মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি
মোট ভিডিও: ৫০ টিবিশিষ্ট ফকিহ, গবেষক আলেম ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
পরিচিতি
মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাজ্ঞ আলেম, প্রখ্যাত ফকিহ, সুবক্তা ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি তাঁর গভীর ইলমি পাণ্ডিত্য, স্পষ্টবাদিতা, বলিষ্ঠ যৌক্তিক উপস্থাপনা এবং টিভি ও ময়দানের গবেষণাধর্মী আলোচনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এবং ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া লালখান বাজারসহ দেশের শীর্ষ মাদ্রাসাসমূহে শিক্ষকতা ও ফতোয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। সমসাময়িক ফিকহি জটিলতা নিরসন এবং কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে জাতীয় সংকট উত্তরণে তাঁর দিকনির্দেশনা সর্বমহলে প্রশংসিত।
শিক্ষাজীবন ও ইলমি সনদ
মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি কওমি মাদ্রাসা ধারার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে সর্বোচ্চ সনদ ‘দাওরায়ে হাদিস’ (মাস্টার্স সমমান) অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চতর ইসলামী আইন, ফিকহ ও ফতোয়া গবেষণা (ইফতা) কোর্স সম্পন্ন করে ‘মুফতি’ ডিগ্রি লাভ করেন। হাদিস, উসুলে ফিকহ, তাফসির ও আরবি সাহিত্যের ওপর তাঁর রয়েছে সুগভীর ব্যুৎপত্তি।
ইলমি অবদান ও শিক্ষকতা
তিনি দীর্ঘকাল ধরে দাওরায়ে হাদিসের কিতাবসমূহের পাঠদান এবং ইফতা বিভাগে তরুণ আলেমদের ফতোয়া প্রশিক্ষণে নিয়োজিত। ফিকহি মাসআলা-মাসায়েল সহজ ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে তিনি পারদর্শী। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো এবং ইসলামি সেমিনারে তিনি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ তুলে ধরেছেন।
দাওয়াতি ময়দানে নির্ভীক কণ্ঠস্বর
মাঠের ময়দানে এবং খুতবা ও ওয়ায-নসিহতে মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজির আলোচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও চিন্তাশীল:
- সুন্নাহর অনুশাসন ও আকিদার পবিত্রতা: শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারমুক্ত সহিহ ইসলামি আকিদা গঠনে তিনি আপসহীন।
- সমসাময়িক দিকনির্দেশনা ও সমাজ সংস্কার: রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে তরুণ সমাজকে চরিত্রবান ও আদর্শবান মুসলিম হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
- খতমে নবুওয়াত ও ইসলামী মূল্যবোধ: কাদিয়ানী ফিতনাসহ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসবিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ও সোচ্চার।
ত্যাগ ও আদর্শিক অবিচলতা
দ্বীন ও উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে সত্য উচ্চারণের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও দীর্ঘ কারাবরণ ভোগ করেছেন। কোনো জুলুম-নির্যাতনই তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কারামুক্তির পর তিনি পুনরায় শিক্ষা ও দাওয়াতের ময়দানে পূর্ণ শক্তিতে আত্মনিয়োগ করেন।