেবা দিচ্ছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল,মেডিকেল সেবা।
কিন্তু অধিকাংশ মেডিকেল ক্যাম্পগুলো রাস্তার পাশে হওয়ায় মুল হকদাররা সেবা পাচ্ছেনা। এখানেও স্থানীয় মানুষ ও পুরাতন রুহিংগারাই বেশি ভীড় করে। 
তাই অনুরোধ থাকবে একটু কষ্ট হলেও নতুন ক্যাম্পগুলোতে যেয়ে ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ থাকল
এখানে দু ধরনের চিকিৎসা দরকার।
১) বার্মিজ জংগিদের হাতে আহত
ক) ছুরিকাহত
খ) গুলিবিদ্ধ
গ) আগুনে পোড়া
২) সাধারণ রোগ
ক) পানিবাহিত রোগ
খ) কলেরা
গ) চর্ম,যৌন
ঘ) গর্ভধারিণী মায়েদের উপযোগী চিকিৎসা
ঙ) শিশুরোগ
ইত্যাদি।


আল্লাহ আমাদেরকে এখলাসের সাথে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী

প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতি at জামিয়া ইসলামিয়া রওজাতুল উলুম বাউনিয়াবাদ,ঢাকা।

খতিবঃ বিসিএস আই আর (সাইন্স ল্যাব) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ , ধানমন্ডী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

August 2020
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
shares