বুধবার, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

প্রচারের আড়ালে থাকা সাহাবী আদর্শের এক জলন্ত প্রতিচ্ছবি, বাংলার গর্বিত সন্তান- মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ

Khutbah Tv: দৃশ্যটির প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি। মাজলূমদের সেবায় হুজুরের দরদ আমাদের বার বার পুলকিত করেছে। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর প্রচারহীন কাজগুলো। এতোদিন কাজের মধ্যে কখনো ইচ্ছাকৃত কোনো ফটো শেষন করেননি। যতোটুকু সম্ভব স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে আমরাই মাঝে মাঝে ক্লিক করেছি। যে ছবিটি দেখছেন, এটি একটি ভারী ঔষধ/সিরাপের কার্টুন। ওরা বিছানায় কাতরাচ্ছে। পথপানে তাকিয়ে থাকে আনসারদের অপেক্ষায়। দীর্ঘ একমাস হলেও ঐ ক্যাম্পে এখনো কোনো চিকিৎসা ক্যাম্প বসেনি। দ্রুত ঔষধগুলো পৌঁছুতে হবে। ডাক্তাররা প্রস্তুত। প্রস্তুত চিকিৎসা ক্যাম্পও। প্রয়োজন শুধুমাত্র ঔষধের। রোহিঙ্গা মাজলূমানের সেবায় ব্যাকূল হয়ে উঠলো তাঁর মন। তিনি নিজেও তখন অসুস্থ। কিন্তু শ্রমিকের সংখ্যা কম। অপেক্ষা করার মতো সময়ও নেই। মাজলূম অসুস্থরা তাঁবুর ফাঁকা দিয়ে বার বার বাইরের দিকে তাকায়। হয়তো কেউ একজন তাদের দরদে দরদী হয়ে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসবে বলে। অতোশতো ভাবার টাইম নেই। তিনি তা’লীমুদ্দীন ফাউন্ডেশনের ডাক্তার প্যানেলের আব্দুস শাকুর ভাইকে বললেন, দিন তো! সিরাপের কাটুনটি মাথায় তুলে দিন! রাজি হচ্ছিলো না আব্দুস শাকূর ভাই। হুজুর আপনি অসুস্থ। তা ছাড়াও আপনার মাথায় বোঝা টানবেন তা আমরা মানতে পারবো না। হুজুর তাকে মুহাব্বতের ধমক দিতেই কাটুনটি হুজুরের মাথায় তুলে দিলো আব্দুস শাকূর ভাই। হুজুর যতোটা সহজ মনে করেছিলেন, ততোটা সহজ ছিলো না এই ভারী বোঝাটা বহন করে নেয়া। হুজুরের হাঁটার অভ্যাস কম। তবে মাজলূমের সেবায় কতো মাইল যে হেঁটেছেন তার সঠিক হিসেব দিতে পারবো না। শুধু দেখতাম হোটেলে ফিরে পায়ের ব্যথায় অস্থির থাকতেন। হাঁটতেন খুড়িয়ে খুড়িয়ে। সেই মানুষটি এমন একটি ভারী বোঝা বহন করে প্রায় ৪০মিনিটের পথ পারি দিবেন!

এতোটা পরিশ্রম হয়তো সম্ভব হবে না। সে পরিশ্রমেও তেমন অভ্যস্ত নন। কিন্তু রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁর কোরবানী একটি ইতিহাস বলতে পারেন। ক্যামেরা নিয়ে পেছনে পেছনে ছুটলাম। অবিস্মরণীয় এ মুহূর্তগুলি ধারণ করলাম ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হিসেবে। কিন্তু কিছুদূর যেতেই আমার ধারণা সঠিক প্রমাণ হলো। মাথা থেকে কাটুন নামিয়ে ফেললেন। বললেন, এতো কষ্ট বোঝা বহনে! তাহলে শ্রমিকরা কেমন করে? বললাম, এখান থেকে আমি বোঝাটা নিয়ে যাই। না, ওদের কষ্টটা অনুভব করতে হলে শেষ পর্যন্ত আমাকে যেতেই হবে। বললেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ

শেষতক এভাবেই ‘তানজিমার খোলা’ রোহিঙ্গা বসতিতে পৌঁছেন তিনি। এর আগে এ বসতিতে ‘মারকাযুত তাকওয়া ত্রাণ টিম’ কর্তৃক দুটি চিকিৎসা ক্যাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। যেখানে হোমিও ও এলোপ্যাথিক দুই পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করা হয় মাজলূম রোগীদের। কথাগুলো জানিয়েছেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ সাহেবের ব্যক্তিগত সহকারী মুফতী সাঈদুর রহমান সাদী।

Archives

June 2024
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930