মঙ্গলবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরি

নাফ নদীর ওপারে মগদের অতাচার এপারে এনজিওগুলোর !একদিকে জানের ভয় আরেক দিকে ইমান যায়…..

Khutbah Tv

রেজোয়ানুর রহমানঃ  ক্যাম্প গুলোতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা কতটা কষ্টে আছে তা আমাদের ধারণারও বাইরে।কতটা বিপদসংকুল পরিবেশে তারা বসবাস করছে।

প্রতিটা মুহূর্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে যা স্বচক্ষে না দেখলে উপলব্দি করা সম্ভব নয়।

টেকনাফের শুরু (উখিয়া) থেকে নিয়ে শেষ (শাহ পরীর দ্বীপ) পর্যন্ত পাহাড়ে-পাহাড়ে,টিলায়-টিলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি।ঘর বললে ভুলই হবে।খুব বেশি হলে জির্ন কুটির বলা যেতে পারে।বাশেঁর চিকন বাতার কাঠামোর উপর পাতলা প্লাস্টিকের তেরপল।ছাদ-দেয়াল একই উপকরনে তৈরি।

পাহাড় কেটে মাটি ফেলে এর উপর উঠানো হচ্ছে ঘর।যা দিয়ে না রৌদ্রের প্রখরতা আটকানো সম্ভব।না শীতের তিব্রতা।উপরন্তু বৃষ্টি হলে যে কোন সময় পাহাড় ধ্বসে ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা।ঘরের মেঝেতেও পাতলা তেরপল বিছিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে কি অবস্থা হবে তা বলাই বাহুল্য।

এত প্রতিকুলতার মধ্যেও অসহায় মানুষগুলো কোন রকম মাথা গোজার ঠাঁই খুজে নিয়েছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হল বার্মা থেকে জান নিয়ে পালিয়ে এলেও বাংলাদেশে ইমান নিয়ে বাঁচা তাদের জন্য মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।কারণ কতিপয় এনজিও গুলোর বদনজর পড়েছে তাদের ইমানের উপর।

ব্রাক,ইউনিসেফ,সেভ দ্যা চিলড্রেন সহ অন্যান্য খৃষ্টান এনজিও গুলো মুসলমানের ইমান হরণ করার কাজ সুকৌশলে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।সেবার নামে ধর্মান্তরিত করার ফাঁদ পেতে মানুষকে মুরতাদ বানানোই এই সংস্থাগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

তবে তাদের কুমতলব হাসিলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হল এদেশের উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান।যার কারণে এনজিও গুলো তেমন সুবিধা করতে পারছেনা।

আলহামদুলিল্লাহ!প্রত্যেক পাহাড়ে মসজীদ মক্তব মাদরাসা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে তাওহীদ ও রিসালাতের,ইমান ও কুফরের,হক্ক ও বাতিলের।

প্রত্যেক ওয়াক্তে পাহাড় থেকে পাহাড়ে ভেসে আসছে আযানের হৃদয়কাঁড়া সুর।মক্তবে বাচ্চাদের তিলাওয়াতের জান্নাতি পরিবেশ।যার দরুন এনজিও গুলোর মাথা ব্যাথার শেষ নেই।

দাঁড়ি টুপি ওয়ালারা আনসারের ভূমিকা পালন করছে নিঃস্বার্থ ভাবে।এমন কোন পাহাড় পাওয়া যাবেনা যেখানে মসজীদ নেই,মক্তব নেই।আর এমন কোন যায়গা নেই যেখানে মৌলভিদের আনাগোনা নেই।

কাকরাইল থেকে শত শত জামাত যাচ্ছে,আমাদের উলামায়ে কেরাম,বিভিন্ন ইসলামী দল,হক্কানি পীর সাহেবদের মুরীদ এমনকি প্রত্যেক মহল্লা,মসজীদ থেকে ইমাম সাহেবগণ মুসল্লিদের নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন পাহাড়ে গিয়ে যখন পূর্ব থেকেই হুজুরদের তৈরি মক্তব মাদরাসা তারা দেখলো তখন বেছে নিলো ভয় ভিতি প্রদর্শনের পথ।স্কুল বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের জায়গা তো নেই।আগেই হুজুররা যা করার করে রেখেছে।যখন ভয় ভিতি দেখানোর পরও সুবিধা হলোনা তখন এনজিও গুলো আরো সূক্ষ চাল চালতে শুরু করেছে।

হুজুররা চলেগেলে তো তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার আর কেউ থাকবেনা।যেহেতু কিছুতেই তারা আল্লাহর এই বান্দাদের সাথে পেরে উঠছেনা।

তাই তাদের আরেক ষঢ়যন্ত্রের নমুনা হল হুজুরদের যেকোন ভাবে আটকে দেয়া।আর এই কাজে তারা কোন কমতিও করছেনা।

আল্লাহ তায়ালা যাতে আমাদের জন্য পথ খুলেদেন।এনজিওদের চক্রান্ত থেকে মুহাজির ভাইদেরকে ও আমাদের হেফাযত করেন সেই দুয়াই করি।

যদি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ইমান বাঁচানোর ক্ষেত্রে কোন কমতি হয় আর এনজিওগুলো তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে কামিয়াব হয়ে যায় তাহলে রোজ কেয়ামতে আল্লাহর সামনে দেয়ার মত কোন জবাব আমাদের কাছে থাকবেনা।

এই জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাই ফরিয়াদ করি রোনাজারির মাধ্যমে।যাতে আমাদেন ভাইদের ইমানের হেফাযত হয়।এনজিওর ফিৎনা থেকেও তারা মুক্ত থাকতে পারে।….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

September 2020
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
shares