Today is Sunday & February 24, 2019 (GMT+06)

New Muslim interview ebook

নওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার [পর্ব-০১] :: ভারতীয় নওমুসলিমাদের ঈমান জাগানিয়া সাক্ষাৎকার -ভাগ্যবতী আমেনা (অঞ্জু দেবী)

আশ্রমে নারীর সম্ভ্র্রম এবং ইসলাম

ভাগ্যবতী আমেনা (অঞ্জু দেবী)-এর
সাক্ষাৎকার

হে আল্লাহ! তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারও প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমার প্রতি তোমার এ করুণা কম কোথায় তুমি আমার মতো এক গুনাহগারকে এই শিরকের রাজ্যে ঈমান নসীব করেছ। আমার মতো এক অপবিত্র দাসীকে সাহাবায়ে কেরামের মতো কষ্ট সহ্য করার সুযোগ করে দিয়েছো। হে আল্লাহ! তুমি তো সমস্ত কষ্টকে আমার জন্য আনন্দের উপাদান বানিয়েছো। আমি কোথায় আর ঈমান কোথায়! কিন্তু হে আল্লাহ! আমার খালা ভাববে- এর খোদা একে চায় না। কিংবা সে হয়তো ভাববে আমার খোদা কিছু করতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার খালার মাধ্যমে আমার ঘরে পৌঁছে দাও।

সিদরাতু যাতিল ফায়যাইন : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!
আমেনা : ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু :

প্রশ্ন : বোন আমেনা! এটা আল্লাহ তাআলার হেদায়েতের একটি বিস্ময়কর নিদর্শন, তিনি আপনাকে মূর্তিপূজারী পরিবারে হেদায়েতের আলো দেখিয়েছেন। আপনার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার খুব আগ্রহ ছিল। আপনাকে দেখে ও কথা বলতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ইদানিং আব্বু তাঁর আলোচনায় প্রায়ই আপনার কথা বলেন।
উত্তর : (চোখের পানি ছেড়ে) বোন সিদরাহ্! কোনো সন্দেহ নেই আমার প্রতি করুণাময় সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ অসীম। তিনি অনুগ্রহ করে আমাকে বিভিন্ন দুয়ারের পূজার অপমান থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আশ্রয় দিয়েছেন তাঁর দুয়ারে। দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমরণ ঈমানের উপর অটল রাখেন এবং আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন।

প্রশ্ন : বোন আমেনা! আব্বু আপনাকে এই মুহূর্তে এখানে বিশেষভাবে এই কারণে ডেকেছেন, আমি যেন ‘আরমুগান’-এর পক্ষ থেকে আপনার সাথে কিছু কথা বলি। ফুলাত থেকে আরমুগান নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের হয়। গত কয়েক বছর যাবত এতে নওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার ছাপা হচ্ছে। কিছুদিন হলো কেবল পুরুষ নওমুসলিমদেরই ইন্টারভিউ ছাপা হচ্ছে। আব্বু আপনাকে ডেকেছেন আমি যেন আপনার সাথে কথা বলি। সাধারণত আমার বড় বোন আসমা সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন। আমি প্রথমবারের মতো আপনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছি ।

উত্তর : হযরত আমাকেও একথা জানিয়েছেন। বলুন, আমাকে কী বলতে হবে?
প্রশ্ন : প্রথমে আপনার বংশীয় পরিচয় দিন।

উত্তর : বর্তমান পৃথিবীর সবচে’ বড় মূর্তিপূজক দেশের মূর্তিপূজারী অঞ্চল ঋষিকেশে আমার জন্ম। ঋষিকেশে চারটি বড় আশ্রম রয়েছে। এই আশ্রমগুলোর একটির প্রধান হলেন আমার পিতা। তিনি একজন বিখ্যাত মানুষ। তাঁকে ভারতবর্ষের বড় এক পন্ডিত হিসেবে গণ্য করা হয়। আমার জন্ম ১৯৮৫ সালের ২০ এপ্রিল। আমার পরিবারের লোকেরা আমার নাম রেখেছিলেন অঞ্জু দেবী। আমার দু’জন বড় ভাইবোন রয়েছে। আমার প্রাথমিক লেখাপড়া হয়েছে ঋষিকেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। স্কুলটি আমার আব্বুর ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত। হাইস্কুল পাস করার পর আমি বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট করেছি। তারপর বি এস সি করেছি। এ বছর এম এস সি পড়ছি।

