শনিবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

আগামীকাল থেকে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব; অংশ নেবে ১৬ জেলা

খুৎবাঃ আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে দেশের অবশিষ্ট ১৬টি জেলাসহ ঢাকা জেলার বাকি অংশের তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা অংশ নেবেন। এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলিগ অনুসারি মুসল্লিরা প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে ইজতেমা ময়দানের নির্ধারিত খিত্তায় জড়ো হচ্ছেন। ইজতেমাকে সামনে রেখে লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ নদের পূর্বতীর।

১৯ জানুয়ারি শুক্রবার অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি দুপুরে অর্থাৎ জোহরের নামাজের আগেই যে কোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার।

ইতোমধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতিরকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৭টি ভাসমান পল্টুন সেতু নিমার্ণ করেছেন। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, মাস্তুরাত কামরা, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, হালকা নম্বর ও খুটি নম্বর বসানোর কাজ আগেই শেষ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক ১৮০টি বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের ফেলে যাওয়া ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

ইজতেমায় দ্বিতীয়পর্বে খিত্তাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান : ঢাকা জেলা ( খিত্তা নং-১-১০), ১৮ ও ১৯), জামালপুর (খিত্তা নং-১১ ও ১২), ফরিদপুর (খিত্তা নং-১৩), ফরিদপুর (খিত্তা নং-১৪), ঝিনাইদহ (খিত্তা নং-১৫), ফেনী (খিত্তা নং-১৬), সুনামগঞ্জ (খিত্তা নং-১৭), চুয়াডাঙ্গা (খিত্তা নং-২০), কুমিল্লা (খিত্তা নং-২১ ও ২২), রাজশাহী ( খিত্তা নং-২৩ ও ২৪), খুলনা ( খিত্তা নং-২৫ ও ২৭), ঠাকুরগাঁও (খিত্তা নং-২৬) ও পিরোজপুরের মুসল্লিরা (খিত্তা নং-২৮) অংশ নিয়ে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি : দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃংখলা জোরদারের লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও প্রায় ৬ হাজার পুলিশসহ র‌্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে র‌্যাবের কমিউনিকেশন উইংয়ের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৪০টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ ইজতেমা মাঠে কোনো ধরণের নাশকতার ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখবেন।

এছাড়াও ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন। আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল এবং তুরাগ নদে নৌ টহল থাকবে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্কাবস্থায় রাখা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষনিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করবেন।

আয়োজক কমিটির বক্তব্য : এবিষয়ে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির অন্যতম জিম্মাদার প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ইতিমধ্যে ময়দানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকাসহ নির্দিষ্ট ১৬ জেলার মুসল্লিরা এপর্বে অংশগ্রহণ করবেন। যে সব জেলার মুসল্লিরা এ বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিবেন সেই সব জেলার মুসল্লিগণ আগামী ২০১৯ সালে অংশ নিতে পারবেন না। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়। ১৪ জানুয়ারি  মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। তুরাগতীরে ইজতেমা ময়দানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে এ বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

 

আল্লাহ তা’আলা সবাইকে কবুল ফরমান । আমিন

১ম পর্বের বয়ান 

বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস

বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে ৪৫ টি তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

August 2020
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
shares