Today is Sunday & February 24, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

মোলাকাত ০৫ঃ ডাঃ মুহাম্মাদ মছিহ উল্লাহ

ডাঃ মুহাম্মাদ মছিহ উল্লাহ (Muhammad Masih Ullah)

বিশিষ্ট অালিমে দ্বীন (ইনশাআল্লাহ)। একজন ইলমদোস্ত দায়ী। খাদিমুল ওলামা। তাবীবুল উলামা। ঝরনাধারী লেখক। স্নেহশীল পিতা। আদশ স্বামী। নেককার সন্তান। সাদা দিলের মানুষ। সবোপরি একজন জান্নাতি (ইনশাআল্লাহ)।
এম,বি,বি,এস,
সি,সি,ডি,(ডায়াবেটোলজি),
গোল্ড মেডালিস্ট
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি
টিউটর, ডি,এল,পি,(ডায়াবেটোলজি), বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি
———-
———-
আমরা নবিজী (সা.)কে পাইনি। পাচ্ছি না সাহাবায়ে কেরামকে। পাবো না তাবেয়ীগন। উম্মাহর সেরা সন্তানগনকেও আমরা পাবো না।
.
তাহলে আমরা কিভাবে বেড়ে উঠবো? শুধু কিতাব পত্র পড়ে কি বড় হওয়া যায়? মনের আকাশকে উদার করা যায়?
.
না, যায় না। সাহচর্য চাড়া আলোর জগত ও আঁধারের জগত উভয় জগতের কেউই বড় হতে পারে নি। সামনে বাড়তে পারে নি।
.
কিন্তু মুশকিল হলো, সর্বগুণের আধার বলেওতো কাউকে পাওয়া, এ-যুগে কষ্টকর। অসম্ভব।
.
এজন্য আমরা ঠিক করেছি:
= আমরা আমাদের সময়ের ভাল মানুষগুলোর কাছে যাবো।
= আমরা আমাদের প্রজন্মের সুন্দর মননগুলোর কাছে যাবো।
= আমরা আমাদের সময়ের সেরা সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের কাছে ভিড়বো।
.
এতে হবে কি, আমরা যূথবদ্ধ হয়ে, একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারবো। জানতে পারবো। প্রেরণা পাবো।
.
আজ আমরা একজন আপাদশির ভাল মানুষের কাছে যাবো। যিনি আসলেই একজন ভালো মানুষ। অথবা ভাল মানুষ হওয়ার সাধনায় নিয়ত সন্তরনরত।
.
বলতে গেলে, আজকের আয়োজনের পুরো কৃতিত্বটাই মুফতী রায়হান খাইরুল্লাহ Raihan Khairullahn)। তারই কথা-সুর ও ছন্দের দোলায় আজকের অভিযাত্রা।
.
আমি আর সা‘দ (আরিফ খান সা’দ) শুধু সঙ্গত করেছি। ধুয়ো তুলেছি। তাল দিয়েছি। শুরু হোক তবে আজকের উত্তরণ-উড্ডয়নের পথযাত্রা!
———————————–

প্রশ্ন- লেখালেখির সূচনা কবে থেকে?
উঃ- সেই ক্লাস সিক্স থেকেই লেখালেখি শুরু। শুরুটা কবিতা দিয়ে। ১৯৮৯ সালে।
প্রশ্ন- নিয়মিত লেখালেখি করেন?
উঃ- এখন আলহামদুলিল্লাহ নিয়মিতই লিখা হয়।
প্রশ্ন- লেখালেখির ক্ষেত্রে কার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন?
উঃ- আমার প্রাইমারি স্কুল হেডটিচার জনাব মনির আহমদ স্যারই সর্বপ্রথম উৎসাহ জুগিয়েছেন। যখন বেশকিছু কবিতা লেখা হয়ে গেছে, আর আমি সৃষ্টিসুখের প্রথম উল্লাসে কাঁপছি। একদিন লাজুক মুখে স্যারকে কবিতার খাতাটা দেখালাম। স্যার তো মহাখুশি! কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এর মাঝে কবিতা আবৃত্তিও আছে। স্যার আবৃত্তিতে অংশগ্রহনকারী সবাইকে আমার একটি একটি কবিতা বাছাই করে দিলেন। সবাইকে বলে দিলেন, কবির নামের জায়গায় বলে ক্ষুদে কবি……..।
প্রশ্ন- লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনার প্রেরণা ও আদর্শ কে?
উঃ- প্রথম প্রথম যখন পড়ছি-লিখছি, কতশত রথী-মহারথীদের আদর্শ ভাবতাম, যাদের লেখা কেবল নিছক বিনোদনেই সীমাবদ্ধ। যখন তাবলীগের মেহনতের কল্যাণে একটু একটু আলো দেখা শুরু করেছি, পড়ার গন্ডিতে পরিবর্তন এলো। মাওলানা আবুল হাসান আলি নদভী (রহঃ)-এর সাথে পরিচয় ঘটলো, আদীব হুজুরের পরিচ্ছন্ন অনুবাদে “মাওলানা ইলিয়াস রহঃ ও তাঁর দ্বীনি দাওয়াত”-এর মধ্য দিয়ে। এরপর নদভী রহঃ এর কিতাব দেখলেই সংগ্রহ করা শুরু করলাম। একে একে বাংলায় অনুবাদ হওয়া তাঁর সব বই পড়ে ফেললাম। আশ্চর্য কলমের যাদু দিয়ে তিনি ইসলামকে নতুন করে তুলে ধরলেন। দ্বীনি বিষয়গুলোও এতো সুন্দর করে পেশ করা যায়, প্রথম দেখলাম। সেই থেকে তিনিই আমার প্রেরণা, তিনিই আমার আদর্শ।
প্রশ্ন- প্রিয় বই?
উঃ- আপ বীতি, শায়খুল হাদীস হযরত যাকারিয়া রহঃ। এ বই আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। আমার চেতনার গভীরে স্পর্শ করেছে। আমার জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহনে সাহায্য করেছে। ইলমের ময়দানে এই যে আমার সফর, এর পেছনে এ-বই বিশাল অনুপ্রেরণা।
প্রশ্ন- প্রিয় লেখক?
উঃ- মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ।
প্রশ্ন- প্রিয় মূহুর্ত?
উঃ- যখন আল্লাহ তায়ালার কালাম সামনে নিয়ে বসি, একেকটা আয়াত পড়ার সময় অন্তরে ভাবের ঢেউ খেলে যায়। দিল দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি আমার রব এখানে কী বলতে চেয়েছেন। অপার্থিব এক প্রশান্তি অন্তর ছুঁয়ে যেতে থাকে। এভাবে কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের সময়টুকুই আমার প্রিয় মূহুর্ত।
প্রশ্ন- কোন সময় লিখতে ভালবাসেন?
উঃ- কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।
প্রশ্ন- প্রিয় স্থান?
উঃ- আমার স্বপ্নের বায়তুল্লাহ, আমার প্রিয় নবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রওজা পাক। যদিও এখনও সৌভাগ্য হয় নি প্রাণ খুলে দেখার। জানি নে কখন আসবে সে মুহূর্ত, ক-বে!
প্রশ্ন- প্রিয় পর্যটনস্থান?
উঃ- কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত।
প্রশ্ন- স্বপ্ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা?
উঃ- স্বপ্ন দেখি, সারা পৃথিবীতে ইসলাম বিজয়ী হয়েছে, কায়েম হয়েছে ইসলামী খিলাফাহ। শান্তি আর নিরাপত্তায় ভরে গেছে পৃথিবী। কোথাও একবিন্দু জুলুম নেই। মিটে গেছে সমস্ত কুফর, শিরক আর অবিশ্বাস।
আমি ইয়াকীনের সাথে বিশ্বাস করি, একদিন তা হবেই হবে এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এ জন্য তৈরি করবেন। সে ক্ষেত্র তৈরির মেহনতে আমিও শরীক হতে চাই।
এ-জন্য নিজে সত্যিকারের একজন দাঈ’ ইলাল্লাহ হিসেবে গড়ে উঠতে চাই। এমন মেহনত করতে চাই, যেন দ্বীনের জন্য সর্বস্ব দিতে প্রস্তুত এমন এক জামাত তৈরি হয়, যারা হবে সাহাবাওয়ালা ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান, বুলন্দ ইখলাসের মানদন্ডে উত্তীর্ণ, যারা আল্লাহ তায়ালার আহকাম কায়েমের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ আপোষ করবে না। আমিও তাদের একজন হতে চাই। হে মাওলা, তাওফীক দাও।
প্রশ্ন- প্রিয় রঙ?
উঃ- সাদা।
প্রশ্ন- প্রিয় পাখি?
উঃ- হুদহুদ (যদিও চোখে কখনও দেখি নি, কিন্তু সুরা নমল পড়লেই সেই হুদহুদকে আমার খুব ভালবাসতে ইচ্ছে করে।)
প্রশ্ন- প্রিয় ফুল?
উঃ- রজনীগন্ধা
প্রশ্ন- প্রিয় খাবার
উঃ- গরুর গোশত।
প্রশ্ন- প্রিয় কবি?
উঃ- কাজী নজরুল।
প্রশ্ন- প্রিয় কাজ?
উঃ- মানুষকে আল্লাহ তায়ালার দিকে ডাকা।
প্রশ্ন- সর্বাধিক পঠিত বই?
উঃ- হায়াতুস সাহাবা, মাওলানা ইউসুফ কান্দলভী রহঃ।
প্রশ্ন- প্রিয় মাদ্রাসা?
উঃ- দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, এখানে সারাজীবন তালিব ই ইলম হয়ে পড়তে চাই।
প্রশ্ন- প্রিয় মানুষ?
উঃ-হজরত মুফতি কিফায়াতুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ।
প্রশ্ন- প্রিয় ব্যক্তিত্ব?
উঃ- মাওলানা সা’দ কান্দলভী হাফিজাহুল্লাহ।
প্রশ্ন- প্রিয় ফেসবুক লেখক?
উঃ-শায়খ আতীক উল্লাহ, মুফতি আরিফ খান সা’দ, মুফতি রায়হান খাইরুল্লাহ।
প্রশ্ন- প্রথম লেখা প্রকাশ? কবে? কোথায়?
উঃ এক বিদ্রোহীর আত্মজীবনী লিখেছিলাম ” আমি কেন ফেরারী” শিরোনামে। দৈনিক পূর্বকোনে ছাপা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। দুঃখজনক বিষয় হলো সংখ্যাটি সংরক্ষণ করে রাখতে পারিনি,তাই কোন্ সংখ্যা তাও মনে নেই।
প্রশ্ন- এখন কী পড়ছেন?
উঃ- কী¡মাতুয-যামানি ইনদাল উলামা। পড়ছি আর আকাবিরগনের সময়কে কাজে লাগানোর তুলনাহীন বিবরণ পড়ে শিহরিত হচ্ছি।
প্রশ্ন- এখন কী লিখছেন?
উঃ-“ডায়াবেটিস নিয়ে বসবাস” শিরোনামে একটি লেখা শুরু করেছি। মহামারী আকারে দেখা দেয়া এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিই উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন- কোন বইটি পড়ে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন?
উঃ- সমরেশ মজুমদারের “উত্তরাধিকার” বইটি আমার তখনকার কোমলহৃদয়ে বেশ দাগ কেটেছিল। মাত্র ইন্টারে পড়ি। বেশিকিছু বোঝার বয়স হয় নি। এটা অনেকটা রাজনৈতিক উপন্যাস, নকশাল আন্দোলনের পটভূমি নিয়ে লেখা। যদিও এ ধরনের আন্দোলনকে এখন আমি একদম সাপোর্ট করি না, কিন্তু তখনকার সেই সম্মোহনী সময়কে অস্বীকার করি কিভাবে!
প্রশ্ন- কোন বইয়ের ছেলে চরিত্রকে দেখে মনে হয়েছে- ইশ! আমি যদি এমন হতাম!
উঃ- “সমরেশের ” কালপুরুষ” উপন্যাসের অর্ক চরিত্রটি। আঠারো-উনিশ বছরের একটা ছেলে পুরো একটা বস্তির প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার পৌঁছে দিতে চায়। এ-জন্য সবার প্রতিদিনের আয়কে একত্রিত করে সবার খাবার একত্রে পাকানোর ব্যবস্থা করেছে। সেদিন থেকে ঐ বস্তিতে আর কেউ না খেয়ে থাকে নি। ছেলেটি এ-কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে কঠিন শ্রম দিচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক নেতার তা পছন্দ হচ্ছে না, সে তাদেরও মুকাবিলা করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে তুচ্ছ অজুহাতে গ্রেফতার করা হলো। এর প্রতিবাদে সোচ্চার হলো বস্তির এই গরীব মানুষগুলো। ‘ অর্ক’র মুক্তি চাই’- শ্লোগান তুললো। অর্ক মানে সূর্য। যখন বইটি পড়ছি, আমারও তখন ঠিক আঠারো বছর বয়স। ইচ্ছে হচ্ছিল, ইশ, আমিও যদি অর্ক’র মতো হতাম। অসহায় মানুষের কষ্ট নিবারণে এভাবে উঠে দাঁড়াতে পারতাম!
প্রশ্ন- কোন বইয়ের কোন মেয়ে চরিত্রকে দেখে মনে হয়েছে- ইশ, আমার যদি এমন কেউ হত!!
উঃ- এখন যেহেতু আমার একান্ত একজন আছে, তাই কোন চরিত্র আর তেমন করে টানে না। আগে মনে হত কিনা মনে নেই।
(বেশ সুচিন্তিত উত্তর। নিরাপদ তো বটেই। দাম্পত্যকলহ কেইবা ডেকে আনতে চায়?)
প্রশ্ন- জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মূহুর্ত কোনটি?
উঃ- ২০০৪ এ আল্লাহর রাস্তায় চারমাস দিচ্ছি। মাত্র এম,বি,বি,এস, ফাইনাল দিয়ে এসেছি। পরীক্ষা যদিও তেমন খারাপ হয় নি, তারপরও প্রতি মুহূর্তে শঙ্কা – না জানি ফেল করি, আর আমাকে ফিরে যেতে হয়। না জানি আবার সেই কঠিন পরীক্ষার জন্যে বসতে হয়। বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে আল্লাহর রাস্তায় চারমাস। যেহেতু এম,বি,বি,এস, এর প্রতিটি পরীক্ষা এমন, ভালো পরীক্ষা দিয়েও নিশ্চিত হওয়া যায় না। ইন্দোনেশিয়ান এক সাথীকে নামাজে দাঁড় করিয়ে দুরু দুরু বুকে মইনুলকে ফোন করতে চললাম। মোবাইল সাথে নেই। কোন দোকান থেকে ফোন করতে হবে। মঈনুল আমার জুনিয়র, হোস্টেলে দাওয়াতের মেহনতের জিম্মাদার। সে বললো:
-” আপনি পাশ করেছেন।”
বিশ্বাস হচ্ছিল না। বললাম:
-“ঠিক তো?”
যাক, আমাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে ফিরে যেতে হবে না। সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকে নিয়ত করে এসেছি, ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে চারমাস দেব। নিজেকে ঈমান ও আমালের ক্ষেত্রে আগে বাড়বো, দাওয়াতের কাজ হাতে কলমে শিখবো। সেই কঠিন মানসিক চাপ নিয়ে আর পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে বসতে হবে না।
বাবাকে ফোন দিলাম:
-” বাবা, আমি পাশ করেছি, বাবা। ”
সেই তের বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নেয়া বাবা এই দিনের অপেক্ষা করছেন। তাকে আর কষ্ট করতে হবে না। পেনশনের মাত্র আঠারশ টাকা দিয়ে আর যুদ্ধ করতে হবে না।
-” পাশ করেছিস?”
-” হ্যাঁ, বাবা।”
আমার দু’চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। নিশ্চয়ই ফোনের ও প্রান্তে বাবার চোখ দিয়েও। এ-অশ্রু আনন্দের, এ-কান্না শুকরিয়ার। সে-অশ্রু কেন যেন এখন আবার নেমে এসেছে, ঠেকাতে পারছি না।
প্রশ্ন- জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা?
উঃ- মাত্র কয়েকদিন আগে আমার মুসআবের জন্ম হয়েছে। মাগরিব পড়ে বাসায় ফিরেছি। হঠাৎ মায়ের কন্ঠে আর্তনাদ। কী হলো? দৌড়ে ভেতরে গিয়ে দেখি উম্মে মুয়াজের প্রচন্ড ব্লিডিং হচ্ছে। রক্তে ভরে গেছে পুরো বিছানা। তাড়াতাড়ি পারভেজকে ফোন দিলাম। এম্বুলেন্স আনতে হবে। দ্রুত দু’রাকআত সালাতুল হাজত পড়লাম। হাজার দুয়েক টাকা নিয়ে ছুটলাম সদকার উদ্দেশ্যে। তাড়াতাড়ি সদকা করতে হবে। বের হয়েই নামাজী এক রিক্সাওয়ালাকে পেলাম। জোর করে তার হাতে গুঁজে দিলাম।
-” নিন এটা। আমি বড় বিপদে পড়েছি।”
ততক্ষণে এম্বুলেন্স হাজির হয়েছে। আমি আর ওর ভাগ্নে রানা ধরাধরি করে গাড়িতে তুললাম। প্রচন্ড শঙ্কা! গাড়ি দ্রুত ছুটে চলছে। দিল থেকে ওর হায়াত ভিক্ষা চাচ্ছি। বার বার পাল্স দেখছি। বৃহস্পতিবার রাত। নেককার মানুষটা কেবলই জুমারাতে মৃত্যুর তামান্না করতো। অজানা আশঙ্কায় বার বার অন্তরটা দুলে উঠছে।
রক্ত লাগবে। মিনিমাম তিন ব্যাগ। হাসপাতালে পৌঁছতেই পরিচিত কয়েকজন হাজির হয়েছেন রক্ত দেয়ার জন্যে। আমারও বি পজিটিভ। আমি তো তৈরিই। তিনজন রক্ত দিতে এগিয়ে গেলেন। আমাকে কোনভাবেই দিতে দিলেন না। বললেন, ”
-আপনি না, এ অবস্থায় নয়, আমরা আছি।”
রক্ত দিয়ে আমাদের চিরকৃতজ্ঞ করলেন। সে যাত্রা ‘আমার পরম প্রিয় মানুষটা’ বেঁচে গেলো। হে মাওলা, তোমারই শুকরিয়া।
প্রশ্ন- জীবনের সবচেয়ে মজার ঘটনা?
উঃ- স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। আমিও একশ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছি। অথচ আমি দৌড়াতে তেমন পারি না। কেন যেন শখের বশে নাম দিয়ে ফেলেছি। দৌড় স্টার্ট হবে। আমিও লাইনে দাঁড়িয়েছি। বাঁশি বেজে উঠলো। আমার সব জুনিয়ররা দ্রুত দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি সবার চেয়ে অনেক পিছনে। কিছুতেই পেরে উঠছি না। আমার দূরবস্থা দেখে বন্ধুরা পাশ থেকে চেঁচাচ্ছে,
-” তুই চলে আয়।”
আমিও দেখলাম আর উপায় নেই। জুনিয়রদের সাথে লাস্ট হওয়ার এই অপমান নেয়ার কোন মানে হয় না। অগত্যা রণে ভঙ্গ দিলাম। আমি নব্বই ডিগ্রী এঙ্গেলে দর্শকদের দিকে দৌড় ঘুরিয়ে দিলাম। বন্ধুরা বিনোদনের বিশাল খোরাক পেয়ে গেল। আমি হিসাব মেলাতে পারছিলাম না, কোনটা কম অপমানজনক, দৌড়ে লাস্ট হওয়া, না রণে ভঙ্গ দেয়া?
প্রশ্ন- জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা?
উঃ- তখন লোহাগাড়াতে এক হাসপাতালে চাকরি করি। সপ্তাহে চারদিন ওখানে থাকতে হয়। হঠাৎ বাসা থেকে ফোন। বাবা কথা বলতে পারছেন না। সাথে শ্বাসকষ্ট। আমার ঘনিষ্ঠ ডাক্তার বন্ধুকে খবর দেয়া হয়েছে। নেবুলাইজেশন করা হচ্ছে।
আমি দ্রুত ছুটি নিয়ে ফিরছি। আমার ধারনা স্ট্রোক করেছেন বাবা। বন্ধুকে বলতেই সে আশ্বস্ত করলো।
-” মনে হয় না। Exacerbation of COPD। নেবুলাইজেশন করছি। দেখা যাক। সমস্যা নেই। আমি আছি।”
গাড়ি দ্রুত চলছে। মনটা অসম্ভব রকম ভারী হয়ে আছে। এমন পেরেশানি আর কখনো তো ভর করে নি!
আমি যখন বাসায় পৌঁছেছি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি দ্রুত হসপিটালাইজ্ড করতে চাইলাম। বাবা ইশারায় না করলেন। জোর করে হাসপাতালে নিয়ে চললাম। যথেষ্ট দেরি হয়ে গেছে। অবস্থা খারাপ দেখে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু রবের ফায়সালা। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। মনে হলো, ইশ, যদি আর একটু আগে পৌঁছতে পারতাম!
আমার বন্ধুর কোন দোষ নেই। যখন নির্ধারিত মূহুর্ত চলে আসে, তখন এ রকম হয়ে যায়। রবের ফায়সালার দিকে পরিস্থিতি এগুতে থাকে। কারোই কিছু করার থাকে না।
প্রশ্ন- প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়?
উঃ- আলহামদুলিল্লাহ, মালিকের তাওফীকে প্রতিদিনই হয়।
প্রশ্ন- তাহাজ্জুদ পড়া হয়?
উঃ- আলহামদুলিল্লাহ প্রতিদিন শেষরাতে জাগার চেষ্টা করি। কোনদিন মিস হলেও রেগুলার শোয়ার আগে দু’চার রাকআত পড়ার তো সুযোগ হয়ই। আর আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ তো বলেছেন, ইশার পর যে কোন নফলই তাহাজ্জুদের স্থলাভিষিক্ত।
প্রশ্ন- জীবনের লক্ষ্য কি?
উঃ- একজন প্রকৃত দাঈ’ ইলাল্লাহ হতে চাই। পৌঁছতে চাই প্রথিবীর প্রতিটি কোনায়। পৃথিবীর যেখানেই মানুষ আছে, আমি পৌঁছাতে চাই আমার রবের পয়গাম। অবশেষে দ্বীনের জন্যে শত্রুর আঘাতে এ-তুচ্ছ জীবনটাকে আল্লাহর রাস্তায় সঁপে দিতে চাই।
প্রশ্ন- এবার তো দাওরা পড়ছেন তাই না?
উত্তর: – জী না, গতবছর মিশকাত আউয়ালের দরসে বসেছিলাম, হুজুর বললেন, এবার হিদায়া সালিস, রাবে’, উসুলে ফিকাহ’র হুসামী, শরহে তালবীহ আলাত তাওজীহ, মুসাল্লামুস সুবূত, মাকামাতে হারিরী, দিওয়ানে মুতানাব্বী, দীওয়ানে হামাসা পড়ে ফেলার জন্য, হুজুর নিজে জালালাইন পড়িয়ে দেবেন। দাওরা হয়তো আগামী বছর ইন শা আল্লাহ।
হুজুর চাচ্ছেন নীচের কিতাবগুলো যেন আরও মজবুত হয়।

-আমরা আপনার সুন্দর দুনিয়া ও কামিয়াব আখিরাত কামনা করছি।
-আপনাদেরও তাই হোক। আমীন

একক্লিকে:
 আমাদের সাক্ষাৎকার

শায়েখ Atik Ullah 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *