মুফতী আরিফ বিন হাবীব
মোট ভিডিও: ৫৩ টি
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক ও খতীব | সুমধুর তিলাওয়াতকারী ও মুফাসসিরে কুরআন
মুফতী আরিফ বিন হাবীব বাংলাদেশের সমকালীন তরুণ ইসলামিক স্কলার, সুবক্তা, লেখক, গবেষক এবং মার্জিত কণ্ঠের অধিকারী একজন প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন। পবিত্র কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহর আলোকে প্রাঞ্জল উপস্থাপনা, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে যুবসমাজকে দ্বীনের পথে আহ্বান এবং সমাজ সংস্কারমূলক গবেষণাধর্মী আলোচনার মাধ্যমে তিনি সর্বমহলে ব্যাপক পরিচিত ও প্রশংসিত।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়:
মুফতী আরিফ বিন হাবীব ১৯৮৮ সালের ১০ নভেম্বর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম মৌলভী সফিউল্লাহ হাবিব ছিলেন একজন দ্বীনদার ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিত্ব। শৈশব থেকেই দ্বীনি ও নীতিবান পারিবারিক পরিবেশে তাঁর লালন-পালন সম্পন্ন হয়।
হিফজ ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা:
১৯৯৭ সালের শুরুতে ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসায় মক্তব ও হিফজ বিভাগে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক দ্বীনি শিক্ষার সূচনা ঘটে। প্রখর মেধার অধিকারী আরিফ বিন হাবীব ১৯৯৯ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় (১০ পারা গ্রুপে) অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তৎকালীন সময়ে তিনি রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে সৌদি আরব গমনের গৌরব অর্জন করেন এবং পবিত্র কাবা শরীফের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নফল নামাজ আদায়ের বিরল সৌভাগ্য লাভ করেন।
উচ্চতর শিক্ষাজীবন ও ইফতা:
হিফজ সম্পন্ন করার পর তিনি জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়াতেই ৩ বছর প্রাথমিক কিতাব বিভাগে অধ্যয়ন করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার দক্ষিণখানের ঐতিহ্যবাহী 'মাদরাসাতুর রহমান আল-আরাবিয়া' থেকে মাদানি নেসাবে পড়াশোনা করে আরবি ভাষা ও ব্যাকরণে গভীর দক্ষতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে মিরপুর মুসলিম বাজারের জামিয়া ইমদাদিয়া দারুল উলুম থেকে ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ মেধার সাথে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল ফিল হাদিস) সমাপ্ত করেন। দাওরায়ে হাদিস সমাপনান্তে তিনি বিশিষ্ট আরবি ভাষাবিদ ও গবেষক মাওলানা শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী (রহ.)-এর তত্ত্বাবধানে 'আল-মারকাজুল ইসলামী' থেকে উচ্চতর আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং পরবর্তীতে ইসলামি আইনশাস্ত্রের সর্বোচ্চ গবেষণা ডিগ্রি (তাখাসসুস ফিল ইফতা) অর্জন করে 'মুফতী' সনদ লাভ করেন।
দাওয়াতি দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মজীবন:
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি تدريس (শিক্ষকতা), গবেষণা ও সুন্নাহ ভিত্তিক দাওয়াতি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মাহফিলে কুরআনুল কারিমের তাফসির, হাদিসের ব্যাখ্যা এবং সমকালীন নৈতিক অবক্ষয় রোধে গঠনমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করে আসছেন। তাঁর আলোচনায় অন্ধ আবেগ পরিহার করে দলিল-প্রমাণ, যুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রাধান্য থাকে।
রচনাবলি ও প্রকাশনা:
মুফতী আরিফ বিন হাবীব বেশ কয়েকটি পাঠকপ্রিয় ও গবেষণাধর্মী ইসলামিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. 'মিম্বরের আমানত' (জুমার খুতবা ও সমসাময়িক বিষয়ের প্রামাণ্য বিশ্লেষণ)
২. 'পাপ' (পাপের ভয়াবহতা ও পরিত্রাণের উপায় – দুই খণ্ডে)
৩. 'আদর্শ পরিবার' (পারিবারিক শান্তি ও ইসলামের অনুশাসন)
বিশুদ্ধ আকিদা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন এবং মুসলিম যুবসমাজকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর নিরন্তর দাওয়াতি প্রেরণা।