আশুরার দিনে যে কাজগুলো নিষিদ্ধ
আলোচক :::: মাওলানা তাহমীদুল মাওলা

আশুরার দিনে বর্জনীয়
এই দিনটি উম্মতে মুহাম্মদী সা. এর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের আনন্দ, বেদনা, ভালবাসা-মমতা ও মহান প্রভু আল্লাহর ইবাদতের সঙ্ েএকীভূত হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের সমাজে কুসংস্কার আশুরাকে ঘিরে রয়েছে। যা শিয়া ও নাসেবী সম্প্রদায় থেকে উদ্ভুত। ইসলামী শরীয়তে যা বিদআত, নাজায়েয বলে ঘোষণা দিয়েছে। আশুরা আসলে দেশের প্রায় এলাকায় দেখতে পাওয়া যায় যে, হযরত ইমাম হোসাইন রা. ও হযরত হাসান রা. কে উপলক্ষ করে নানা রকম অমানবিক, অযৌক্তিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। যেমন- জারিগান, পুঁথি পাঠ, হালুয়া, রুটি বিতরণ, কৃত্রিম শোকে মুহ্যমান হয়ে কালো কাপড় পরিধান, শূন্যপদে দিন কাটানো, মাথায় টুপি ব্যবহার না করে লাল কাপড় পেঁচানো, নিরামিষ আহার, হযরত ইমাম হোসাইনের মুহাব্বতে ভাড়াটিয়া লোক দ্বারা নিজ বক্ষে, পিঠে ছুরিকাঘাত করা, হায় হাসান ! হায় হোসাইন ! হায় আলী ! ইত্যাদি বলে বিলাপ করা। পরষ্পরে রক্তারক্তির মাধ্যমে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে অলীক ও বিকৃতরূপে রূপায়িত করা। কথিত ‘হাফত দানা’ পাকানো নিজের শিশু সন্তানদের না দিয়ে মৌলভী-মুন্সিদের জন্য অপেক্ষা করা ইত্যাদি সবরকমের কর্মকান্ড ইসলামে না জায়েজ।
সকল জ্ঞানীদের নিকট আমাদের জিজ্ঞাসা, সারা বছর কোন নামাজ, রোজা, ইসলামের হুকুম আহকাম পালন না করে ১০ই মুহাররম-এ ব্লেড বা ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে তাতে গ্লিসারিন মেখে হায় হাসান! হায় হোসাইন ! বলে বুকে বাপড় মারতে থাকলে কি নবী পাক ও হযরত হাসান-হোসাইনের প্রিয়ভাজন হওয়া যাবে ? জারিগান, হালুয়া-রুটি, কালো কাপড় পরিধান ও বিলাপ করলে কি শহীদানে কারবালার রুহের মাগফিরাত হবে ? বলতে হবে অবশ্যই না।
সুতরাং, আশুরার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা উপলব্ধি করে সমাজ ও পরিবারের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা, যাবতীয় কুসংস্কার মুক্ত, হক ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার জন্য আমরা সকলেই সচেষ্ট হই। অন্যায় ও অসত্যের মুকাবিলায় হক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় হুসাইনী চেতনায়, শাহাদাতের প্রেরণায় উজ্জ্বীবিত হই। তাহলেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি ও রেজামন্দি হাসিল করা সম্ভব হবে।