রবিবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪২ হিজরি

রাজারবাগী সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন – সতর্ক হোন

Khutbah Tv 

বিনা পুঁজির জমজমাট ব্যবসা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে যে তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন হয় তা সংগ্রহ করতে গিয়ে তথাকথিত মহান ‘বাবা’-দের ভিতরের অবস্থা দেখে তো চক্ষু ছানাবড়া হওয়া ছাড়া উপায় নেই এবং এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘বাবা’-দের গোস্বারও স্বীকার হতে হয়। শুধু ‘বাবা’-দের নয়, সাথে সাথে তার পুত্রদেরও তীব্র গোস্বার স্বীকার হতে হয়েছে। মজার বিষয় হলো এইসব ভন্ড ‘বাবা’-দের কোন কেরামতি বা চমৎকারিত্ব দেখতে বা শুনতে পায় না। প্রতিবেদক নাকি অন্যায়ভাবে এসব লিখেছে অথচ প্রতিবেদককে তাদের (‘বাবা’-দের) রুহানী শক্তি দ্বারা লেখনী বন্ধ করা বা কোনরূপ শায়েস্তাও করতে পারছে না। প্রতিবেদককে শায়েস্তা করতে আদর্শ পুত্রদের পাশাপাশি ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারপরেও এই আদর্শপুত্রদের বোধোদয় হয়নি যে, ‘বাবা’-তো আসলে ভন্ড, তার কোন রুহানী শক্তিই নেই ‘সে মাছের তেলে মাছ ভেজে খাচ্ছে’।

ভন্ড ‘বাবা’-দের সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় সব ‘বাবা’-ই ক্ষিপ্ত হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ধূর্ত জিল্লুর রহমান রাজারবাগীও খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কথায় আছে না সত্য বললে মা’ও ঝাটা নিয়ে আসে। আর ‘বাবা’-গণতো ধর্ম ব্যবসায়ী, বিনা পুঁজির ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে ঐ ‘বাবা’-দের। সুতরাং জিল্লুর রহমান রাজারবাগীও যে ক্ষিপ্ত হবে সেটাই স্বাভাবিক। বিনা পুঁজির জমজমাট ব্যবসা-০৫ পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পর রাজারবাগীর পক্ষ হতে টেলিফোনেসহ নানান মাধ্যমে হুমকি-ধামকি, অশ্রাব্য ভাষায় কটুক্তি আসতে থাকে। এক পর্যায়ে রবিবার রাত আনুমানিক ১০.৩০ মিঃ এ একাধিক ব্যক্তি মতিঝিলস্থ পরিবহন ভবনে আসে। তারা টেলিফোনে (৯৫৫৮৪২২ নম্বরে) প্রতিবাদলিপি গ্রহণের জন্য বেশ পীড়া-পিড়ি করে এবং একপর্যায়ে দু’ব্যক্তি আজকের জনকথা অফিসে প্রায় জোর করেই প্রবেশ করে। সাধারণ পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপী পরিহিত এক ব্যক্তি নিজেকে এডভোকেট পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদলিপি গ্রহণ করার জন্য বলে। তখন পত্রিকা অফিসের স্টাফ দিনের বেলায় অফিস চলাকালীন সময়ে নিয়ে আসার অনুরোধ জানালে এডভোকেট সাহেবের সঙ্গী সাদা আলখেল্লায় আবৃত যুবক খুবই উত্তেজিত হয়ে অফিসের লোকজনদেরকে অশ্রাব্য ভাষায় কটুক্তি করতে থাকে। প্রতিবেদক সম্পর্কে নানা মন্তব্য করে প্রতিবাদলিপি গ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় উক্ত এডভোকেট ও পত্রিকা অফিসের একজন জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং প্রতিবাদলিপিটি গ্রহণ করা হয়। এভাবেই ধূর্ত রাজারবাগী তার ষন্ডা অনুচর দিয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠায়। ধূর্ত রাজারবাগীর প্রতিবাদ এখানেই শেষ নয়, সে পরদিন বিকেল ৪.৩০ মিঃ। এ শেখর আহমদ, এডভোকেট স্বাক্ষরিত একটি লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে জনৈক ব্যক্তিকে পাঠায়। লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর যে স্বাভাবিক পদ্ধতি, তা অনুসরণ না করেই জনৈক ব্যক্তির হাতে দিয়ে তা পাঠানো হয়। লিগ্যাল নোটিশে জবাবদানের জন্য ১ দিনের সময় দেয়া হয়। এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবীগণের সাথে আলাপে উনারা জানান যে, যে কোন লিগ্যাল নোটিশ পাঠাইতে হইলে রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠাইতে হয় এবং লিখিত জবাবদানে ‘ (এক) দিনের সময় প্রদানের বিষয়ে বলেন যে, আত্মপক্ষ সমর্থনে রাষ্ট্র সকল নাগরিককে পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ প্রদান করে থাকে। আমাদের আইন বিভাগ উক্ত লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পাঠক, একটু খেয়াল করলেই এখানেও রাজারবাগীর ধূর্ততার প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। এবার আসা যাক কি ছিল সেই প্রতিবাদপত্রে-আর কি থাকছে প্রতিবেদকের বক্তব্যে ঃ- রাজারবাগ পীরের মুখপাত্র মুহম্মদ মাহবুব আলম, সম্পাদক-দৈনিক আল-ইহসান এবং মাসিক আল-বায়্যিনাত-এর পক্ষে সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুক্তাদুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক-দৈনিক আল-ইহসান, প্রতিবাদপত্রটি প্রধান সম্পাদক, আজকের জনকথা বরাবরে পাঠিয়ে গৎবাধা ভাষায় বলেছেন যে, প্রতিবেদনটি অবাঞ্ছিত, মিথ্যা, অন্যায় ও অজ্ঞতাপ্রসূত মানহানিকর ও ধূর্ত।