প্রশ্ন : আপনার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি শোনাবেন কি?
উত্তর : বোন কী বলবো! আল্লাহ তাআলার অসীম রহমত ও করুণায় আমাকে ঢেকে নিয়েছে। আল্লাহ তাআলার মহান শক্তি ও শান প্রতিদিনই তিনি রাতের অন্ধকার থেকে দিনকে বের করে আনেন। ঠিক এভাবেই আমাকেও মূর্তিপূজার অন্ধকার থেকে ঈমানের আলোয় নিয়ে এসেছেন। একবার আমাদের আশ্রমে একটি ভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এক হিন্দু বোন তার যুবতী মেয়েকে নিয়ে আশ্রমে পূজা করতে যায়। আশ্রমের একজন সাধু তাকে কিছু দেয়ার কথা বলে ভেতরে ডেকে নেয়। তারপর তার সঙ্গীদের নিয়ে আগন্তুক মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি যখন আশ্রমে জানাজানি হয় তখন আমিও জানতে পারি। আমি আমার আব্বুকে বলি, আপনার আশ্রম এই সাধু-সন্ন্যাসীদেরসহ জ্বালিয়ে দেয়া উচিত। বরং আমাদেরসহ আপনাকেও জ্বলে মরা উচিত। কারণ, আপনি এই আশ্রমের নিয়ন্ত্রক।

মূলত এই ঘটনার পর থেকে আশ্রমের প্রতি আমার ভেতর ঘৃণা জন্ম নেয়। আমি আশ্রমে গিয়ে পূজা করাও ছেড়ে দিই। এক রাতের ঘটনা আমি ঘুমিয়ে আছি। স্বপ্নে দেখি, পূজা করতে আশ্রমে গিয়েছি। আর তখনই দু’জন সাধু আমার পেছনে লেগেছে। তারা আমাকে ধরে তাদের কক্ষে নিতে চাইছে। আমি কোনভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে পালাতে শুরু করি। তখন তারাও আমার পেছনে দৌঁড়াতে থাকে। এভাবে মাইলের পর মাইল আমি ছুটতে থাকি। দুজন সাধুর একজনের নাম মহারাজ। তার বয়স পঞ্চাশ বছর। আশ্চর্য! সেও আমার পেছনে ছুটছে। আমি ক্লান্তিতে প্রায় অবশ হয়ে পড়েছি। ছুটছি আর মনে মনে ভাবছিÑ আর বুঝি নিজেকে রক্ষা করা গেল না। এরা আমাকে নিশ্চিত ধরে ফেলবে এবং আমার সম্ভ্রম নষ্ট করে ছাড়বে। আমি যখন একথা ভাবছি ঠিক তখনই লক্ষ করলাম, ছোট্ট একটি মসজিদ। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন মাওলানা সাহেব। তাঁর মাথায় টুপি এবং চোখে চশমা। তিনি আমাকে বললেন, বেটি! এদিকে চলে এসো। মসিজদের ভেতর এসে পড়ো। আমি কোনরকমে নিজেকে বাঁচিয়ে মসজিদে ঢুকে পড়লাম। মাওলানা সাহেবও দরজা বন্ধ করে দিলেন। তিনি আমাকে সস্নেহে বললেন, বেটি! এখানে তোমার কোনো ভয় নেই। এটা তোমার ঘর, এখানে তোমার দিকে কেউ মন্দ দৃষ্টিতে তাকাতেও পারবে না।

এ পর্যন্ত এসে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমার অবস্থা তখন ভিন্ন রকম। রাত তখন তিনটা। তারপর থেকে সকাল পর্যন্ত আর ঘুমাতে পারলাম না। স্বপ্নটি আমার কাছে বাস্তব ঘটনা বলে মনে হতে লাগলো। মনে হলো বাস্তবেই আমি এমন এক অবস্থার শিকার হয়েছি। আমার অবস্থা তখন ভয়াবহ। সকাল দশটার দিকে মনে হলো, এই পন্ডিতদের হাত থেকে আমার সম্ভ্রম রক্ষা পাবার নয়। আমাকে কোনো মাওলানা খুঁজে বের করতে হবে, হয়তো বা ইসলামই আমার সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারবে। তারপর আমি নিজেকে সান্ত¡না দেয়ার চেষ্টা করলাম। এটা তো একটা স্বপ্নমাত্র। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছিলÑ ভেতর থেকে কে যেন আমাকে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিচ্ছেÑ হোক না স্বপ্ন, এটা শত সত্যের চেয়েও সত্য! আমি যখন এরকম এক দ্বন্দ্বের মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছি তখন আমার মন বললোÑ আচ্ছা, আমি আমার ফোনটা ঘুরিয়ে দেখি না। যদি কোনো মুসলমানের সাথে আমার ফোনের সংযোগ হয়ে যায়, তাহলে বুঝবো ইসলাম ধর্মেই আমার সম্ভ্রম রক্ষা পাবে। সুতরাং আমার মুসলমান হয়ে যাওয়া উচিত। আর যদি ফোনের সংযোগ কোনো হিন্দুর সাথে হয় তাহলে বুঝবো এটা নিছক একটা স্বপ্ন।
মনেমনে আমি আমার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলাম। প্রার্থনা করলাম-মালিক! তুমি আমার কাছে সব পরিষ্কার করে দাও। আমাকে এই দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ধার করো। তারপর ফোন দিলাম। রিং হলো। ওপাশ থেকে রিসিভ করা মাত্র জিজ্ঞেস করলামÑ আপনি কে বলছেন? জবাব এলো মাহমূদ বলছি। আমি বললাম, কোত্থেকে বলছেন? তিনি বললেন মোজাফ্ফরনগরের একটি গ্রাম থেকে। বললাম, আমি মুসলমান হতে চাই। তিনি বললেন, মুসলমান হতে চাও কেন? আমি বললাম, ইসলাম সত্য ধর্ম। আমার মনে হয় ইসলামের মধ্যেই আমার সম্ভ্রম রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এজন্যই আমি মুসলমান হতে চাই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন তুমি কোত্থেকে বলছো? বললাম, ঋষিকেশ থেকে বলছি। তিনি তখন বললেন মুসলমান হতে চাইলে তোমাকে ফুলাতে যেতে হবে। সেখানে আমাদের হযরত থাকেন। তাঁর নাম মাওলানা কালিম সিদ্দিকী। ফুলাত মোজাফফরনগরের একটি গ্রাম। তোমাকে আমি তাঁর ফোন নাম্বার দিব। আমি বললাম, এখনই দিয়ে দিন। বললেনÑ এখন আমার কাছে নেই, আমি খুঁজে দেখছি, তুমি এক ঘন্টা পর ফোন করো। আমি তাঁকে বললাম আচ্ছা, আমি যদি মুসলমান হই তাহলে তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে জায়গা দেবে নাÑ তখন আমি কোথায় যাবো?
তিনি বললেন আমার একজন বড় ছেলে ছিল এক্সিডেন্টে মারা গেছে, এখন আরেক ছেলে আছে। তার বয়স বর্তমানে পনের বছর। তুমি যদি মুসলমান হও তাহলে আমি তার সাথে বিয়ে দিয়ে দেব। তুমি আমার ঘরেই থাকবে। আমি বললাম এই অঙ্গীকার মনে রাখবেন তো? তিনি বললেনÑ অবশ্যই মনে থাকবে। আমি তখন চরম অস্থিরতায় কাঁপছি। এক ঘন্টা অপেক্ষা করা আমার জন্য খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। পঞ্চাশ মিনিট পার হতেই আমি ফোন করে বসি। কিন্তু তখনও তিনি মাওলানা সাহেবের ফোন নম্বর যোগাড় করতে পারেননি। তারপর এক ঘন্টা আধা ঘন্টা পরপর ফোন করতে থাকি এবং ক্ষমা চেয়ে বলি, আমি আপনাকে পেরেশান করছি। কিন্তু কী করবো, ইসলাম ছাড়া আমি থাকতে পারছি না।
তিনি আমাকে বললেন তোমাকে আর ফোন করতে হবে না। সকালে আমিই তোমাকে ফোন করবো। রাতটা খুব কষ্টে পার হলো। সকাল ন’টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকলাম। তারপর নিজেই ফোন করলাম। তিনি বললেন এখনও ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে পারিনি। বাডুলিতে একজন লোক পাঠিয়েছি। সে ফোন নম্বর নিয়ে এলে আমিই তোমাকে ফোন দিব। সাড়ে এগারটায় তাঁর ফোন পেলাম। আমি ফোন নম্বরটি পেয়েই মাওলানা সাহেবকে ফোন করলাম ফোন বাজতেই মাওলানা সাহেব রিসিভ করলেন এবং বললেন আসসালামু আলাইকুম! আমি বললাম জী, সালাম! আপনি কি মাওলানা কালিম সিদ্দিকী বলছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, কালিম বলছি। বললাম আমিমুসলমান হতে চাই। তিনি বললেন, তুমি কোত্থেকে বলছো? আমি বললাম ঋষিকেশ থেকে। তিনি বললেন এখানে তুমি কিভাবে আসবে? বললাম আমি একাই চলে আসতে পারবো। মাওলানা সাহেব বললেনÑ তুমি ফোনেই কালেমা পড়ে নাও, তিনি এও জানালেন ফোনেও মুসলমান হওয়া যায়। আর যাবে না কেন সেই সৃষ্টিকর্তা যিনি তোমার অন্তরের কথাও জানেন। তাঁকে হাজির-নাজির মনে করে কালেমা পড়ে নাও আর শপথ করো, আমি মুসলমান হয়ে কুরআন শরীফ এবং আল্লাহ তা’আলার সত্য নবীর বর্ণিত পথে জীবন-যাপন করবো। আমি বললাম তাহলে আমাকে কালেমা পড়িয়ে দিন। মাওলানা সাহেব আমাকে কালেমা পড়িয়ে দিলেন এবং বললেন সঙ্গে হিন্দীতে এর অর্থটাও বলো। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই আমার ফোনটা কেটে গেল। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি দ্রুত দোকানে গেলাম এবং ফোনে টাকা ভরলাম। কিন্তু তারপর আর ফোনে মাওলানা সাহেবকে পাচ্ছি না। আমার তখন কী যে অস্থিরতা! পারলে নিজেই নিজেকে অভিশাপে জ্বালিয়ে ফেলি।
আমি নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলতে থাকিÑ অঞ্জু! তোমার মনে নিশ্চয়ই কোনো খুঁত ছিল, এ জন্যই তোমার ঈমান অপূর্ণ রয়ে গেল। আমি আমার পালনকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে লাগলাম, ডাকতে লাগলামÑ হে সত্য মালিক! তুমি আমার সামনে ঈমানের প্রদীপ জ্বালিয়েছো, আমি তো অপবিত্র, ঈমানের উপযুক্ত নই। কিন্তু তুমি তো দাতা! যাকে খুশি তাকে ভিক্ষা দিতে পারো, তুমি আমাকে ঈমান ভিক্ষা দাও। তৃতীয় দিন আমি কেঁদে কেঁদে আমার মালিকের কাছে প্রার্থনা করলাম। তারপর ফোন করতেই মাওলানা সাহেবকে পেয়ে গেলাম। তাঁকে পেয়ে যারপরনাই খুশি হলাম এবং বললাম, মাওলানা সাহেব! আত্মার অপবিত্রতার কারণে আমার ঈমান অপূর্ণ রয়ে গিয়েছিল।
মোবাইলে পয়সা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর আমি অবিরাম চেষ্টা করতে থাকি কিন্তু আপনাকে কোনভাবেই পাচ্ছিলাম না। মাওলানা সাহেব অত্যন্ত দরদের সাথে আমাকে বললেন বেটি! তোমার ঈমান পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। আমিই তোমাকে ফোন করবো ভাবছিলাম, কিন্তু তখন একটি জরুরী প্রোগ্রামে যাচ্ছিলাম। আমার এক সফরসঙ্গী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন। যে কারণে ফোন করতে পারিনি। তারপর ব্যস্ততা এতই বেশি ছিল যে, ফোন মাঝে-মাঝে নামে মাত্র খুলেছি। আমি বললামÑ এবার আপনি আমাকে পুনরায় কালেমা পড়িয়ে দিন।
আমার ফোন আবার কেটে গেল। আমার অবস্থা তখন ভয়াবহ। দম বন্ধ হবার উপক্রম। আমি মালিকের কাছে প্রার্থনা করতে লাগলামÑ মালিক! আজও কি আমার ঈমান অপূর্ণ থেকে যাবে? ঠিক এমন সময় মাওলানা সাহেবের ‘ফোন এলো’। আনন্দিত হয়ে ফোন রিসিভ করলাম। মাওলানা সাহেব বললেন আমিই তোমার ফোন কেটে দিয়েছি। যদি আবার পয়সা শেষ হয়ে যাবার কারণে তোমার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর তিনি বললেন কালেমা পড়! আমি কালেমা পড়লাম। হিন্দীতে অঙ্গীকার করলাম। তিনি আমাকে কুফর, শিরকসহ সব ধরনের পাপ থেকে তওবা করালেন। আল্লাহ ও তার নবীর আনুগত্যের উপর শপথ করালেন। তারপর মাওলানা সাহেব প্রশ্ন করলেন আমার ফোন নম্বর তোমাকে কে দিল? বললামÑ মোজাফফর নগরের মাহমূদ সাহেব। তিনি বললেন এখন তুমি কী করবে? বললাম আমি সবকিছু আগেই ভেবে রেখেছি। মাহমূদ সাহেব কথা দিয়েছেন, তিনি আমার দেখাশোনার দায়িত্ব নেবেন। মাওলানা সাহেব আমাকে অনেক দুআ দিলেন আর বললেন যে কোনো সমস্যায় প্রয়োজনে আমাকে ফোন দিতে পারো।

প্রশ্ন: তারপর আপনি কী করলেন?
উত্তর : মাহমূদ সাহেবকে (যিনি এখন আমার শ্বশুর আব্বা) ফোন দিলাম। বললাম, আমি মুসলমান হয়ে গেছি। তিনি বললেন কিভাবে? বললামÑ হযরত ফোনেই আমাকে কালেমা পড়িয়ে দিয়েছেন আর বলেছেন ফোনে আর সাক্ষাতে কালেমা পড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমি আব্বুকে বললামÑ এখন তো আমি ঋষিকেশে থাকতে পারবো না, আব্বাজি বললেন বেটি! তুমি আমাদের দেখনি আর আমরা তোমাকে দেখিনি। কী তোমার পরিচয়? তোমার বাবা কী করেন? বললাম আমার পিতা ঋষিকেশের একটি বড় আশ্রমের পন্ডিত, আমি এখন এমএসসি পড়ছি। আব্বু বললেন বেটি! তুমি অত্যন্ত বড় ঘরের মেয়ে। আমি গরীব মানুষ। আমি বললামআপনার ঘরে এসে আমি মজদুরি করে খাব। তিনি বললেন আমার ছেলের বয়স পনের। সে এখনও কাজ-কাম কিছু করে না। বললাম তাকে আমিই লালন-পালন করবো। তিনি বললেন তুমি কি গোশত খাও? বললাম গোশতের প্রতি আমার এক ধরনের ভয় আছে। তবে খুব তাড়াতাড়িই খেতে শুরু করবো। তিনি বললেন আমার একটি মোরগের দোকান আছে। তাছাড়া আমি একজন কসাই মানুষ। আমার প্রতিদিনকার আয় একশ’ রুপি। তুমি আমাদের সাথে কীভাবে থাকবে? বললাম আমিও কসাই হয়ে যাবো। তিনি বললেনÑ দেখ বেটি! তুমি অত্যন্ত উঁচু বংশের মেয়ে। তাছাড়া অল্প দিনের জন্য তো নয়, সারা জীবনের ব্যাপার। তুমি আমাদের সাথে থাকতে পারবে না। আমি বললামÑ দেখুন! ইসলামে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা কাবাঘর ভাঙ্গার সমান অপরাধ। তিনি বললেন আমি হযরতের সাথে পরামর্শ করে তোমাকে জানাচ্ছি।

প্রশ্ন: তারপর কী হলো?
উত্তর : আব্বু মাওলানা সাহেবকে ফোন করলেন। বললেনÑ আপনার সাথে সাক্ষাত করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। মাওলানা সাহেব জানালেনÑ আমার অবিরাম সফর চলছে। অন্তত দুই সপ্তাহ পর ফুলাত আসবো। আব্বু বললেনÑ আপনি যখন মুম্বাই থাকবেন তখন আমি আপনার সাথে দেখা করবো। হযরত তখন বললেনÑ আপনার গ্রামের কাছেই কান্ধালার পাশে রাধোরা গ্রামে আমার প্রোগ্রাম আছে। আপনি সেখানেই চলে আসুন, দেখা হবে। আব্বু সেখানে গেলেন এবং পুরো কাহিনী শোনালেন। মাওলানা সাহেব তখন আব্বুকে বললেনÑ আপনি একজন ভাগ্যবান মানুষ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েটিকে নিয়ে আসুন। যদি এর জন্যে পুরো পরিবারকে জীবন দিতে হয় তবুও এমন একটা ঈমানদার মেয়ের ঈমানের হেফাযত করা উচিত। আর এ-ও বলে দিলেন এর নাম রাখবেন আমেনা। সঙ্গে বিয়ে-শাদীসংক্রান্ত কাগজপত্রের জন্যে কয়েকজন উকিলের ঠিকানা দিয়ে দিলেন। এদিকে মূর্তিপূজারী পরিবেশে অবস্থান করাও আমার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে একেকটি মাস মনে হচ্ছিল। নিজেকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।
দুদিন পর ঠিকানা জোগাড় করে আমি নিজেই আব্বুর ঘরে পৌঁছে যাই। সেখানে দু’দিন থাকি। তারপর তিনি আমাকে নিয়ে মিরাঠ যান। পথে হযরতের সাথে সাক্ষাতের প্রোগ্রাম হয়। আমার ভাগ্য খুবই ভালো ছিল। হযরত তখন ফুলাতেই ছিলেন। বোন সিদ্রাহ! আমি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারবো না তাঁকে দেখার পর আমার অনুভূতি কী হয়েছিল। আমি শিশুর মতো তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম; স্বপ্নে আমাকে যিনি মসজিদে আশ্রয় দিয়েছিলেন, ইনি সেই মাওলানা। সেই চশমা, সেই টুপি! আমি তখন বারবার বলতে থাকিÑ আপনিই তো সেই! আপনিই তো ছিলেন! আসলে তখন আমি এতোটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম যে, ভুলেই গিয়েছিলাম একজন অপরিচিত পুরুষের সাথে আমি আমার যৌবন বয়সে কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছিল, আমি একটি ছোট্ট শিশু, আমি আমার মায়ের সাথে কথা বলছি। সেখান থেকে আব্বুর সাথে মিরাঠ গেলাম।
আমার ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত কাগজপত্র সম্পন্ন করলাম। এক মাসের ভেতর নামায শিখে নিলাম। প্রতিদিন ফাযায়েলে আমাল পড়তাম। পরিবারের সকলেই আমাকে খুবই ভালোবাসেন। গ্রামের মেয়েরা আমাকে বরাবর সঙ্গ দেয়। আব্বুর এক নিকটাত্মীয়, কোনো এক বিষয়ে আব্বুর সাথে তার বিরোধ ছিল। আমার বিষয়টি সে জানতে পারে। তারপর থানায় গিয়ে আব্বুর বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করে যে, এই লোক ঋষিকেশ থেকে একটি হিন্দু মেয়ে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। থানা ঋষিকেশের সাথে যোগাযোগ করে। তারপর ঋষিকেশ থেকে পুলিশ এসে স্থানীয় পুলিশ সঙ্গে করে তারা আমাকে ও আব্বুকে তাদের গাড়িতে তুলে নেয়। জিপের পেছনে আমি ও আব্বু বসে আছি। গাড়ি যখন চলছে তখন আমি আব্বুকে বললামÑ আমি ড্রাইভারকে বলছি। ড্রাইভার গাড়ি স্লো করার সাথে-সাথে আপনি লাফিয়ে নেমে পড়বেন এবং পালিয়ে যাবেন। আব্বু বললেনÑ তখন তোমার কী হবে? আমি বললামÑ আল্লাহর উপর আস্থা রাখুন। আমার আল্লাহ আমাকে স্বীয় ঠিকানায় পৌঁছিয়ে দেবেন। আমি ড্রাইভারকে ডাকলাম। ড্রাইভার সাহেব একটু থামুন, একটু থামুন! ড্রাইভার সাহেব গাড়ি খানিকটা স্লো করলেন। গাড়ি যখন ষাট কিলোমিটারে নেমে এলো তখন আব্বু গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়লেন। তিনি কিছুটা ব্যাথাও পেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ গাড়ি থামায়নি। কারণ, গ্রামের লোকেরা পাথর হাতে পেছন থেকে পুলিশকে ধাওয়া করছিল।

প্রশ্ন: তারপর কী হলো?
উত্তর : তারপর আল্লাহ আমার ঈমান নির্মাণ করলেনÑ ফাযায়েলে আমালে লেখা সাহাবায়ে কেরামের ঘটনাগুলো আমি পূর্বেই পড়েছিলাম। এই গল্পগুলোর স্বাদ নেয়ার সুযোগ হলো। পরিবারের লোকেরা আমাকে প্রচুর শাস্তি দিয়েছে। মহিলা পুলিশ দিয়ে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। মার-পিট করেেেরছে। মার-পিট করেছে। কিন্তু আমি তাদের বারবার এ কথাই বলেছি, আমার শারীরকে কেটে টুকরোটুকরো করে ফেল, কিন্তু আমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রক্তের বিন্দুতে বিন্দুতে যে ঈমান প্রবেশ করেছে তা বের করতে পারবে না। আমার শরীর রক্তাক্ত দেখে যে কেউ কেঁদে ফেলতো। আমাকে যারা মারতো তাদের চোখেও আমি অশ্রু দেখেছি। কিন্তু আমার কান্না পেত না। আমি বরং এক ধরনের স্বাদ আস্বাদন করতাম। আমার কাছে মনে হতো যে, আল্লাহর ভালোবাসায় আজ আমি নির্যাতিতা হচ্ছি, তিনি আমাকে দেখছেন।
আমার প্রতি কত যে খুশি হচ্ছেন! আমার মা দুইবার আমার গলা টিপে ধরেছেন। আমার বড় ভাই বারবার আমার দিকে তেড়ে আসতেন। কেবল আমার দূর সম্পর্কের এক খালা- তার মনটাই আল্লাহ তাআলা কিছুটা নরম করে দিয়েছিলেন। তিনি বারবার আমাকে তাদের হাত থেকে ছাড়াতেন। তারা আমার বিয়ে শাদীর ব্যাপারেও চিন্তা করতে লাগলো। আমি তাদের স্পষ্ট করে বলে দিলাম আমার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আমি যার, একমাত্র সে ছাড়া আর কেউ আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। মনে রেখ, এটা মুসলমানের জীবন। তোমাদের আশ্রমে লালিত বিলাসীদের জীবন নয়। আমি তোমাদের এই মুশরিক পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারবো না, হয়তো আমাকে মেরে ফেল নয়তো এখান থেকে যেতে দাও। আমাকে যদি এখানে রাখতে চাও তাহলে একটাই পথ তোমরা সকলে মুসলমান হয়ে যাও। আমাকে মেরেমেরে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বরং তারা হেরে গিয়েছিল। আমাকে কয়েকবার বিষপান করানোর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়।
কয়েকবার আমার আব্বুর কাছে ফোনও করা হয় যে, এই মেয়েকে এসে নিয়ে যাও। যখন তিনি আসার জন্য প্রস্তুত হন তখন আবার ফোনে নিষেধ করে দেয়া হয়। একদিন আমার পিতা আমার আব্বুকে ফোন করে জানালেনÑ আমরা এই মেয়েকে বিদায় করে দিচ্ছি কিন্তু সেটা কিভাবে করবো? আপনি মুসলমান আর আমরা হিন্দু। আব্বু বললেন এর সুরাহা তো খুব সহজ, আপনারাও মুসলমান হয়ে যান। মুসলমান হয়ে যদি মেয়েকে এখানে না দিতে চান তাহলে আমি আমার কলিজার টুকরা ছেলেকেই আপনার ওখানে পাঠিয়ে দেব।
একদিন আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে খুব মারধর করছিল। আমার সেই খালা খুব কষ্টে আমাকে ছাড়িয়ে নিলেন। ঘরের লোকজন চলে যাবার পর খালা আমাকে বললেনÑ অঞ্জু! তুই যে মালিকের প্রতি ঈমান এনেছিস তিনি যদি সত্যিই তোকে ভালোবাসেন, তাহলে তুই তাঁকে একথা কেন বলিস নাÑ হে মালিক! তুমি আমাকে এখান থেকে বের করে নাও। খালা এ কথা বলে চলে গেলেন। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে ওযু করলাম। তারপর দুই রাকাত সালাতুল হাজত নামায পড়লাম, অতঃপর প্রাণখুলে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করলাম, হে আল্লাহ! তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারও প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমার প্রতি তোমার এ করুণা কম কোথায়Ñ তুমি আমার মতো এক গুনাহগারকে এই শিরকের রাজ্যে ঈমান নসীব করেছ। আমার মতো এক অপবিত্র দাসীকে সাহাবায়ে কেরামের মতো কষ্ট সহ্য করার সুযোগ করে দিয়েছো। হে আল্লাহ! তুমি তো সমস্ত কষ্টকে আমার জন্য আনন্দের উপাদান বানিয়েছো। আমি কোথায় আর ঈমান কোথায়! কিন্তু হে আল্লাহ! আমার খালা ভাববে- এর খোদা একে চায় না। কিংবা সে হয়তো ভাববে আমার খোদা কিছু করতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার খালার মাধ্যমে আমার ঘরে পৌঁছে দাও।
আমার আব্বু কোনো কুলকিনারা না পেয়ে আশ্রমের লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা পরামর্শ দিল এই মেয়ে অধর্ম হয়ে গেছে। এখন তাকে যতই মারধর করা হবে ততই পুরো ঋষিকেশে এটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলবে। সবচে’ ভালো হয় একে এর স্বামীর ঘরে নীরবে পাঠিয়ে দেয়া হোক। তারপর আমার পিতা আব্বুকে ফোন করলেন। বললেন আপনারা আমাদেরকে ভয় করছেন আমরাও আপনাদেরকে ভয় করছি। ভালো হয় মাঝামাঝি কোনো একটা জায়গা ঠিক করেন। যেখানে আমরা অঞ্জুকে নিয়ে আসবো। আপনারা সেখানে থাকবেন। পরস্পর কথা বলে ঠিক করলেন সাহারানপুর। আব্বু তার এক পরিচিত জনের ঠিকানা দিলেন। পরের দিন সকালে আমার পিতা এবং খালা আমাকে নিয়ে সাহারানপুর চলে এলেন। তারপর খুশি মনে আমি আমার স্বামীর বাড়ীতে চলে এলাম। আমি খালাকে বললামখালা দেখলেন! আমি এদিকে আল্লাহকে বললাম আর সাথেসাথে তিনি ওদিকে আমার মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। আমার পিতাজীকে বাধ্য করলেনÑ আমাকে এখানে পৌঁছে দিতে। খালা বলুন, এমন আল্লাহর প্রতি ঈমান না এনে বেঁচে থাকা যায়! আমার কথায় খালা খুবই আশ্চর্য হলেন। সাহারানপুর থাকতেই আমি আমার খালাকে ঈমানের দাওয়াত দিলাম। তিনি সঙ্গেসঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। আমি চলতি পথেই তাঁকে কালেমা পড়ালাম।

প্রশ্ন: গ্রামে পৌঁছার পর কী হলো?
উত্তর : গ্রামের লোকেরা আগেই জেনেছিল। পুরো গ্রামের মানুষ পথে নেমে এসেছিল। মনে হচ্ছিল গ্রামে যেন ঈদ শুরু হয়েছে। আমার সেই খুশি এবং আনন্দ এখনও মিলিয়ে যায়নি। একবার এক অনুষ্ঠানে আমি মাওলানা সাহেবের সাথে দেখা করতে গেলাম। তিনি তখন আমাকে বললেনÑ পুরো গ্রামের মেয়েদের মধ্যে কাজ করতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ! গ্রামের অনেক মেয়েই আগে নামায পড়তো না, রোযা রাখতো না। দীন থেকে তারা অনেক দূরে ছিল। এখন তারা নিয়মিত নামায-কুরআন পড়ছে। নফল নামায, নফল রোযাও রাখতে চেষ্টা করছে। তাছাড়া আমিও এখানে প্রাণখুলে ইবাদত-বন্দেগীর সুযোগ পাচ্ছি। কুরআন শরীফ পড়ছি। পরিবারের লোকেরা আমাকে খুবই ভালোবাসে।

প্রশ্ন: আপনি কি গোশত খেতে শুরু করেছেন?
উত্তর : আল্লাহ তাআলা গোশতকে হালাল করেছেন। গোশতকে খাদ্যের রাজা বানিয়েছেন। এখন গোশত আমার একটি প্রিয় খাদ্য। তাছাড়া ইসলামের কথাই হলোÑ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা পছন্দ করেন তাই আমার পছন্দ হতে হবে। আমার প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ, এখন যে বিষয়েই আমি জানতে পারি, এটা আল্লাহ কিংবা রাসূলের প্রিয়, তখনই সেটা আমারও প্রিয় হয়ে যায়। একসময় আমি মিষ্টি পছন্দ করতাম না। আসলে আমার রুচি বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো। ফলে আমি কখনও মিষ্টি খেতাম না। পরে জানতে পারি এটা আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব পছন্দ করতেন। এখন এটা আমার প্রিয় খাবার। মনে হয় যেন মিষ্টি আমার সেই কতদিন থেকে প্রিয় খাবার!

প্রশ্ন: আপনার পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ আছে কি?
উত্তর : আব্বু এবং আমার বোন মাঝেমাঝে ফোন করেন। তারা কথা দিয়েছেন, একবার এখানে আসবেন।

প্রশ্ন: আপনি তাদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন?
উত্তর : আমি তাদের জন্য দুআ করছি। ঠিক দুআও নয়, বরং ইচ্ছা করেছি তাদের জন্য দুআ করবো। এমনভাবে দুআ করবো যেটাকে দুআ বলা হয়। তারপর অবশ্যই তারা মুসলমান হয়ে যাবেন। আসলে দুআও তো আল্লাহ তাআলাই করান। আমি আশায় আছি এমন একটা দুআ আল্লাহ তাআলা আমাকে দিয়ে করাবেন।

প্রশ্ন: বোন আমেনা! আরমুগানের পাঠক-পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
উত্তর : আমি আমার হযরতের আলোচনায় একথা বারবার শুনেছি। আল্লাহ তাআলা হেদায়েতের আলো পাঠিয়ে দিয়েছেন। কাঁচা-পাকা প্রতিটি ঘরে ইসলাম পৌঁছাবার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। মুসলমানগণ যদি এখন তাদের দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের হেদায়েতের জন্য মুসলমানদের মুহতাজ নন। আমার হযরত বলেছেন, ঋষিকেশের ঘরে বসে আমার মুসলমান হয়ে যাওয়াটা মুসলমানদের জন্য একটি সংকেত। সুতরাং অন্যদের মাধ্যমে হেদায়েতের কাজ আঞ্জাম পাওয়ার আগেই মুসলমানদের উচিত, এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়া।

প্রশ্ন: আপনাকে অনেক শুকরিয়া। আপনার জীবনকাহিনী শুনে আমাদের ঈমানও তাজা হয়ে উঠেছে।
উত্তর : আপনাকেও অনেক শুকরিয়া। দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা যেন মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে
সিদরাতু যাতুল ফায়যাইন
মাসিক আরমুগান, জুন ২০০৮
Series Navigationনওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার [পর্ব-০২] :: বোন আয়েশার (বেলোন্দ্র কোর) >>

One thought on “নওমুসলিমদের সাক্ষাৎকার [পর্ব-০১] :: ভারতীয় নওমুসলিমাদের ঈমান জাগানিয়া সাক্ষাৎকার -ভাগ্যবতী আমেনা (অঞ্জু দেবী)”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *