ইউরোপে না গিয়ে কেন আমি বাংলাদেশে আসি?
আলোচকঃ ড. ওয়াহীব ইবনে আব্দুর রহমান আল খাওজ
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঃ মাওলানা তাহমীদুল মাওলা

শায়েখ দ্বিতীয় প্রশ্ন, আপনি আমাদের দেশে ছয়বার এসেছেন, যেমনটি আপনি বললেন, ওলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, বেশ কিছু মাদরাসাও পরিদর্শন করেছেন যেমন এর মধ্যে আমাদের জামিয়া জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়াও রয়েছে, এ বিষয়ে আমরা আপনার অনুভূতি জানতে চাইব। আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন।
এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হওয়া সত্তে¡ও এর সফরগুলো আমি খুব উপভোগ করি। আমার বাংলাদেশে আসার কথা শুনলে অনেকেই বলে তুমি বাংলাদেশে কী কর? ওখানে আছেটা কী আর কেনইবা তোমার সফর? আমি বলি আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি যেমন তোমরা ভালোবাস সুইজারল্যান্ডকে। সত্য বলছি, আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি যেমন তোমরা ভালোবাস সুইজারল্যান্ডকে। কারণ আমি বাংলাদেশে আমার আকাক্সিখত বিষয় খুঁজে পাই। এ দেশের মানুষ সাদামাটা, এদের মিল অনেক বেশি, কল্যাণকর কাজকে পছন্দ করে, যারা আল্লাহর পবিত্র ভূমি থেকে আসে তাদের ভালোবাসে, রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের উত্তরসুরীদেরকে তারা ভালোবাসে। তাদের প্রতি সুধারণা রাখে। এ দেশের মানুষÑওলামা হোক কিংবা সাধারণ মানুষ, বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থী হোক বা সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের মাঝে অন্তরের এবং চিন্তা চেতনার নৈকট্য আছে। এ জন্যেই/এক্ষেত্রেই নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আত্মাসমূহ একত্রে ছিল। (রূহের জগতে) যাদের মাঝে পরিচয় ছিল (দুনিয়াতেও) তারা কাছাকাছি এসেছে/তাদের মাঝে নৈকট্য সৃষ্টি হয়েছে। আর (রূহের জগতে) যাদের মাঝে পরিচয় ছিল না (দুনিয়াতেও) তাদের মাঝে দুরত্ব তৈরী হয়েছে/মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। আমার (মনে হয় রূহের জগতের) সেই পরিচয়ই এদের সাথে নৈকট্য এনে দিয়েছে। আমি বাংলাদেশের বহু এলাকা, নানা প্রান্ত, এদিক সেদিক অনেক ভ্রমণ করেছি। অনেক অনেক ওলামা, মাশায়েখ, সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। উম্মুল মাদারিস, আপনারা যাকে হাটহাজারি বলেন, ভ্রমন করার সৌভাগ্য হয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়েখ আহমদ শফী এর সাথে সাক্ষাৎ করার সুয়োগ হয়েছে। জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অগণিত ওলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে। এসব দেখে আজ আমি এ জামিয়ায় যা পেলাম,সত্য বলছি, এখানে কারো সাথে সৌজন্যতা রক্ষার খাতিরে বলছি না, ঐ সকল জামিয়াসহ এ জামিয়াও মাশাআল্লাহ প্রাপ্তি, কল্যাণ, উন্নতিতে একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। এখানে ইলমে দ্বীন চর্চার ব্যাপারে অদম্য স্পৃহা দেখেছি, দেখেছি জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে পর্বতসম ধৈর্য্য, আর এমন কষ্টসহিষ্ণুতা যার নমুনা কেবল কিতাবেই পাই। ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরামের ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার ঘটনাবলীর যে বিবরণ পাওয়া যায় তা চাক্ষুৃষ দেখেছি কেবল বাংলাদেশে বা ভারত উপমহাদেশে। আমি সত্য বলছি! মাশাআল্লাহ! আল্লাহর কাছে চাইব তিনি যেন আপনাদের ওপর তার এই নেয়ামত ও কল্যাণকে আরো বাড়িয়ে দেন। এটা আল্লাহ তাআলার নেয়ামত তিনি যাকে খুশি তাকেই দেন। আপনাদের চারপাশে যে সংশয় উস্কে দেবার চেষ্টা চলছে তার প্রতি ভ্রæক্ষেপ করবেন না। পানি যখন পরিষ্কার হয় হিংস্র জন্তরা তাতে মুখ দেয়ার চেষ্টা করে। পানি যখন পরিষ্কার হয় হিংস্র জন্তরা তা নোংরা করার চেষ্টা করে এবং তাতে মুখ দেয়ার চেষ্টা করে। আপনাদের পানি স্বচ্ছ পরিস্কার। যারা এটাকে ময়লা করতে চায় তাদের দিকে মনযোগ দিবেন না। আপনারা অবিচলভাবে এক্ষেত্রে মেহনত চালিয়ে যান। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনারা কল্যাণের উপর রয়েছেন। পথটা সঠিক না ভুল তা যদি জানতে চান তাহলে দেখুন কারা আপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং আপনাদের চারপাশে সংশয় সৃষ্টি করছে? যদি আপনারা দেখেন পথ পরিস্কার তাহলে এর মানে হল কোথাও সমস্যা আছে। আপনাদের হিসাব নতুন করে কষতে হবে। আর যদি দেখেন আপনার পথে কেউ বাধা তৈরী করছে তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখুন এটাই নবীদের পথ। যাজাকাল্লাহ খায়ের।