প্রতিবাদকারী উল্লেখ করেছেন যে, ‘কিন্তু বিনা পুঁজির কি ব্যবসা এবং ব্যবসায় কি ধূর্ততা তার কোন প্রমাণ প্রতিবেদক উল্লেখ করতে পারেনি।” প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ এখানে প্রতিবাদকারী ব্যবসার কথা স্বীকার করে প্রশ্ন রেখেছেন ব্যবসাটি বিনা পুঁজির কিনা? এবং ব্যবসার মধ্যে কোন ধূর্ততা রয়েছে কি না, এবং প্রতিবেদক এর প্রমাণ উল্লেখ করেনি। প্রতিবাদকারী যদি পুরো প্রতিবেদনটি পড়ে থাকেন তাহলে দেখতে পেতেন প্রতিবেদনের শুরুতে এবং ২য় অর্ধাংশে বিনা পুঁজির ব্যবসা সম্পর্কে লিখা আছে এবং পূর্বের প্রতিবেদনগুলোতেও উল্লেখ আছে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদকারী উল্লেখ করেছে যে, “যদি সে পীর সাহেব হওয়াকে ব্যবসা বুঝিয়ে থাকে তাহলে সে ‘কুরআন শরীফ, হাদিস শরীফককে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করার কারণে কুফরী করেছে। প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ- প্রতিবাদকারীর এই বক্তব্যে মনে হয় ‘কুরআন-হাদিস’ রাজারবাগীর পৈতৃক সম্পদ, ‘যেভাবে খুশী সেভাবে সে তার ব্যবহার করছে। পীর সাহেব হওয়া যদি ব্যবসা বোঝানোও হয়ে থাকে তাহলে উনি এই ফতোয়া কিভাবে দেন? ইসলামে তথা সমগ্র কুরআন শরীফ এবং সহীহ হাদিস শরীফ-এর কোথায় পীর সম্পর্কে বলা আছে? কুরআন-হাদিসের কোথাও পীর হওয়া সম্পর্কিত একটি বাক্যও লিখিত নাই বরং কুরআনে পীরগিরির বিরুদ্ধে সুরা আ’রাফে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন। আর যে সম্পর্কে কুরআন-হাদিসের কোথাও বলা হয় নাই সে সম্পর্কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের কোন প্রসঙ্গই আসে না। প্রতিবাদকারী পীর সম্পর্কে উল্লেখ করেছে যে, “কারণ মহান আল্লাহপাক কুরআন শরীফে ছদিক্বীন বা ওলী আল্লাহ বা পীর(!) সাহেবদের সঙ্গী হওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশ করেছেন। আল্লাহপাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেছেন-‘তোমরা ছদিক্বীন বা ওলী আল্লাহগণের সঙ্গী হয়ে যাও। অন্য আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক বলেছেন ‘তোমরা মহান আল্লাহ পাকের অনুসরণ কর। তার রসুলের অনুসরণ কর এবং উলীল আমর বা ওলী আল্লাহগণের অনুসরণ কর।” উল্লেখিত আয়াত শরীফ অনুযায়ী রাজারবাগের পীর বেমেছাল মহান ওলী আল্লাহ।

প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ কথায় আছে ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ অর্থাৎ গ্রামের কেউ না মানলেও আমি নিজেই মোড়ল। রাজারবাগীর অবস্থা এমনটাই। ইতিপূর্বে বলা হয়েছে রাজারবাগী গং কুরআন-হাদিসকে নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে যা খুশী তাই নিজ ধারণা অনুযায়ী অর্থ প্রকাশ করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মহান আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমে ছদিক্বীন অর্থ সত্যবাদী অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা’আলার হুকুম-আহকাম, রসুল (সঃ) এর হুকুম আহকাম সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখে এ তদানুযায়ী জীবন পরিচালিত করে এবং আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামী শরীয়তের জ্ঞানসমূহ, হুকুম-আহকামসমূহ অপরের নিকট গিয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা-মেহনত করে, কোনরকম বিনিময়ের আশা না করে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য। তারাই হলেন ছদিক্বীন বা সত্যবাদী। গর্তের ভিতর অবস্থান নিয়ে চেলা-চামুন্ডা দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে নয়। আর এ আয়াত পালন করা বান্দা’র জন্য ফরজে কিফায়া। যদি বান্দা এটা অনুসরণ করে তাহলে সে অনেক উপকার ও লাভের অধিকারী হবে আর অনুসরণ না করলে কোন গুণাহ হবে না। রাজারবাগী এ আয়াতকে আল্লাহর অলংঘনীয় নির্দেশ বোঝাতে চেয়ে মানুষকে নিজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আরেকটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। অপর আয়াতে প্রতিবাদকারী যা বলেছে, তাতেও ধূর্ততার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। আলোচ্য আয়াতটি পূর্ণাঙ্গ নয়। পূর্ণাঙ্গ আয়াত হল-সুরা নিসার ৫৯ নং আয়াত। পূর্ণাঙ্গ আয়াতটির অর্থ : ‘হে ঈমানদারগণ : তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসুল (সাঃ) এর অনুগত হও এবং তোমাদের মধ্যে অবস্থিত আদেশদাতা নেতৃবর্গ (বা উচ্চ পর্যায়ের উলামা) এর অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে (এই নেতৃবর্গের মধ্যে) বিভেদ বা মতানৈক্য বা মতবিরোধ ঘটে তাহলে আল্লাহ ও রসুলের দিকে ফিরে যাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর। আর এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।” এখানে উলুল আমর বলতে কোন পীর সাহেবকে বোঝানো হয়নি (প্রতিবাদকারী এখানে তার পীরের মনগড়া, বানানো অর্থ উল্লেখ করেছে যা তার পীর ‘মানুষদেরকে’ বশে আনার এক ধূর্ত কৌশল অবম্বলন করেছে)। ‘উলুল আমর’ বলতে নেতা ও শাসকগণ। কেউ কেউ নেতা বা ধর্মীয় জ্ঞানীগণের কথা বলেছেন। অর্থের দিক দিয়ে উভয়শ্রেণীর মান্যবরদেরকেই বুঝানো যেতে পারে। রাজারবাগী এখানে ধূর্ততার আশ্রয় নিয়ে নিজেকে ‘উলুল আমর’ বানানোর চেষ্টা করেছে কারণ রাজারবাগীর মত একজন ইলমে দ্বীনহীন ব্যক্তির ‘উলুল আমর’ হওয়ার কোন সুযোগই নেই। কারণ, না সে কোন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কোন স্তরের নেতা আর না, সে ইলমেদ্বীন সম্পর্কিত একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। এখানে আরেকটি ধূর্ত কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে যা এ ধরনের ধূর্ত কৌশলীরাই একমাত্র করে থাকে, আর তা হলো আয়াতের বাকি অংশ ‘অতপর তাদের (উলুল আমর) মধ্যে যদি কোন বিভেদ বা মতানৈক্য পাও, তাহলে তোমরা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ফিরে যাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী হও’ এ অংশ উল্লেখ না করে। কারণ এ আয়াতে আল্লাহ পাক ‘উলিল আমর’-এর কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত করে দিয়েছেন। প্রকৃত আনুগত্য হলো আল্লাহ তা’আলার। কারণ আল্লাহ তা’আলা সুরা আ’রাফের ৫৪ নং আয়াতে বলেন, “জেনে রাখো, সৃষ্টি করা এবং নির্দেশদান তারই কাজ” ‘বিধান দেওয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই”। (ইউসুফ-৪০) কিন্তু রসুল (সঃ) যেহেতু মহান আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছার এক নিষ্ঠাবান প্রকাশক এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথগুলো (মানুষের কাছে) তুলে ধরার ব্যাপারে তিনি তার প্রতিনিধি, এ জন্যই মহান আল্লাহ তা’আলার স্বীয় আনুগত্যের সাথে সাথে রসুল (সঃ)-এর আনুগত্য করাকেও ওয়াজিব করে দেন এবং বলেন যে, রসুল (সঃ)-এর আনুগত্য করলে প্রকৃতপক্ষে তাঁরই (আল্লাহর) আনুগত্য করা হয় (যে ব্যক্তি রসুলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ সুরা নিসা : ৮০)। সহীহ হাদিসে আবু হুরাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : ‘আমার আনুগত্য স্বীকারকারী হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য স্বীকারকারী এবং যে আমার অবাধ্য হয়েছে সে আল্লাহ তা’আলার অবাধ্য হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার নির্বাচিত আমীর-এর অবাধ্য হয়েছে সে আমারই অবাধ্য হয়েছে।’ সুতরাং এ হলো আলেম ও আমীরগণের আনুগত্য স্বীকারের নির্দেশ। এ আয়াতে এরশাদ হচ্ছে-‘তোমরা আল্লাহ তা’আলার অনুগত হও’ অর্থাৎ তার কিতাবের অনুসারী হও।’ আল্লাহ তা’আলার রসুল (সাঃ)-এর অনুগত হও’ অর্থাৎ তার সুন্নাতের উপর আমল কর। আর তোমাদের আদেশদাতাদের আনুগত্য স্বীকার কর। অর্থাৎ তাদের ঐ নির্দেশের প্রতি অনুগত হও যেখানে আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য রয়েছে। তারা যদি আল্লাহ তা’আলার নির্দেশের বিপরীত কোন আদেশ করে তবে তাদের সে আদেশ মান্য করা হারাম। যেমন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘আনুগত্য শুধু আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির কার্য্যইে রয়েছে’ অর্থাৎ তাদের আনুগত্য রয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সাঃ)-এর নির্দেশের বেষ্টনীর মধ্যে।
মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে, হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলার অবাধ্যতার কার্য্যে আনুগত্য নেই।’ অতপর আল্লাহ পাক বলেন-‘যদি তোমাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ সৃষ্টি হয় তবে আল্লাহ ও তার রসুল (সাঃ)-এর দিকে প্রত্যাবর্তিত হও।’ অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও রসুল (সঃ) এর হাদিসের দিকে ফিরে এসো। সুতরাং এখানে স্পষ্ট ভাষায় মহা সম্মানিত আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ হচ্ছে যে, যে মাসায়ালায় মানুষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ঐ মাসায়ালা ধর্মনীতি সম্পর্কীয়ই হোক, বা ধর্মের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কীয়ই হোক এর মীমাংসার জন্য একটিমাত্র পথ রয়েছে, তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও রসুল (সঃ)-এর হাদিসকে মীমাংসাকারী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এ দুটোর মধ্যে যা রয়েছে তাই মেনে নিতে হবে। (তাফসীর ইবনে কাছীর) এখানে ‘উলুল আমর’ ও এর সাথে যুক্ত আয়াতের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরা হয়েছে, ক্ষুদ্র পরিসরের জন্য বিস্তারিত তুলে ধরা সম্ভব নয়। যাই হোক ‘উলুল আমর’ বলতে যা বোঝায় তার কোন যোগ্যতাই রাজারবাগীর মধ্যে বিদ্যমান নেই। অতএব, রাজারবাগী সম্পর্কে যা যা দাবি করা হয়েছে তা শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। তার আক্বীদা ও আমলের মাঝে শিরক, বিদা’আত-এর বাহুল্যতা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তার শিরক, কুফর ও বিদা’আতের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণাদিসহ তুলে ধরা হবে।

‘এ পর্যন্ত কোন মায়ের সন্তানের জন্ম হয়নি যে, উনার কোন আক্বীদা, আমল ইসলামী শরীয়তের খিলাফ প্রমাণ করতে পারে। ‘প্রতিবাদকারীর এ বক্তব্য কোন ভদ্রলোকের সন্তানের মত মনে হয়নি। ঢাকার বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মাদকাসক্তদের ব্যবহৃত ভাষা এটি। এ ধরনের ভাষায় মাদকসেবীরা একে অপরকে বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে থাকে। এরপরেই প্রতিবাদকারী উল্লেখ করেছে-‘এ বিষয়ে উনার একশত কোটি টাকার প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য : এখানে একশত কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ দ্বারা রাজারবাগী তার জুয়াড়ী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। ধর্ম পালন বা নেক আমল করার ব্যাপারে কেউ যে চ্যালেঞ্জ করতে পারে তা ভাবাই যায় না। এ যেন কোন পণ্যের খাটিত্বের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে, যেমন ‘আমার গোয়ালের দুধ, ‘খাটি দুধ’। ৫ হাজার টাকার চ্যালেঞ্জ, ভেজাল প্রমাণ করতে পারলে।’ এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমেই বোঝা যায় যে, কুরআন-হাদিসের কতটুকু জ্ঞান রাজারবাগীর আছে!
প্রকৃতপক্ষে কোন আল্লাহওয়ালা আলেম এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন না। তারপরেও রাজারবাগী ঘোষিত ১০০ কোটি টাকার মালিকানার উৎস জানালে এবং এনবিআর হতে এত টাকার চ্যালেঞ্জের অনুমতি আনতে পারলে মিথ্যা প্রমাণে প্রকাশ্যেই বাহাস মোকাবেলা করা যাবে। এখন রাজারবাগী সিদ্ধান্ত নেবে তার চ্যালেঞ্জর পাল্টা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে? নাকি, ১০০ কোটি টাকার মিথ্যা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে মর্মে স্বীকারোক্তি দেবে। প্রতিবেদক মৌলবাদী বা জঙ্গীগ্রুপের অর্থপুষ্ট সম্পর্কে বলা যায়, রাজারবাগীদের পরঃধন গ্রহণের অভ্যাসহেতু এ প্রতিবেদককেও তাদের মত নষ্ট চরিত্রের অধিকারী মনে করেছে। সে কারণেই তারা প্রতিবেদক সম্পর্কে অভ্যাসমত অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছে। প্রতিবেদক এ সমস্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে শুধুমাত্র সরলমতি মানুষদের সম্মুখে পীরদের মুখোশ উন্মোচনে সত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে। যেন তারা বিভ্রান্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারে। জঙ্গীগ্রুপ বা মৌলবাদী গ্রুপ ইসলাম ধ্বংসকারী গ্রুপ, তাদের পক্ষাবলম্বন করা কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব না। প্রতিবাদকারী উল্লেখ করেছে রাজারবাগীর পিতা একজন স্বনামধন্য প্রকৌশলী এবং আওলাদে রসুল (সাঃ)। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন স্পষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রতিবাদকারী দেন নাই। তার পিতা একজন স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ার। স্বনামধন্য নয়, সে একজন ‘ইঞ্জিনিয়ার’ শুধু এটাই প্রমাণ করুক আর আওলাদে রসুল (সঃ) এর বিষয়টি ডাহা মিথ্যা। এ ব্যাপারে যথাসময়ে তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তার উঁচুস্থানে বসার বিষয়টি প্রতিবাদকারী স্বীকার করেছে। আর চেয়ার-টেবিলের বিষয়টি-র তথ্য-সাক্ষ্য রয়েছে যা তার আশেপাশেই দরবারের ভিতরে রয়েছে। সময়মত যথাস্থানে তাও প্রকাশ করা হবে। নামাজের বিষয়টিও একই প্রকারে সত্য। এরকম বহু আমল তার মুরীদদের জন্য সে প্রবর্তন করেছে, যা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

এরপরে উল্লেখ করা হয়েছে লক্বব ব্যবহারের বিষয়টি। নিজেদের লক্বব ব্যবহারের বিষয়টি জায়েজ করতে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের লক্বব ব্যবহারের দুর্বল যুক্তি প্রদর্শন করেছে মূর্খ প্রতিবাদকারী। ঐসব ব্যক্তিবর্গের জীবনে কেউই নিজেই নিজের লক্বব ব্যবহার করেননি। সকল লক্বব মানুষের পক্ষে হতে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ তা’আলার এবং রসুল (সঃ)-এর কোন লক্বব হয় না। লক্বব হিসেবে যে সকল শব্দ পরিচিত তা আল্লাহ-তা’আলার গুণসমূহ ও হাকিক্বত, এবং রসুল (সঃ)-এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। যেমন-সাইয়্যীদুল মুরসালীন অর্থাৎ রসুলগণের সর্দার, ইমামুল মুরসালীন-রসুলগণের নেতা বা ইমাম। এসকল কিছুই বাস্তব সত্য মর্যাদা, যা আল্লাহ তা’আলা রসুল (সঃ) কে ঐ আসনে আসীন করেছেন। মূর্খ রাজারবাগী হয় এটা বুঝতে পারেনি অথবা ইচ্ছা করেই না বোঝার ভান করছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, তারা রাজারবাগী দুনিয়ার তাবৎ লোকের লক্বব ব্যবহারের গল্প ফাঁদছে অথচ রসুল (সঃ)-এর সঙ্গীগণের একজনেরও লক্বব ব্যবহারের কথা একবারের জন্যও উল্লেখ করেনি, নাকি তারা সাহাবা (রাঃ)-গণেরও উর্ধ্বের কেউ? নেক আমল তথা ইসলাম ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে রসুল (সাঃ)-এর সাহাবা (রাঃ)গণ একমাত্র অনুসরণীয় অবস্থানে রয়েছেন সমস্ত উম্মতের মধ্যে। অতএব, তাদের লক্বব ব্যবহার হয়নি অথচ রাজারবাগীর হয়।

প্রতিবাদকারী আরও উল্লেখ করেছে যে, “প্রতিবেদক বলেছেন যে, ‘রাজরবাগী লোভে এতটাই বে-পরোয়া যে, সে ‘যেনতেনভাবে’ নিজেকে স্রষ্টার গুণে গুণান্বিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।” এখানে প্রতিবাদকারী মহান আল্লাহ তা’আলার এরশাদ ‘তোমরা মহান আল্লাহ পাকের রঙে রঞ্জিত হও।’ উল্লেখ করে বলেছে যে, মহান আল্লাহ পাকের গুণে গুণান্বিত হওয়াও কি অপরাধ?

প্রতিবেদকের বক্তব্য : মহান আল্লাহ পাকের গুণে গুণান্বিত হওয়া মোটেও অপরাধ নয়। বরং প্রতিটি ইমানদারের উচিৎ মহান আল্লাহ পাকের গুণে গুণান্বিত হওয়া। প্রতিবাদকারী এখানে প্রতিবেদকের উল্লেখিত একটি শব্দ এড়িয়ে গেছেন। প্রতিবেদক ঐ বাক্যে ‘যেনতেনভাবে’ শব্দটি উল্লেখ করেছে অথচ রাজারবাগী ‘যেনতেনভাবে’ আল্লাহ তা’আলার গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রথমত : ‘যেনতেনভাবে’ মহান আল্লাহ পাকের গুণে গুণান্বিত হওয়া যাবে না। তা হতে হবে আল্লাহ তা’আলা প্রদত্ত নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেই এবং রসুল (সাঃ)-এর সুন্নত অনুসারে। ‘যেনতেনভাবে’ নয়। দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ তা’আলার সকল গুণে গুণান্বিত হওয়া যাবে না। কিছু গুণের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। যেমন-আল্লাহ তা’আলার মা’বুদ হওয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়া যাবে না। যা রাজারবাগী চেষ্টা করেছে এবং এর ভুরি ভুরি প্রমাণও রয়েছে। মহান আল্লাহ তা’আলার এরকম অনেক গুণ রয়েছে, যে গুণ বান্দার পক্ষে আয়ত্ত্বের চেষ্টা করাই শিরক বা কুফর।
রাজারবাগীর পক্ষ হতে উপোরিল্লিখিত বিষয় সমূহেরই শুধু প্রতিবাদ করা হয়েছে অথচ প্রতিবেদনে রাজারবাগীর বিরুদ্ধে আরো অনেক অপকর্মের উল্লেখ করা হয়েছে যার কোন প্রতিবাদ তারা করেনি। তারা নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেদের ‘ধোয়া তুলসী পাতা’ সাব্যস্ত করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছে। এহেন রাজারবাগীর নানান অনৈতিক ও অনৈসলামিক কর্মকান্ডের অনেক তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন আকারে আগামীতে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন।। আমীন।। (চলবে…)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

September 2020
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
shares