নারীপক্ষ, ব্র্যাক ও নারী কমিশন : যে সত্য জানলে অবাক হবেন আপনিও !
আজ আপনাদের সাথে খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় শেয়ার করব। ২০১৬ সালে সুইডেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিডা (SIDA) আঞ্চলিক নারীবাদী এনজিও এরো (ARROW) এবং দেশীয় নারীবাদী এনজিও "নারীপক্ষ" এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যৌন শিক্ষার অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে সহায়তা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এই প্রতিবেদনে পাঠ্য বইগুলোর যৌনশিক্ষা অংশের বেশ কিছু দিকের সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন:
* বইগুলোতে পর্নোগ্রাফি দেখার মতো কাজগুলো সমাজের জন্য হুমকি বলা হয়েছে।
* মাদ্রাসা বোর্ডের বইতে বলা হয়েছে যিনা সমকামিতা হারাম।
* যৌনতা কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে হতে পারে।
এনজিওদের বানানো প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলোর সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের মতে যৌনশিক্ষার মাধ্যমে শিশু কিশোরদের শেখানো উচিত পর্ণগ্রাফী খারাপ কিছু না। যিনা এবং সমকামিতা নিষিদ্ধ কিছু না। আর যৌনতা কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মাঝে হতে হবে বিষয়টি কেবল এমন নয়। যৌনশিক্ষা কারিকুলামের ব্যাপারে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গকে ইসলামী উগ্রবাদের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
ঠিক একই সুরে ২০১৮ সালের ব্র্যাকের একটি প্রতিবেদনে এই কারিকুলামের সমালোচনা করা হয়েছে। কারিকুলামটিকে অপূর্ণ বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে এতে হস্তমৈথুন সম্বন্ধে কোনো আলোচনা নেই। জেন্ডার আইডেন্টিটি অর্থাৎ এলজিবিটি কিউ প্লাস এই সম্পর্কে কোন আলোচনা নেই। বিবাহপূর্ব যৌনতা সম্পর্কে কোন আলোচনা নেই। ব্র্যাকের মতে এগুলো পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এবার আসুন আমরা নারী সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দের লিস্ট একটু দেখি।
সেখানে প্রথমে যার নাম আছে তিনি হচ্ছেন শিরিন পারভিন হক; প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নারীপক্ষ ও কমিশন প্রধান।
তিন নাম্বারে আছেন কামরুন নাহার; আইনজীবী ও পরিচালক, নারীপক্ষ।
আপনারা কি খেয়াল করেছেন? নারী সংস্কার কমিশনের যারা সদস্য তাদের ভিতরে দুইজন। একজন হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নারী পক্ষের। আরেকজন হচ্ছেন আইনজীবী ও পরিচালক নারীপক্ষের। তো নারী পক্ষের বিষয়টি নিয়ে আমরা একটু আগে আলোচনা করেছি। তাদের মতে জৈন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শেখানো উচিত পর্নোগ্রাফি সমাজের জন্য হুমকি না। তাদের মতে যিনা-সমকামিতা এটা নরমাল একটি বিষয়। এটি নিষিদ্ধ কোন বিষয় নয়; এবং তারা বলতে চাচ্ছে স্বামী এবং স্ত্রীর বাইরেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।
এই নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন সদস্যবৃন্দের দুই নাম্বারে আছেন মাহিন সুলতান; সিনিয়র ফেলো, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স এন্ড ডেভলপমেন্ট। একটু পূর্বেই ব্র্যাকের ব্যাপারে আলোচনা করেছি, যারা কারিকুলামের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন, কেন এখানে হস্তমৈথুন সংক্রান্ত আলোচনা নেই, জেন্ডার আইডেন্টিটি বা এলজিবিটি কিউ প্লাস সম্পর্কে আলোচনা নেই, কেন বিবাহ পূর্ব যৌনতা সম্পর্কে আলোচনা নেই? এ বিষয় নিয়ে তারা আপত্তি তুলেছে।
আমরা দেখতে পেলাম নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দের প্রথম তিনজনই বিতর্কিত এবং আমরা যদি নারী সংস্কার কমিশনের যে প্রতিবেদন, তার ২২৬ নাম্বার পাতায় নজর দেই- সেখানে "পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের করণীয়" এই শিরোনামে "অধ্যায় ছয়ে" তারা উল্লেখ করেছেনঃ নারী ও মেয়ে শিশুর জন্য সহিংসতামুক্ত সমাজ।
এই ক্ষেত্রে তারা সুপারিশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে- লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মামলা দায়ের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সংক্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে দোভাষী ও ইশারা ভাষার দক্ষ ব্যক্তিদের তালিকা রাখা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা যায়।
এখানে তারা লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী বলতে এলজিবিটি কিউ প্লাস এদের কথা উল্লেখ করেছে। যেহেতু আমাদের সমাজে সমকামিতা, লেসবিয়ান, গে এই বিষয়গুলোকে ভালো চোখে দেখা হয় না, সেজন্য তারা এখানে শব্দের মারপ্যাচ করেছে। তারা সেখানে লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেছে। মূলত এর পিছনে রয়েছে এলজিবিটিকিউ প্লাস বা এই জাতীয় যারা বিকৃত মানসিকতার লোক রয়েছেন, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা বা একে নরমালাইজ করা।
সাথে সাথে তারা আরো উল্লেখ করেছে, সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা পরিষেবা সহজ করতে আইন, থানা, হাসপাতাল ও আদালতকে নারীবান্ধব করতে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এখানে সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগী বলতে কিন্তু এলজিবিটি কিউ প্লাস বা এই জাতীয় বিকৃত মানসিকতার যারা আছে, তারা অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এই বিষয়টাকে নরমালাইজ করার জন্য তারা এখানে "নারীবান্ধব" শব্দটি ব্যবহার করেছে। এখানে জাস্ট তারা ভাষার খেলা খেলেছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ বিষয়টি তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে।
আপনারা যদি নারী পক্ষের ওয়েবসাইটে যান, সেখানে তাদের পোস্টার সেকশনে একদম সর্বশেষে যে পোস্টারটি রয়েছে, সেটা যদি আপনি ওপেন করেন- সেখানে দেখবেন সবশেষে যে শব্দটি তারা ব্যবহার করেছে “লড়াইটা ভাষারও”। অর্থাৎ তারা ভাষা দিয়েও লড়াই করছে।
এভাবে শব্দের মারপ্যাচে এদেশের আপামর জনসাধারণকে তারা বিভ্রান্ত করছে। আসুন আমরা তাদের এই সকল শব্দের মারপ্যাচে বিভ্রান্ত না হই। নিজে জানি, অপরকে জানাই।
✅ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন: নিয়মিত ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক ইস্যুর বিশ্লেষণ উপভোগ করুন।
connected with us !!
👍 ফেসবুক : /HaramainTV.Media
👍 YouTube: @haramain.television
⚠️ নোট: এই আলোচনা গবেষণামূলক এবং তথ্য-ভিত্তিক। কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং সংবিধান, ইসলাম এবং সমাজ রক্ষার স্বার্থে উপস্থাপন।
#BRACExposed #NaripokkhoExposed #NariCommissionExposed #SexEducationDebate #BRACReport #GenderIdentity #Pornography #Feminism #ShirinHaque #BRACInstitute #Naribandhob #SIDABangladesh #নারীপক্ষ #ব্র্যাক_কারিকুলাম #জেন্ডার_আইডেন্টিটি #নারীবাদী_এনজিও #যৌনতা
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৫৩ ভিউ
নারীপক্ষ ও ব্র্যাকের যৌন শিক্ষা এজেন্ডা : জানলে চমকে যাবেন !
ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী
শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক