মঙ্গলবার, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

কাদিয়ানীদের উত্থানে মুসলমানদের ভূমিকা, সেকাল একাল।

উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম আবুল হাসান আলী নদভী রাহি. কাদিয়ানীদের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন:
– সময়টি ১৮৫৭ ঈসায়ী। আযাদী আন্দোলনে ব্যর্থতায় হিন্দুস্তানী মুসলমানদের অন্তর পরাজয়ের বেদনায় ছিল ক্ষত-বিক্ষত। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোলামীর ভয়ে তারা ছিল সন্ত্রস্ত। একদিকে ইংরেজ সরকারের সংস্কৃতি ও তাহযীব প্রচারের কঠিন কার্যক্রম, অন্যদিকে হিন্দুস্তানের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খ্রিস্টান পাদ্রীদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সীমাহীন কোশেশ। মুসলমানদের আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি এবং ইসলামী শরীয়তের উৎসধারা সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলাকেই যারা নিজেদের প্রধান টার্গেট নির্ধারণ করেছিল। মুসলমানদের নতুন প্রজন্ম, স্কুল কলেজ ছিল এই দাওয়াতের বিশেষ টার্গেট। ফলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পাশাপাশি নাস্তিকতা ও সন্দেহ প্রবণতা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল।
আরেকদিকে নানান মুসলিম দল-উপদলের বিরোধ আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি গ্রহণ করেছিল। ধর্মীয় বিবাধ আর বাহাসের বাজার ছিল সরগরম। সারা হিন্দুস্তান যেনো অস্থিরতার স্বর্গরাজ্য। বসে ছিলো না মূর্খ সূফীরা, তরীকত আর বেলায়েতকে শিশুর হাতের পুতুল বানিয়ে এলহাম আর আজগুবি তেলেসমাতি প্রচার ছিল ধর্মীয় দায়িত্ব!
মূর্খ জনসাধারণ তাদের অলৌকিক কথাবার্তা, কারামতি, গায়েবী সংবাদ, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতবাণী শুনতে ছিল সদা উদগ্রীব। যে যতো আজগুবী গল্প বানাতে পারতো তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল তত বেশি।
পাঞ্জাব ছিল ধর্মীয় অজ্ঞতা আর কু-সংস্কারের মারকাজ। দ্বীনী শিক্ষা থেকে দূরে থাকায় মস্তিষ্কে ধরেছিল পচন।
কাদিয়ানী ধর্মের প্রবর্তক মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এই ক্ষণ আর জায়গাটাকে নিজের মিশন বাস্তবায়নে উপযুক্ত ভেবে শুরু করলো তার কাজ। সহযোগিতা পেলো ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর। কারণ মোজাহিদদের জযবায় তারা ছিল সন্ত্রস্ত, পাচাটা গোলাম হিসেবে এই গোলামকে কাজে লাগিয়ে নিয়েছিলো কিছুটা স্বস্তির নিঃশাস। সেই থেকে আজকের কাদিয়ানী।
আজকে এই কাফের সম্প্রদায় ফুলেফেঁপে আরো সমৃদ্ধ, সুসংগঠিত।
বিশেষত আমাদের দেশে।
কেনো? কী কারণ?
উপরের প্রেক্ষাপটগুলো একটা একটা টেনে আনুন, পেয়ে যাবেন বর্তমান উত্থানের কারণ। সবগুলো কারণই আরো মোটা হয়েছে।
সাথে বোনাস হিসেবে আরো কিছু মিলিয়ে দিই।
একসময় দেখতাম ঈমানী আন্দোলনে চাঙ্গা থাকতো রাজপথ। রাজনৈতিক দলগুলো ঈমান আকীদার প্রশ্নে দিতো না কোন ছাড়।
দেখেছি মোজাহিদে মিল্লাত শামসুদ্দীন কাসেমী রাহ., খতীব উবাইদুল হক্ব রাহ., শাইখুল হাদীস আল্লামা আযীযুল হক্ব রাহ.-দের ঈমানী আন্দোলন।
শেষদিকে কিছুদিন পেয়েছি মুফতি আমিনী রাহ.-র হুঙ্কার।
এরপর?
করুণ উপাক্ষাণের কথা বলে আমি কি বরবাদ হবো?
আচ্ছা একটু সত্য বলি।
২০০১ এর পর আমাদের আন্দোলন হয়ে পড়লো ক্ষমতা কেন্দ্রিক। জোটের আপোষ, দরাদরি, গোপন যোগাযোগ, সংসদের আসন বণ্টনে দৌড়ঝাঁপ…………!!
ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো আমাদের স্বকীয়তা, হলাম পরগাছার মত। অস্তিত্ব টিকাতে কখনো নৌকায় উঠি, কখনো ধানে গোলা ভরি!
‘ছিলা কলা’ র হিস্টোরি কত শুনেছি, শুনছি!
ঈমানী আন্দোলন সংসদীয় আসনের নিচে অচেতন ঘুম দিয়েছে।
আর তাই সুযোগসন্ধানীরা মাঠ খালি পেয়ে স্কোর বানাচ্ছে ইচ্ছে মত!
আমি বেয়াদব নই, সমালোচক নই, আমাকে বদদোয়া দেবেন না, হালাক হয়ে যাবো।
সাহসকরে ভেতরে সুনামী হয়ে ঘুরতে থাকা আক্ষেপগুলো একটু প্রকাশ করলাম।
আল্লাহর রহমত আছে বলে এখনো মুসলমান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারি, না হয় আর কোন কারণ নেই, আর কোন কারণ নেই!
মাফ চাই, আর বলবো না…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archives

January 2021
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
shares
%d bloggers like this: